আজীবন ত্যাগী ও বিপ্লবী কমরেড মণি সিংহ

শুক্রবার , ২৮ জুন, ২০১৯ at ৬:১২ পূর্বাহ্ণ
27

কৃষক, শ্রমিক ও সর্বহারা মানুষের মুক্তি এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার সংগ্রামে নিবেদিতপ্রাণ এক মহান পুরুষ মণি সিংহ। ঐতিহাসিক টংক আন্দোলন ও তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম রূপকার ছিলেন তিনি। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠায়ও তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগন্য। আজ ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী ও কমিউনিস্ট নেতা কমরেড মণি সিংহের ১১৮তম জন্মবার্ষিকী।
১৯০১ সালের ২৮শে জুন ময়মনসিংহের সুসং দুর্গাপুরে সংগ্রামী মণি সিংহের জন্ম। পৈত্রিকসূত্রে প্রচুর ভূ-সম্পত্তির অধিকারী মণি সিংহ মায়ের দিক থেকেও ছিলেন সুসং দুর্গাপুরের জমিদার বংশের উত্তরাধিকার। কিন্তু এই অর্থ-প্রতিপত্তি তাঁকে মোহগ্রস্ত করেনি কখনো। পনেরো বছর বয়সে মণি সিংহ বিপ্লবী অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন। পরবর্তীসময়ে সন্ত্রাসবাদী আদর্শ পরিত্যাগ করে মার্কসবাদে দীক্ষা নেন, যুক্ত হন কমিউনিস্ট পার্টিতে। স্বাধীন বাংলাদেশে কমিউনিস্ট আন্দোলনের তিনিই ছিলেন প্রাণপুরুষ। দীর্ঘকাল তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। মণি সিংহ সদা-সর্বদাই ব্যাপৃত থেকেছেন সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি আদায়ের সংগ্রামে। অবিভক্ত বাংলায় হাজংদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তার, শ্রমিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ, টংক আন্দোলন ও তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দান, নানকার বিদ্রোহে অংশগ্রহণ সহ অধিকার আদায়ের বিপ্লব আর সংগ্রামেই কেটেছে তাঁর তারুণ্য। গ্রেফতার হয়েছেন একাধিকবার। বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় বারো বছর তিনি জেলবন্দি ছিলেন। আত্মগোপন করে কাটাতে হয়েছে প্রায় বিশ বছর। ১৯৭১-এ মুজিবনগরে প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। স্বাধীন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংকটে, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে মণি সিংহের ভূমিকা ছিল বলিষ্ঠ ও আপোষহীন। ১৯৮৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘জীবন সংগ্রাম’ কেবল স্মৃতিকথা নয়, সমকালীন রাজনীতির এক উজ্জ্বল নিদর্শন। ১৯৯০ সালের ৩১শে ডিসেম্বর কমরেড মণি সিংহ প্রয়াত হন।

x