আজাদীর জন্য ভালোবাসা

বৃহস্পতিবার , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
29

স্মৃতির পাতায় আজাদী
করুণা আচার্য

স্বাধীনতার প্রধান ও প্রথম সংবাদ বাহক দৈনিক আজাদীর ৬০তম জন্মদিনে জানাই লাল গোলাপের স্বাগতম।
আজাদী পত্রিকা ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ইংপর্যন্ত নিজস্ব মানদণ্ড অক্ষুণ্ন রেখে সংবাদ পরিবেশন করে সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে ৬০বছরে পদার্পণ করল । আমি এই আজাদী পত্রিকার নিয়মিত একজন পাঠক। তবে এই পত্রিকার অনিয়মিত একজন লেখক ও বটে ।
এই আজাদী পত্রিকায় আমার প্রথম লেখা ছাপাতে দেওয়ার গল্প নিয়ে ছোট্ট একটা স্মৃতি চারণ করছি। ১৯৯১ইং সম্ভবত মার্চ মাস “আমি ৭১ এর শিশু” শিরোনামে আমার লেখা একটা কবিতা নিয়ে শহরে আজাদী পত্রিকা অফিস খুঁজতে আসি । শহরের রাস্তা ঘাট তখনো আমার ভাল মত জানা শোনা ছিল না। শহরে এসে প্রথমে জামালখান এক আত্মীয়ের বাসায় উঠি। ঐখানে উঠার উদ্দেশ্য ছিল ওদের থেকে কাউকে নিয়ে আজাদী অফিসে যাব এবং আমার লেখাটা জমা দেব। ঐ আত্মীয়ের বাসায় আসার পর আজাদী অফিসে যাওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে তাদের কলেজ পড়ুয়া ছেলে দীপ বলল, আন্টি আমার এক বন্ধুর বড় ভাই আজাদীর সাংবাদিক । আপনার লেখাটা আমাকে দেন আমি উনাকে হাতে হাতে দিলে উনি ছাপিয়ে দেবেন। এটা শুনার পর আমিও কিছু না ভেবে অতি আনন্দে তার হাতে লেখার খামটি তুলে দিলাম। আর মনে মনে ভাবলাম যাক অজানা অচেনা পথে যাওয়া থেকে বাঁচলাম। কিন্তু পরক্ষণে মাথায় এলো লেখাটা ছাপলো কি ছাপলো না কাকে জিজ্ঞেস করবো। তখন ঐ ছেলেকে বললাম না আংকেল কিছু মনে করো না খামটা আমাকে দিয়ে দাও কারণ আমি তো আরো লেখা দেবো। তাই আজ কষ্ট হলেও অফিসটা চিনে যাই।
তার পর ঐ দীপকে সঙ্গে নিয়ে আজাদী অফিস খুঁজে নিই । অফিসের সামনে গেলে একজন লোক হাতের খামটা দেখে বলল কী বিজ্ঞাপন দেবেন ? আমি বললাম না, একটা লেখা দিতে এসেছি, তখন ঐ লোক বলল, আমাকে দেন আমি অফিসে পৌঁছে দেব। আমাকে আর উনি অফিসে ডুকতে দিল না। হঠাৎ মনটা আরো খারাপ হয়ে গেল । এত কষ্ট করে এত দূর এলাম শেষমেশ অফিসেই ঢুকতে দিল না। যাক, অগত্যা ঐ লোকটার হাতে খামটা দিয়ে জানতে চাইলাম লেখাটা ছাপলো কি না আমি কি ভাবে জানবো ? তখন লোকটা বলল, প্রতিদিন পত্রিকা চেক করবেন । তখন তো গ্রামে থাকতাম। প্রতিদিন হাতের কাছে পত্রিকা পাওয়াটাও ছিল বড়ই দূরুহ ব্যপার । গ্রাম অঞ্চলে তখন সহজে পত্রিকা হকার পাওয়া যেত না।
মাঝে মাঝে শহরে ছুটে আসতাম আর আজাদী পত্রিকা অফিসে গিয়ে চিঠি পত্রের বাঙে লেখা দিয়ে চলে যেতাম। ছাফা হলো কি হলো না আর দেখতে পেতাম না। তার পরও আমি বাঙে নিয়মিত লেখা দিয়ে যেতাম। একদিন হঠাৎ এক পরিচিত লোক বলল আজাদী পত্রিকায় আপনার একটা লেখা পড়লাম। এটা শুনে আমার যে কী আনন্দ হয়েছিল বলে বুঝানো যাবে না। আমার একা একা শহরে আসা পত্রিকা অফিসে যাওয়া এই সবে খুব ভয় ছিল । শহরে অনেক পরিচিত জন আছে যারা প্রতিদিন পত্র -পত্রিকা পড়ত, সাংবাদিক চিনত, বিভিম্ন পত্রিকা অফিস চিনত তাদের কাউকে কাছে পেলে আমার কিছু লেখা দিয়ে দিতাম। মনে হতো যেন লেখাগুলো কারো হাতে দিয়ে দিতে পারলেই আমি যন্ত্রণা মুক্ত হই।
তার পর অপেক্ষায় থাকতাম ওরা হয়ত আমার লেখা ছাপতে দিয়েছে। তীর্থের কাকের মত চেয়ে থাকতাম, হয়ত কেউ এসে খবর বলবে আমার লেখা আজাদী পত্রিকায় উঠেছে। তখন অন্য কোন পত্রিকা অফিসও চিনতাম না। আজাদী অফিসেও কখনো সাহস করে ডুকতামনা। মাঝে মাঝে শহরের পরিচিত জনদের কাউকে আমার লেখা পত্রিকায় ছাপাতে দিতে বললে ওরা ঠাট্টা করে বলত কিছু লেখা আমার নামে ছাপতে দাও তার পর কিছু তোমার নামে ছাপাতে দেব। সেই থেকে আর কাউকে লেখা ছাপানোর কথা বলতাম না।
১৯৯৩ ইং গ্রাম ছেড়ে শহরের আন্দরকিল্লা রাজা পুকুর লেনে বাসা নিলাম। তার পরও নিজে নিজে আজাদী বঙে লেখা দিয়ে যেতাম। কোন লেখক বন্ধুকে তখনও চিনতাম না। পত্রিকার কারো সাথে ও পরিচয় ঘটেনি। এমনিতে প্রতিদিন আজাদী পত্রিকা পড়তাম। হঠাৎ একদিন দেখতে পেলাম চিঠি পত্র কলামে আমার লেখা ছাপানো হয়েছে।
এর পর থেকে আরো অধিক আনন্দে লেখা পাঠাচ্ছি। তার পর একদিন এক বান্ধবী আমাকে নিয়ে এল চেড়াগি পাহাড় আন্দরকিল্লা আবির প্রকাশন অফিসে। পরিচয় ঘটলো সম্পাদক নুরুল আবছার ভাইয়ের সাথে। তার পর নিয়মিত লিখতে থাকি উনার মাসিক আন্দরকিল্লা পত্রিকায়। এই সর্বপ্রথম একজন লেখকের সাথে আমার দেখা। সেখানে যাওয়া আসায় অনেক লেখকদের সাথে পরিচিত হতে লাগলাম।
এর পর পরিচয় ঘটলো বিশিষ্ট লেখক অনুবাদক প্রিয় সিদ্দিক ভাইয়ের সাথে। উনি আাজাদী অফিসের লোক শুনে মনে একটা সাহস পেলাম। একদিন কিছু লেখা নিয়ে সরাসরি উনার নিকট চলে গেলাম। সেখানে শ্রদ্ধেয় কবি অরুন দাস গুপ্তের সাথেও পরিচিত হলাম উনারা আমাকে নিয়মিত লেখা পাঠাতে বললেন। তার কিছুদিন পর কবি, সাংবাদিক রাশেদ রউফ ভাই এর সাথে পরিচয় হলো। উনিও আমাকে লেখালেখিতে অনেক দিক নির্দেশনা দিলেন। এর পর একের পর এক আজাদীর সবার সাথে পরিচয় হতে লাগলো। কিছুদিন পর কবি সুসেন কান্তি দাশ এর মাধ্যমে আগামীদের আসরের সম্পাদক বিশিষ্ট নাট্যজন ব্যক্তিত্ব প্রদীপ দেওয়াঞ্জী দাদার সাথেওপরিচয় জাদীর সবার সাথে পরিচয় পর্ব শেষ হওয়ার পর আমার লেখালেখিও আজাদীর প্রত্যেক শাখায় ছাপা হতে লাগল। এই আজাদী পত্রিকায় লেখা ছাপাতে পেরে আমিও নিজেকে খুব গর্ববোধ করলাম এবং চিরকৃতজ্ঞ রইলাম। আজাদী পত্রিকার আজ অনেক সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। আজাদী পত্রিকা সাফল্যের সাথে স্বগৌরবে আরো দীর্ঘজীবি হোক এটাই কাম্য।

বাবার হাতেও দৈনিক আজাদী ছিল আমার হাতেও আজাদী
সেলিম তালুকদার আকাশ

ছোটবেলায় সকালে ঘুমথেকে উঠে হাতমুখ ধুয়ে আরবি পড়তে বসতাম, আরবি পড়ে নাস্তা খেতে বসতাম, নাস্তাসেরে দেখতাম বাবা তাঁর প্রিয় পত্রিকা আজাদী নিয়ে মনোযোগ সহকারে পড়তে বসে পড়েছে৷ আট পৃষ্টার আজাদী, বাবা যেনো খুটিয়ে খুটিয়ে পড়ছে আর মার সাথে খবরের কাগজের সংবাদগুলি নিয়ে আলাপ আলোচনা করছে। প্রতিটি পৃষ্ঠা বাবা পড়তেন, আমি চেয়ে চেয়ে দেখতাম বাবার পড়াটা, খুবই ভালো লাগতো পেপারটি দেখতে, ঝকঝকে কাগজ কালো লেখাতে ছাপানো সাদাকালো ছবি, কখনো কখনো বাবার নামও ছাপাহতো নিউজে, দেখতে খুবই ভালো লাগতো। খেলার পাতা, আজমিশালী, আনন্দন এসব দেখার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে বসে থাকতাম কখন বাবার হাত থেকে পেপারটি রাখবে। আনন্দন পাতাটি পড়তে খুনই ভালো লাগতো, সুন্দর সুন্দর সব লেখাদিয়ে সাজানো একটি পাতা। সাহিত্য, আগামীদের আসর পাতায় মজার মজার ছড়া ছাপানো হতো পড়তে বেশ মজা লাগতো, আগামীদের আসর ও আনন্দন পাতাটির কিছু কিছু লেখার কাটিং করে ডায়েরীর পাতায় আঠা দিয়ে লাগিয়ে রাখতাম। সকালে সবছেয়ে ভালোলাগতো যখন হকার এসে পেপার পেপার বলে চিৎকার করতো, এলাকায় শুধুমাত্র আমাদের বাসায় আজাদী থাকতো বলে অনেকে পড়তে আসতো, কখনো কখনো পুরনো সংখ্যা দেখতে আসতো। চাকরির খবর দেখতে আসতো অনেকেই। বাবার কাছে জানতে চাইতাম বাবা আপনি শুধু আজাদী কেনো পড়েন, বাবা বলতো, আজাদী পড়ে মনে তৃপ্তি পাই অন্যটাতে পাইনা তাই, আর আজাদীতে বস্তনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা হয়। যা অন্য কোন কাগজে ছাপানো হয় না। সকালে বসে বাবার আজাদী পড়াটা মনে পড়ে খুব, বেতের চেয়ারে পা লম্বাকরে বসে দুহাতদিয়ে সামনে আজাদী ধরে পড়তো, বেশ ভালো লাগতো। আজ বাবা নেই তাই আমার হাতে সেই প্রিয় আজাদী। আজাদীর প্রতিটি পাতাতে চট্টগ্রামের ঐতিয্য ও বাবার ছোঁয়া পাই, ৬০ বছর পেরিয়ে আজাদী হাজার বছরে পা বাড়াবে একদিন সেই প্রত্যাশা রাাখি।

আজাদী’র জন্মতিথিতে শুভেচ্ছাভিনন্দন
মোহাম্মদ ইউসুফ

শারীরিক অসুস্থতাহেতু দেরিতে দৈনিক আজাদীর ৬০বছরপূর্তি উপলক্ষে সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছাভিনন্দন জানাচ্ছি। বর্তমানে সংবাদপত্র জগতে অনেক নতুন দৈনিক পত্রিকার আর্ভিভাব হলেও একসময় আঞ্চলিক পর্যায়ে দৈনিক সংবাদ ও ইত্তেফাক পত্রিকার পরে যে পত্রিকা জনমনে গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান করে নেয়, সেটি হলো চট্টগ্রামে সংবাদপত্রের পথিকৃত দৈনিক আজাদী। পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সর্বস্তরের সকল রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দের আজাদীভবনে কয়েকদিন ধরে ফুল নিয়ে অভিনন্দন জানাতে যেভাবে ভিড় তৈরি হয়-অন্যপত্রিকার মালিক-সম্পাদকের জন্যে যা রীতিমতো ঈর্ষার বিষয়। একদিনে এ অবস্থা তৈরি হয়নি। যুগ যুগ ধরে এ পত্রিকাটি প্রতিদিনের আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, বিরহ-ব্যথার বার্তা নিয়ে পাঠকদের ধারে এসে পাঠকপ্রিয়তা তৈরি করে নিয়েছে।।ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার দাপটের যুগেও আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত আজাদী’র প্রকাশনার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছন্দঃপতন হয়নি, চির ধরেনি এর জনপ্রিয়তায়।
সংবাদপত্র গণতন্ত্রের জাগ্রত প্রহরী।এটি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সংরক্ষনের দায়িত্বশীল অভিভাবকও বটে।
ইংরেজিতে বলা হয়- ঘবংিঢ়ধঢ়বৎ রং ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষবং ঢ়ধৎষরধসবহঃ ধষধিুং রহ ংবংংরড়হং. আক্ষরিক অর্থেই সংবাদপত্র জনগণের সদাজাগ্রত জাতীয় সংসদ। বিচারপতির বিচারশালায় সংবাদপত্র নিপীড়িত মানুষের পক্ষাবলম্বন করে। মানবাধিকার লঙ্ঘিত ও গণতন্ত্রের মর্যাদা লুণ্ঠিত হলে সংবাদপত্রের নির্ভিক কণ্ঠ সেখানে সোচ্চার হয়ে ওঠে।সংবাদপত্র সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ হলেও আর্থ-সামজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনার শতোভাগ চিত্র দর্পণে ভেসে ওঠে না। স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে সংবাদ পরিবেশন কঠিন হয়ে পড়ে।এরপরও দৈনিক আজাদী দীর্ঘ ৬দশক ধরে সমাজের সামগ্রিক পরিচয়ের প্রাত্যহিক দলিল ও জনসাধারণের স্বাথর্রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের প্রয়াস অব্যাহত রেখেছে। আগামীতেও আজাদী সংবাদ পরিবেশনে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখবে- সেই প্রত্যাশা রইল।

জীবনের গল্প এবং আজাদী
রুমি চৌধুরী

আমার শৈশব আর কৈশোর কেটেছে গ্রামে। দাদু, ঠাকুরমাসহ বিশাল একটি একান্নবর্তী পরিবারে। তখন আমাদের গ্রামে হকার যেতো না। এদিকে দাদুর ছিলো পত্রিকা পড়ার ঝোঁক। তাই সপ্তাহান্তে বাবা শহর থেকে বাড়ি ফেরার সময় একসাথে কয়েকটা পত্রিকা নিয়ে যেতেন। আজাদী, ভোরের কাগজ, এবং সাথে অন্য আরো পত্রিকা। পুরো সপ্তাহ ধরে দাদু সবকটি পত্রিকার সব লেখাই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তেন। আমার মনে হতো দাদু যেন কোন পত্রিকার একটি শব্দও বাদ দিতেন না। দাদুর সেই পড়া অব্যাহত থাকতো পরের সপ্তাহে বাবা আবার নতুন পত্রিকা নিয়ে না আসা পর্যন্ত।
সেই ছোটবেলা থেকেই পত্রিকার প্রতি আমারও দারুণ ঝোঁক কাজ করতো। সেই কৈশোরকাল থেকেই আমার আকর্ষণ ছিলো সাহিত্য পাতার প্রতি। তবে দাদুর মতো এক সপ্তাহ ধরে পড়তাম না। এক নিঃশ্বাসেই যেন সবকটি পত্রিকার গল্প, কবিতাগুলো পড়ে শেষ করে ফেলতাম। আবার পরের সপ্তাহের অপেক্ষা! আরো পড়তাম বিনোদন পাতা। ফলে প্রিন্সেস ডায়ানার প্রতিও আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম সেই কৈশোরেই।
দাদু বারান্দায় একটা চেয়ার পেতে বসতেন পত্রিকা নিয়ে। আর আমি ছোট্ট একটা মোড়া নিয়ে দাদুর কাছাকাছিই। দাদু মাঝেমাঝে জানতে চাইতেন, দেখিতো কী পড়ছিস?
আমি শুধু সাহিত্যপাতাটাই দেখাতাম। দাদু শুধু হাসতেন, কিছু বলতেন না।
বিনোদনপাতা যে পড়েছি, তা বলতাম না। পাছে আমার রক্ষণশীল দাদু আবার বকা দেন! সেই ভয়ে।
পত্রিকায় যাঁদের গল্প, কবিতা ছাপা হতো, মনে হতো তাঁরা বুঝি অনেক দূরের কোন নক্ষত্র! যাঁদের শুধু লেখাই পড়তে পারি, কোনদিন বুঝি তাঁদের চোখের দেখাও দেখতে পাওয়া যায় না! ভাবতাম, ইস! আমি বড় হলে আমার লেখাও যদি এভাবে আসতো কখনোসখনো!
এভাবেই পেরিয়ে গেলো অনেকটা সময়। হাঁটা হলো অনেকটা পথ। দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দাদুও চলে গেলেন ওপাড়ে। জীবন থেকে কতকিছুই বিয়োগ হলো! যোগ হলো নতুন নতুন পাতা। কিন্তু আজাদীর কোন এদিকসেদিক হলো না। সে থেকেই গেলো সুখেদুঃখে সবসময়।
২০০১ সাল। একদিন আজাদীতে ‘ঘূর্ণিঝড়’ বিষয়ে লেখা আহ্বান করা হলো। তা দেখে মনের সুপ্ত বাসনাটা আবারো জেগে ওঠলো। ভাবলাম এইতো সুযোগ। লিখেই বাবার হাত দিয়ে পাঠিয়ে দিলাম।
হ্যাঁ, ছাপা হয়েছিলো আমার লেখাটি। এবং পরের সপ্তাহে আরেকজন কে যেন আমার এই লেখার প্রশংসা করে আরেকটা লেখা লিখেছিলেন একই পাতায়। সেই প্রথম ছাপার অক্ষরে নিজের নামটি দেখা! এ এক অবর্ণনীয় আনন্দ! আমার এই অসীম আনন্দে সেদিন পরিবারের অন্য সবার সাথে ছিলো আমার বাবাও। বাবা এত খুশি ছিলেন যে,তার অফিসের সব কলিগকেই আমার লেখাটি দেখিয়েছিলেন সেদিন।
ইস! আজ যদি বাবা বেঁচে থাকতেন!
এখন তো প্রায়ই আমার লেখা কোন না কোন পত্রিকায় ছাপা হচ্ছে। প্রতিবারই ছাপানো লেখা দেখে আনন্দিত হই, রোমাঞ্চিত হই। কিন্তু দৈনিক আজাদীতে সেই প্রথম লেখা ছাপা হওয়ার আনন্দটা বুঝি কখনওই ম্লান হয় না! কোনকিছুতেই! ধন্যবাদ দৈনিক আজাদী। কৃতজ্ঞতা তোমায়, ভালোবাসা অপার।

x