আজিজা রূপা (স্বপ্ন দেখি হতাশাবিহীন তরুণ সমাজের)

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
35

২০-২২ বছর সময় দিয়ে, মাথায় একটা প্রেসার নিয়ে, শ্রম এবং অর্থ ব্যয় করে আমাদের দেশে প্রতিবছর হাজার হাজার ছাত্র ছাত্রী বের হচ্ছে। লক্ষ একটাই একটা ভালো চাকরি করবে। যদিওবা কেউ চাকরি নামক সোনার হরিণটার দেখা পায়ও, কারো কারো সর্বসাকুল্যে বেতন পড়ে ১০-১২ হাজার টাকা। কিছুদিন আগে আমি এক মহিলার সাথে কথা বলছিলাম বাসায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকার জন্য। কাজ তেমন কিছুনা। আমার বয়স্ক শাশুড়ি একা থাকেন, উনার সাথে থাকার জন্য। সকালে আমি যাওয়ার আগ পর্যন্ত কিছু কাজ করবে। মহিলা আমারে কয় আপা ৮-১০ হাজার টাকা দেয়া লাগবে। আমার সামনেই এম. বি এ পাস করা একজন সদ্য চাকরি পাওয়া মানুষ বসে আছেন, যিনি সারাদিন শ্রম দিয়ে ১২ হাজার টাকা বেতন পান। মহিলার কথা শুনে আমার তাকে বাহবা দিতে ইচ্ছে করলো, কারণ সে তার শ্রমের মূল্য আদায় করে নিতে জানে। সে নিজেকে হীনমনের অধিকারী ভাবে না। তার হয়তো ডিগ্রী নাই কিন্তু সে অসহায় না। সে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে জানে, নিজের প্রাপ্য, নিজের সম্মান বজায় রাখতে জানে। জানিনা আমরা। আমরা ছোট বেলা থেকে এক ফালতু পরনির্ভরশীলতা, এক ফালতু মায়া, ফালতু ছায়া, ফালতু লক্ষ নিয়ে বড় হই। যার ফলে ২৩-২৫ বছর বয়স থেকে এক হতাশা নিয়ে জীবন চলা শুরু করি। আমাদের সমাজের প্রেকটিস গুলো সত্যি অসুস্থ। ফলে একটা পর্যায়ে গিয়ে মানুষগুলোও অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের শিক্ষার উদ্দেশ্য একটাই কেন হয়? চাকরি পাওয়ার। ১৪ বছর পর থেকে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীদের উচিত তার নিচের ক্লাসের ভাইবোন বা অন্য কাকে টিউশনি করানো। আমরা বাবা মরা এত কিসের ফালতু আদরে জড়িয়ে রাখি সন্তানদের। যে আদর একটা সময়ে সন্তানদের গ্লানি হয়ে দাঁড়ায়। এক কথায় জীবন যুদ্ধক্ষেত্র। ভিন্ন ভাবে ভিন্ন উপায়ে সবার জীবনে সবাই কোন না কোন ভাবে যুদ্ধ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তাই আমাদের উচিত শুধুমাত্র পুঁথিগত বিদ্যা গলাদকরণ নয়। বাস্তবমুখী, কর্মমুখী সকল শিক্ষা আয়ত্ত করা। তাহলে হয়ত একটা সময় হতাশা নামক অজগর আমাদের গিলে খেতে পারবেনা। আর এই দেশের চাকরির যে অবস্থা চাকরীদানকারীরা তো শিক্ষা এবং মানুষের শ্রমের মূল্যায়ন সিকি পয়সায়ও করতে চাননা। আমরাও নিরুপায় হয়ে মাথা পেতে নিই। আমাদের নিজেকে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি এমন ভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে কেউ অন্তত আপনার শিক্ষা, শ্রম এবং সম্মানের অবমূল্যায়ন করার সুযোগ না পায়। স্বপ্ন দেখি হতাশাবিহীন তরুণ সমাজের। যাদের হাতে সমাজ সুন্দর করার হাতিয়ার লুকিয়ে আছে।

x