আজাদীর জন্য ভালোবাসা

বৃহস্পতিবার , ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৫:৫৩ পূর্বাহ্ণ
43

নতুন নতুন নক্ষত্ররাজিতে ভরে উঠুক ‘আজাদী’র আকাশ
এমিলি মজুমদার

ওর বয়স যখন ৬০, আমি তখন ৫৬। দুজনেরই একই শহরে কাছাকাছি বসবাস। বুদ্ধি হয়েছে অবধি দেখেছি বাসায় বাবার হাত ধরে নিয়মিত আসতো। যখন একটু বড় হই, প্রেম ছিল মনে মনে, কিন্তু তা বলা হয়নি কখনো মুখ ফুটে। এই বুড়ো বয়সে যে সে প্রেম পরিণতি লাভ করবে, ওর পরিবার সদস্য হিসেবে আমাকে অন্তর্ভুক্তি দেবে, সত্যি বলতে কি, স্বপ্নেরও অতীত ছিল আমার।
জ্বী আমি ‘দৈনিক আজাদী’র কথাই বলছি। আজ ষাটতম জন্মদিনে আন্তরিক অভিনন্দন। আরো অনেক ষাট বছর উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে আলো বিকিরণ করুক আমাদের ‘আজাদী’। নতুন নতুন নক্ষত্ররাজিতে ভরে উঠুক ‘আজাদী’র আকাশ।
খুব কাছের হলেও, আমি ছিলাম তার থেকে অনেকটা দূরে। কারণ লেখালেখির সাথে কোনদিনও আমার কোন সম্পর্ক ছিল না। পরীক্ষার খাতায় বানিয়ে বানিয়ে যখন এঙট্রা খাতার পর খাতা শেষ করতাম, তখনও বুঝিনি আমার মধ্যে লিখার সামান্য ক্ষমতা রয়েছে। ছোটবেলায় দৌড়ঝাপ খেলাধুলোর প্রতি আকর্ষণ বেশি থাকায় বইয়ের প্রতি তেমন আকর্ষণ ছিল না। ক্লাস টেনে, তখন খুব গল্পের বই পড়ার নেশা হয়, মাঠে ঘাটে খেলার নেশা একটু একটু কমতে থাকে। পাঠ্যবইয়ের ভেতরে লুকিয়ে বই পড়া, ক্লাসে ডেস্কের ভেতর বই রেখে পড়া ইত্যাদি ইত্যাদি। তখন পাশে পাশে আজাদী নিয়েও নাড়াচাড়া শুরু। যতদিন ছাত্রী ছিলাম, এ অভ্যেস আমার ছিল। এর পর শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। ভোর ছ’টা থেকে রাত আটটা ন’টা অবধি কর্মক্ষেত্রে। বাসায় এসে একটু বিশ্রাম, একটু খাওয়া দাওয়া সেরে দিতাম ঘুম। ছুটি-ছাঁটা তেমন ভোগ করিনি। এক দুদিন ছুটি পেলে ঘুমিয়ে সাবার করে দিতাম। পত্রিকা বা বইয়ের নেশা দূর ভেগেছে ক্যারিয়ারের কাছে হার মেনে । তখন অবশ্য আজাদীর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতেন আমার ‘মা’। মা’ কাজের ফাঁকে ফাঁকে কবিতা লিখতেন ।অফিস থেকে ফেরার পর, খাওয়ার সময় , বিশ্রামের সময় মা শেয়ার করতেন আজাদী’র খবরগুলো । কখনো কখনো নিজে কোন কবিতা লিখলে তা শোনাতেন। উল্লেখযোগ্য কোন লিখা হলে, পত্রিকাটা হাতে দিয়ে বলতেন, পড়ে দেখিস, সুন্দর লিখা। কিন্তু সত্যিকথা বলতে কি, বেশীরভাগ সময়ে তা পড়া হতো না। তখন কাজ ছাড়াও যে জীবনে যে আরো অনেক কিছু করার আছে তার প্রয়োজনীয়তা বোধ করার ফুরসৎ ছিলনা। মা এখন অসুস্থ। আমিই এখন অনেক সময় মায়ের মা হিসেবে ভূমিকা পালন করি, আমিই শেয়ার করি আজাদী’র খবর মায়ের সাথে। আমার বাবা বোধকরি পত্রিকার দাড়ি কমাও বাদ দেন না। খুব মনোযোগের সাথে সময় নিয়ে পড়েন।তাই শেয়ার করার সময় পান কম- এই বয়সে ক্রিকেট দেখা , আর পত্রিকা পড়া এদুটোই বাবার খুব প্রিয়।
একটু দেরীতে হলেও যাই হোক কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততার পাশাপাশি এসে যোগ হয় সাংসারিক ব্যস্ততা। সন্তান লালন পালনের ব্যস্ততা। মোটামুটি মেশিনের মতই চলেছি এতগুলো বছর। ধীরে ধীরে বয়স বেড়েছে, ছেলেমেয়ে বড় হয়েছে। শরীরকে সক্ষম রাখার প্রয়োজনীয়তা বোধ করে সকালে হাঁটা শুরু করি। খবরাখবরের জন্য পত্রিকাও পড়া শুরু করি নিয়মিত। এ যেন বয়সের চাহিদা এর মাঝে ফেইসবুকের সাথে ভাব হয়। হুট করে কিছু মনের কথা লিখে ফেলি একদিন। লিখেফেলি ছোটবেলার কিছু স্মৃতি। বন্ধুরা বলতে থাকে তোমার সহজ কথাগুলো পড়তে ভালো লাগে। ওদের উৎসাহ আর নিজের ভালো-মন্দ ভাবনাগুলোকে মাঝে মাঝে লিখার চেষ্টা করি। লেখিকা হিসেবে আমি শিশু। ঠিক তখনই আজাদী এসে হাত ধরে আমাকে একটু একটু করে হাঁটা শিখাচ্ছে। আমি শিখছি। অনেক ভুল ত্রুটি থাকে। পড়ার সময় কম বলে জ্ঞানের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পাঠকেরা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখছেন আশাকরি । এখন অনেক পড়তে ইচ্ছে হলেও, সময়ের অভাবে তেমনটা হয়ে ওঠেনা। আমি জানি সবাই বলবে, সময় সবার জন্য সমান, সময় করে নিতে জানতে হয়। আসলেই তাই, আর এটাই আমার অক্ষমতা।
ঘনিষ্ঠজনেরা জিজ্ঞাসা করে, কখন লিখি? আমি নিজেও জানিনা কখন লিখি। এর জন্য নির্দিষ্ট কোন সময় আমি বরাদ্দ করতে পারিনি। এখনো বাইরে ঘরে কাজ করতে হয় সমানভাবে। মোবাইলটা থাকাতেই রক্ষা। নাহলে এই লিখার রাজ্যে কখনই আমার প্রবেশ সম্ভব ছিলনা। আমার লিখা বা পড়ার সময় , রান্নাঘরে কাজ করার ফাঁকে ফাঁকে, গাড়িতে যখন এদিক ওদিক ছুটতে হয়, এয়ারপোর্টে যখন অপেক্ষায় থাকি, দুপুরে যখন বিশ্রাম নি -মাঝে মাঝে রাতে ঘুমাবার আগে। আজ আজাদী পরিবারের সদস্য হতে পেরে আমি গর্বিত। আজাদী পরিবারের সবাইকে ষাটবছর পদার্পণ অভিনন্দন।

যুগের বাহন দৈনিক আজাদী
সাহাদাত হোসাইন সাহেদ

জোছনার ভরা তারুণ্যে অনুরিত, সুবাসিত সংবাদ দর্পণ দৈনিক আজাদী। দিন, ক্ষণ,মাস, বর্ষ ও যুগের পাল্লার পাঠ রচনা করে অব্যাহত ধারায় পাঠক মুগ্ধতায় শাণিত হচ্ছে এই পত্রিকা। বলা যায়, নন্দিত আলোর বাহন দৈনিক আজাদী। পাঠক সমাদৃত এই বিরল দৈনিকে মিলে বিচিত্র নানা তথ্য। বহুল প্রচারে ঈর্ষণীয় সাফল্যের কারণে দৈনিকটি প্রচুর সমাদৃত। ইতিমধ্যে দৈনিক আজাদী অর্জন করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল পুরস্কার –২০১৯। অভিনন্দন সময়ের সাহসী পালক দৈনিক আজাদী। জগৎ জীবনের মাঝে সাহিত্যের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বাঙলা সাহিত্যের এক নতুন অনুপ্রেরণা– দৈনিক আজাদী। যার পিছনে আছে এক ঝাঁক কবি, সাহিত্যিক ও গবেষক। দুষ্ট কীটের অবিনাশী কার্যক্রম বিন্দু মাত্র বিচ্যুত করতে পারেনি। ফলে সাফল্যের রঙে রাঙিত পত্রিকায় সংবাদের পাশাপাশি গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন ও ফিচার প্রকাশ পেতো জনরবে। বলাবাহুল্য, আধুনিক শিল্পকলার সজ্জিত প্রজ্জ্বলন দৈনিক আজাদীর অর্জন সর্বাধিক। যুগের কালন রক্ষিত তরে ঐতিহ্যের প্রেক্ষাপট ও রম্য রসে যুক্ততায় দৈনিক আজাদী হয়ে উঠে সৃষ্টি শীল সংস্কারক। বহির্বিশ্ব সংবাদ ধারণে, বিভিন্ন কালভিত্তিক বিশেষ ফিচার প্রকাশ সবার নজর বাড়ানো পাতা সংযোজন মোহিত করে। কবিতা কাব্য, গীতিকাব্য, গল্পকার, কবি, প্রাবন্ধিক ও রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত বরেণ্য লেখক সৃষ্টিতে পত্রিকার ভূমিকা অতুলনীয় ও বিরল। দৈনিক আজাদীর বর্তমান অবস্থানের রূপকার তিন সম্পাদক : মরহুম ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল খালেক, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ ও এম এ মালেক। ১৯৬০ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া দৈনিক আজাদীর জন্মক্ষণকে জানায় শুভ বারতা—শুভ জন্মদিন যুগের বাহন দৈনিক আজাদী।

প্রাণের পত্রিকা প্রিয় পত্রিকা
নীলিমা শামীম

আমরা যারা লেখালেখির সাথে জড়িত তারা সকলেই কখনো এতো প্রচার প্রচারণায় ছিলাম না! চট্টগ্রামের বহুল প্রচারিত দৈনিক আজাদীর কল্যাণে আজ আমরা লেখালেখি ও সামাজিক মিডিয়ায় নিজেদের তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছি! খুব ছোটবেলা থেকেই পত্রিকা বলতে দৈনিক আজাদীকেই বুঝতাম! পড়ার টেবিল থেকে রান্নাঘর, অফিস স্কুল – কলেজ পেরিয়ে প্রায় সবসময়ই আজাদীর পত্রিকা পড়তে ভালোবাসি! দাদা থেকে বাবা, বাবা থেকে আপু -ভাইয়াদের সকলের প্রিয় পত্রিকা আজাদী! এখন হকারের খাতায় আমার নামটি থাকে প্রথমে! একসময় বাবার নাম ছিল হকারের লিস্টে প্রথম! যুগের সেরা পত্রিকা আজাদী! ভালোবাসার, ভালোলাগার, আমার কাছে সেরাদের সেরা এই প্রিয় পত্রিকা! চোখ খুলে এক কাপ চা আর একটি পত্রিকা মানে আজাদী। তার প্রতিটি পৃষ্ঠা চোখ বুলাতে বুলাতে ভোরের আলো আর দেখা হয়না। এমনি নেশা ধরানো পত্রিকা এটা! প্রতিটি লেখকের প্রাণের পত্রিকা আজাদী!

অপেক্ষায় থাকি কখন আজাদী অনলাইনে আপলোড হচ্ছে
ইসমাইল জসীম

আজাদী আমার প্রথম প্রহরের প্রথম ভালবাসা। দৈনন্দিন জীবনে চলার বিচিত্র অভিজ্ঞতার মনের দুয়ার খুলে যখন দু’চারটি কথা বলি তাও পরম আদরে বুকে টেনে নেয় আজাদীর ‘সুখে দুঃখে ফেসবুকে’। হাল ফ্যাশনের রমরমা কোন গ্ল্যামার ম্যাগাজিন নয়, আমার জীবনের প্রথম বিনোদন আজাদীর ‘আনন্দন’। লিখিয়ে হবার বাসনায় যখন ছন্দে হাতেখড়ি নিচ্ছিলাম তখন পরম মমতায় আগামীদের আসর এসে দাঁড়িয়েছিলো আমার পাশে। হয়ে গেলাম আগামীদের আসরের একজন। আজাদীর প্রতিটি পাতায় ছিলো আমার অবাধ বিচরণ। আগামীদের আসর, আনন্দন, সাহিত্যসাময়িকী, আজমিশালীসহ সবক’টি সাপ্তাহিক আয়োজনে। তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই হয় দাদা অরুণ দাশগুপ্ত, প্রদীপ দেওয়ানজী, প্রয়াত সিদ্দিক আহমেদসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি। আজাদীর সাথে প্রথম পরিচয় সেই শৈশবে। নানা ভাই পুঁথিগবেষক আবদুস সাত্তার চৌধুরীর মাধ্যমে। তিনি চাকরি শেষে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে বগলদাবা করে নিয়ে আসতেন আজাদী। বাড়িতে এসেই বিকেলে চায়ের কাপে চুমু দিতে দিতে চশমার ফাঁক দিয়ে তিনি চোখ বুলাতেন আজাদীর পাতায় পাতায়। আমিও সেই থেকে আজ অবধি আছি দৈনিক আজাদীর সাথেই। তবে এখন বিকেলে নয়, আজাদীর অপেক্ষায় থাকি কখন রাত বারোটা বাজে (সৌদিআরবের স্থানীয় সময়)। কখন অনলাইনে আপলোড হচ্ছে। কখন একনজর দেখে নেবো প্রিয় আজাদী। তারপর শরীর হেলিয়ে বিছানায়। শৈশবের সেই আজাদী আজকে পদার্পণ করেছে ৬০টি বছরে। এ উপলক্ষে রইলো অনেক অনেক শুভেচ্ছা। দৈনিক আজাদী সবার মাঝে বেঁচে থাক শত শত বছর।

আমার পারিবারিক কাগজ
মুহাম্মদ নোমান লিটন

দৈনিক ‘আজাদী’ আমার পারিবারিক কাগজ। আমার পরিবারের একজন সদস্য হয়ে আছে এ পত্রিকাটি। দৈনিক আজাদী এমন কিছু প্রকাশ করে না, যা আমাদের সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক মূল্যবোধে আঘাত হানে। বাড়ির ছোট্ট শিশুটি থেকে গৃহিণী, কর্মজীবি নারী থেকে প্রবীণতম সদস্যের চাহিদা যেন মেটে এই কাগজের মাধ্যমে। সত্যি কথা বলতে কি ‘আজাদী’ আমার দৈনন্দিন জীবনাচরণের অংশ। সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে নাস্তার টেবিলে আজাদী পত্রিকার কপি হাতে না পেলে মনে হয় দিনের শুরুটাই বুঝি আজ মাটি হল। একইভাবে অনলাইনে আজাদীতে ঢুঁ মারতে না পারলে মনে একটা অপূর্ণতার হাহাকার শুনতে পাই। ছোটবেলা থেকেই এ পত্রিকাটি আমাকে অন্য রকম ভাল লাগায় সিক্ত করেছে। আমার লেখালেখির হাতেখড়িও দৈনিক আজাদীর আগামীদের আসর এর মাধ্যমে। এখনো লক্ষ্য করি, চট্টগ্রাম তথা দেশের তরুণ, উদীয়মান লেখক-সাহিত্যিকদের দারুণ পৃষ্ঠপোষকতা করে যাচ্ছে এ পত্রিকাটি। আজাদীর সাহিত্যের পাতাটি তাই আমার খুব পছন্দের। সাহিত্যবিষয়ক যে বিশেষ সংখ্যাগুলো বের হয়, সেগুলোও খুবই পছন্দের। এগুলোর জন্য আমি প্রতীক্ষা করি। একটা ভালো খবরের কাগজ ভালো খবর পরিবেশনার পাশাপাশি সেই কাগজটি কীভাবে উপস্থাপনা করা হচ্ছে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। এদিক থেকেও আজাদীকে আমি ভীষণ পছন্দ করি। একটি প্রগতিশীল কাগজের অবশ্যই দীর্ঘায়ূ কামনা করা উচিত। চট্টগ্রাম তথা দেশের আপামর পাঠকের কাছে এই পত্রিকার যে ভূমিকা আছে, সেটা অটুট থাকুক। ৬০তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা রইল। জয়তু দৈনিক আজাদী।

x