আজ কি ছন্দে ফিরবেন তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ১১ জুন, ২০১৯ at ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
26

বাংলাদেশ দলের প্রধান অস্ত্র তিনি। দলের নির্ভরতার প্রতীক তিনি। তার ব্যাটে দারুণ একটা শুরু প্রত্যাশা করে দল সব সময়। দেশের হয়ে সবচাইতে বেশি রান, বেশি সেঞ্চুরি সবকিছু তারই দখলে। তিনি তামিম ইকবাল। অথচ বিশ্বকাপ এলে কেমন যেন পথ হারিয়ে ফেলেন তামিম ইকবাল। অথচ বিশ্বকাপে তার উপর ভরসাটা বেশি থাকে বাংলাদেশের। আর এবারের বিশ্বকাপে নিজেকে ফিট রাখতে ঢাকা লিগেও খেলেননি তামিম। কিন্তু তার পরও বিশ্বকাপে কেমন যেন নিজেকে খুঁজে ফিরছেন তামিম ইকবাল। আগের তিন ম্যাচে মোটেও হাসেনি তার ব্যাট। যে প্রত্যাশা ছিল তার উপর সেটা তিনি পূরণ করতে পারেনি মোটেও। অথচ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবার আগে পূর্ণ করেছেন তামিম ৬ হাজার রান। তিন ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মিলিয়ে ১২ হাজার রানেও প্রথম বাংলাদেশী তামিম ইকবাল। শুধু তাই নয় ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বাধিক ১১টি সেঞ্চুরি রয়েছে তার। তিন ফরমেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২১টি সেঞ্চুরির মালিক তামিম ইকবাল। আর সংগত কারণেই বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ইনিংসটা তাকে ঘিরেই হয় আবর্তিত।
কিন্তু বরাবরের মত বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরতে পারছেননা তামিম মোটেও। অথচ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিটা এসেছিল তামিমের বিশ্বকাপেই। তারপরও কেমন যেন বিশ্বকাপ এলেই বিবর্ণ হয়ে পড়েন এই বাঁ হাতি ওপেনার। বিশ্বকাপে বন্ধু সাকিব, মুশফিকের সঙ্গে হয়েছে তার অভিষেক। তিন সতীর্থই এক সঙ্গে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেকে উদযাপন করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। সময় গড়ানোর সাথে সাথে সতীর্থ অন্য দুই জনের চাইতে অনেক পেছনে পড়ে গেছেন তামিম। বিশ্বকাপে ২৪ ইনিংসে সাকিবের রান যেখানে ৮০০ আর মুশফিকুরের রান ৬৫১। সেখানে সম সংখ্যক ম্যাচে তামিমের রান ৫৪২। ওয়ানডে ক্যারিয়ার গড় যেখানে তার ৩৫.৯৯, সেখানে বিশ্বকাপে গড় মাত্র ২২.৫৮ । ২০১৫ বিশ্বকাপে নেলসনে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ উইনিং ৯৫ রানের ইনিংসের পর টানা ৬ ইনিংসে নেই কোন হাফ সেঞ্চুরি। পরের ইনিংসগুলো যথাক্রমে ২, ১৩, ২৫, ১৬, ২৪ এবং ১৯। চলমান বিশ্বকাপে তিনটি ইনিংসই থেমেছে তার উইকেটে সেট হয়ে ।
যদিও এই বছরটা শুরু হয়েছিল তামিমের হতাশা দিয়ে। নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়ানডে সিরিজে ইনিংস তিনটি ছিল যথাক্রমে ৫, ৫ এবং ০ । অর্থাৎ তিন ম্যাচের সিরিজে ১০ রান। সেই যে হতাশা দিয়ে শুরু হলো বছরটা এরপর মোটেও ভাল যাচ্ছে না । ১০ ইনিংসে রান করেছেন মাত্র ২৪৫ । যেখানে গড় ২৪.৫০। আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় টূর্নামেন্টের ফাইনালে ছন্দপতনের শুরু তামমিের। সেই ফাইনাল থেকে ৪টি ইনিংস তার জন্য বড়ই হতাশার। ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল এবং বিশ্বকাপের তিন ম্যাচ সহ মোট চার ম্যাচে তামিমের ইনিংস সমূহ যথাক্রমে ১৮, ১৬, ২৪ এবং ১৯। তবে হাল ছেড়ে দিতে নারাজ তামিম। কার্ডিফ থেকে বাংলাদেশ যখন ব্রিস্টলে পৌঁছে তখন সেখানে তুমুল বৃষ্টি। কিন্তু ব্রিস্টলে নেমেই তামিম চলে যান ইনডোরে। নিজেকে ফিট করার চেষ্টায় নেমে পড়েন একা একা। লক্ষ্য একটাই । আর তা হলো শ্রীলংকার বিপক্ষে নিজেকে ফিরে পাওয়া। তাই বলা যায় আজই চেনা রূপে ফিরতে পারেন তামিম। তার অবশ্য একটি কারণও রয়েছে। তা হলো এই শ্রীলংকার বিপক্ষে তামিমের রেকর্ডটা বেশ ভাল। লংকানদের বিপক্ষে ২ সেঞ্চুরি আর ৪ টি হাফ সেঞ্চুরি সহ তামিম করেছেন ৬৪৫ রান। যেখানে তার গড় ৩৩.৯৪। তবে ২০১৩ সালে হাম্বানটোটায় ১১২ এবং পরবর্তীতে ২০১৭ সালে ডাম্বুলায় ১২৭ রানের ইনিংসে নিজের সামর্থ্যের জানান দেয়া তামিম এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বশেষ ৪টি ইনিংস মোটেও ভাল করতে পারেনি। শেষ চার ইনিংসের আকেটিতেও দুই অংকের ঘরে যেতে পারেনি। তবে লংকানদের বিপক্ষে শেষ ইনিংসটি খেলেছিলেন তামিম এশিয়া কাপে। দুবাইয়ে সর্বশেষ ২ রানের ইনিংসটি কিন্তু বীরত্বের। আঙুলে মারাত্মক আঘাত পেয়ে মাঠ থেকে চলে যেতে হয় হাসপাতালে। সেখানে হাতে ব্যান্ডেজ নিয়ে দলের প্রয়োজনে করেছেন ব্যাটিং । তাও আবার গ্লাভস কেটে । দেশপ্রেমের বিরল দৃষ্টান্ত রেখে তামিম জয় করে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়। এমনিতেই তামিমের জায়গাটা টাইগার ভক্তদের হৃদয়ে। আর সে কারণেই কিনা তামিমের ফর্মে ফেরাটা খুব জরুরি। সেই তাগিদটা অনুভব করছেন তামিম নিজেও। কার্ডিফ থেকে রবিবার দুপুরে ব্রিস্টলে গিয়ে টিম হোটেলে নেননি তামিম ব্রিশাম। অপারেশন্স ম্যানেজার সাব্বির খানকে সঙ্গে নিয়ে একাই ছুটে গেছেন ব্রিস্টল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। করেছেন লম্বা সময় ব্যাটিং। আর সেখানেই তিনি বলেছেন নিজের কাজটা করতে মুখিয়ে আছেন তিনি। তবে হয়তো সব সময় যো চাওয়া হয় সেটা হয়না। তবে তামিম আশা করছেন তিনি রানে ফিরবেন। আর সেটা কি তাহলে আজকের ম্যাচেই ? তামিম কোন জবাব না দিলেও রানের জন্য তিনি যে ক্ষুধার্ত হয়ে আছেন সেটা জানাতে ভুল করলেননা। তাইতো আজই প্রিয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রানের ফিরতে চান তামিম। সে সাথে বাংলাদেশ শিবিরও। কারণ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে হলে আজকের ম্যাচটি যে খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশের জন্য। আর সে ম্যাচেই জয়ের নায়ক হতে চান তামিম।

x