আজ-কালের মধ্যেই নির্বাচনকালীন সরকার

আজাদী ডেস্ক

শুক্রবার , ৯ নভেম্বর, ২০১৮ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
356

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে গতকাল। সে হিসেবে এখন সবার দৃষ্টি নির্বাচনকালীন সরকারের দিকে। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিসহ অন্যান্য দলগুলো তফসিল ঘোষণার পর বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে নির্বাচনকালীন নতুন সরকার গঠনের দাবি দিলেও তা নাকচ করে দেয় আওয়ামী লীগ। তারা বলছে, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী সভার টেকনোক্র্যাট সদস্যরা পদত্যাগ করবেন এবং বাকী সদস্যদের দিয়েই নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। নির্বাচন পর্যন্ত এ সরকার রুটিন মাফিক কাজ করলেও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে ইসির নির্দেশনা মেনে চলবে। তারপরেও সেই নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে এবং কী রকম হবে- তা নিয়ে এখন আলোচনা সর্বমহলে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তারা আজ-কালের মধ্যেই নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখন সংবিধানে নেই। বর্তমান ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন হওয়ার কথা। ভোটের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না, তবে তিনমাসের ক্ষণ গণনা শুরু হলে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার অধীনে অপেক্ষাকৃত ছোট একটি মন্ত্রিসভা গঠন করেন; যার নাম দেওয়া হয় ‘সর্বদলীয় সরকার’। ওই মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর নেতাদের নেওয়া হয়। স্বল্প পরিসরের ওই মন্ত্রিসভা সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে।
গত ২২ অক্টোবর গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমান মন্ত্রিসভায় ‘সব দলের’ প্রতিনিধিই আছেন। আর নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট করা হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ফলে এবার নির্বাচন সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করছেন না।
একই কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও। তিনি জানান, ‘এবার নির্বাচনকালীন সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন কোনো মুখ নাও আসতে পারে।’ গতকাল সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘কালকে বা কালকের পরে নির্বাচনকালীন সরকার হবে।’ তার উত্তর শোনে সাংবাদিকরা জানতে চান, শুক্রবারই মন্ত্রিসভার পুনর্গঠন হচ্ছে কি না। জবাবে মুহিত বলেন, ‘মনে হয় হচ্ছে।’ মন্ত্রিসভায় নতুন করে কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না- এ প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বোধ হয় হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘মোটামুটি নিশ্চিত। কারণ সরকারটা তো কোয়ালিশন সরকার। এমন কোনো সদস্য নেই যাকে দেওয়ার দরকার আছে। সুতরাং আমার মনে হয় না কোনো রকম অ্যাডিশন হতেই হবে।’
চারজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের মন্ত্রিত্ব থাকবে বলেও জানান মুহিত। তিনি বলেন, ‘তারা (পদত্যাগপত্র দেওয়া চার মন্ত্রী) এখনও আছেন, একসেপ্ট করতে হবে তো। একসেপ্ট সম্ভবত কালকে হবে। আজকে রাতেও হতে পারে।’ ওই চার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কে আসছেন জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আছেন তারাই কেউ চার্জে থাকবেন। যার মিনিস্ট্রে একটা আছে তার মিনিস্ট্রি দুইটা হয়ে যাবে।’ আসন্ন নির্বাচনে আবার প্রার্থী হবেন কি-না সেই প্রশ্নে মুহিত বলেন, ‘না না, আমি তো দাঁড়াব না, দ্যাটস মাই ডিসিশন। আমি নমিনেশন পেপার সাবমিট করব। ডামি কিছু সাবমিট করতে হয়। যদি আমার ক্যান্ডিডেট যে হবে সে মিস করে যায় তাহলে আমাকে দাঁড়াতে হবে এ রকম ধরনের। ইট ইজ এ রুটিন ব্যাপার।’
কেন নির্বাচনে দাঁড়াবেন না- সেই প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি অবসর নিতে চাই, আমার মনে হয় আমার অবসর নেওয়া উচিত।’
এদিকে আজ শুক্রবার নির্বাচনকালীন সরকার হচ্ছে অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সঠিক কি না জানতে চাইলে তিনি সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটা কবে হবে, সাইজ কী হবে- তা বলার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। তবে নির্বাচনকালীন সরকার একদিন, দুদিন বা তিনদিন পর তো হবেই। একটা বিষয় বলতে পারি নির্বাচনকালীন সরকারে টেকনোক্র্যাট কেউ থাকছেন না।’
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতাদের গণসংযোগের অভিযান বাংলাদেশে অব্যাহত থাকবে। কাল থেকে তা আরও জোরদার হবে।’ তবে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে সব তৎপরতা, গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করার জন্য তিনি নির্দেশ প্রদান করেন। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভালো কিছুর আশা করছি এবং মন্দের জন্য প্রস্তুত আছি।’
এছাড়া ঐক্যফ্রন্টের রোডমার্চ ও প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন স্থগিত এ দুটি বিষয়ের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সব জায়গায় যোগসূত্র খুঁজতে নেই। ঐক্যফ্রন্টের রোডমার্চ স্থগিতের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের তারিখ পরবর্তীত জানিয়ে দেয়া হবে।’
খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ায় সংলাপের অগ্রগতি ব্যাহত হবে কী না জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘বেগম জিয়া একজন প্রিজনার। তিনি জেলে থাকলে যা, চিকিৎসার জন্য বাইরে থাকলেও তা। একই স্ট্যাটাস!’

x