আজাদীর জন্য ভালোবাসা

মঙ্গলবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৬:২৪ পূর্বাহ্ণ
20

আধুনিকতার উৎকর্ষতায় চেতনায় মননে আজাদী
ডা. কল্যাণ বড়ুয়া

দৈনিক আজাদী পত্রিকা চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারক এবং বাহক। পত্রিকাটি ছুঁয়ে আছে আমার প্রাণ, যার টানে আমার ঘুম ভাঙে প্রতিদিন। ঘুম থেকে উঠে দরজার ফাঁকে আজাদী পত্রিকা না দেখলে মনে হয় সূর্য উঠবে না, ফুল ফুটবে না, পাখিরা গান গাইবে না। মনে হয় দিনটি অপূর্ণতায় ভরা। হৃদয়ের গহীনে দৈনিক আজাদীর প্রতিটি অক্ষর জ্বলজ্বল করে সারাক্ষণ। সুন্দর দিনের স্বপ্নে ঘেরা আজাদী আছে আমার প্রাণ জুড়ে, রাঙিয়ে রেখেছে আমার জীবনের পথচলা। দৈনিক আজাদীর ৬০ বৎসর পূর্তিতে আজ মনে পড়ে, সেই ১৯৭৩ সালে আজাদীর পুরনো অফিসের কথা। লেখালেখির ব্যাপারে মেঝদার সাথে মাঝে মধ্যে যেতাম সেই ছোট্ট অফিসে। আজ ২০১৯ সনে চেরাগীর মোড়ে কি বিশাল অফিস। যারা আজাদীকে এ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, তাদের জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা। আধুনিকতার উৎকর্ষতায় চেতনায় ও মননে এগিয়ে আজাদী এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। আমার লেখালেখির পিছনেও আজাদীর অসীম অবদান, যা আমাকে নিয়ে যাচ্ছে ক্রমাগত সফলতার দিকে। তাই, এ রাঙানো পথে আলোময় পথ চলায় হেঁটে যেতে চাই আজাদীকে সাথে নিয়ে আজীবন। কামনা করি, আজাদীর সুন্দর চেতনার আলোতে আলোকিত হউক সবাই, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শপথে ঐক্যবদ্ধ হই।

আমাদের ভালবাসার পত্রিকা
কাজী রুনু বিলকিস

৬০ বছরের পথ চলার সাহস, দেশ প্রেম ও দায়িত্ববোধ এবং চট্টগ্রামের মানুষের ভালবাসা নিয়ে দৈনিক আজাদী উন্নত শিরে দাঁড়িয়ে আছে। স্বাধীনতার সোনার হরিণ ছোঁয়ার প্রথম গল্পটিও শুনিয়েছে ছাপার অক্ষরে এই কাগজটি। সফলতার জন্য সংক্ষিপ্ত কোন পথ নেই আমরা জানি। তাই দৈনিক আজাদীকেও অনেক কঠিন পথ চলতে হয়েছে। অনেক সংগ্রামের গল্পও আমরা শুনেছি। ৬০ বছরে পদার্পণে পরম শ্রদ্ধেয় সম্পাদক এম এ মালেক আজাদীর সাথে তাঁর ভালবাসার কথা জানান। এই ভালবাসা কখনো কখনো স্ত্রী সন্তানকে ও ছাড়িয়ে গেছে কারণ বাবার স্বপ্নের সাথে তার স্বপ্ন একাকার হয়েছিল। ঢাকার কয়েকটি পত্রিকা থাকলেও আজাদী অনিবার্য। সকালে শুরু আজাদী দিয়ে এক কাপ চা আর আজাদীর স্পর্শ না থাকলে অসম্পূর্ণ সারাটি দিন। সত্যি কথা বলতে কি ছোট বেলা থেকে লেখার অভ্যাসটি ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত অনিয়মিত ভাবে লিখেছি ছোটদের পাতায় ছড়া ও কবিতা। দু একটা কবিতা ছাপাও হয়েছে ইত্তেফাকের সাহিত্য পাতায়। কিন্তু বিয়ের পর মরিচ হলুদ আর মশলায় একাকার হয়ে আমার কবিতারা পথ হারিয়ে ফেলে। আমার কাছে আর আসে না। আমিও ভুলে যাই ওদের। একটা ঘোরের মধ্যে আমার দীর্ঘ সময় চলে যায়। বড় হয়ে ছেলে মেয়েগুলো লেখাপড়ার জন্য বাইরে গেলে আমি একাকী হয়ে পড়ি। বিষন্নতায় পেয়ে বসে আমাকে। ইমরান (আমার স্বামী) বলে তুমি তো বেশ লিখতে আগে। আমাকে নিয়ে ও তো কবিতা লিখেছিলে আগে। কই এসব? শুরু কর আবার চেষ্টা করলাম, কবিতা আমার আর আসে না। আমার জন্য সুনীলের কবিতা নিয়ে আসে, শামসুর রাহমানের কবিতা ও বাদ যায় না। কিন্তু আমার মগজের কোষ থেকে কবিতা ডিলিট হয়ে যায় একেবারে। শব্দের মালা আর গাঁথতে পারি না! পত্রিকার একান্ত নিবিষ্ট পাঠক আমি সম্পাদকীয় কলামগুলো পড়তাম খুব মনোযোগ দিয়ে। ২০০৬ সালের দিকে রাজনৈতিক গোলযোগ, সর্বক্ষেত্রে এক ধরনের অস্থিরতা, শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশৃংখলা, মাদ্রাসা শিক্ষায় অব্যবস্থা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অমসৃণ ভবিষ্যত জীবন জীবিকার পথ। এ ধরনের বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা ভাবিয়ে তোলে আমাকে। লিখে ফেললাম মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থায় নিয়ে একটা প্রতিবেদন। শিরোনাম দিলাম, “তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে” সিদ্দিক ভাইয়ের সাথে আমার হাজব্যান্ডের সম্পর্ক ছিল। আমার লেখাটা নিজে নিয়ে সিদ্দিক ভাইয়ের হাতে দিয়ে আসলেন। সিদ্দিক ভাই আমার লেখাটি পড়লেন প্রশংসাও করলেন। মঙ্গলবারের পত্রিকায় ছাপাও হলো। আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুললেন। তারপর সানজিদা মালেককে পেলাম মাঝে মাঝে ফোনে কথা হতো আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে লিখে চলেছি আজ অবধি। আরও পরে আসমা বিথীকে পেলাম। এভাবে খোলা হাওয়া আর নারী পাতার সাথে গভীর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লাম। এভাবে আজাদী আমাকে লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত করেছে। এটাই আমার জীবনের বড় অর্র্র্জন। আমি কি, কতটুকু লেখক সেটা বড় কথা নয়, আমাকে যে জায়গা করে দিয়েছে সেটাই বড় কথা। নতুনদের জায়গা করে দেওয়া খুব একটা সহজও নয়। দৈনিক আজাদী আমাদের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে বিশ্বাস ও আস্থার জায়গায়। ভালবাসি আজাদীকে। ৬০ বছরের পদযাত্রায় আরও আরও লেখকের জন্ম হোক। সমৃদ্ধি আসুক। শুভ কামনা আজাদী পরিবারের জন্য।

পাঠকদের অন্তরে আজাদী
তসলিম খাঁ

হৃদয়ের গভীর হতে কী দিয়ে আজ দৈনিক আজাদীকে অভিনন্দিত করব তা আমার জানা নেই। দৈনিক আজাদী মুক্তিযুদ্ধ সময়ে যে আলোকবর্তিকা হাতে নিয়ে নতুন রূপে পদার্পণ করল তা এই চট্টগ্রাম তথা বাংলাদেশের নব উদ্দীপনা আর প্রাণচাঞ্চল্যে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল। তারপর হতে দৈনিক আজাদী সুদীর্ঘ জ্ঞানালোকের আদর্শ আলোর উদ্ভাসিত হয়েছে কতজন, তার হিসাব অজানা। দৈনিক আজাদী শিক্ষা, সংস্কৃতি, চরিত্র ও আদর্শের ছাপ পাঠকদের মাঝে রেখে চলছে চিরদিন তা সকলের চলার পথের পাথেয় হয়ে থাকবে। নানাবিধ গুণাবলীতে দৈনিক আজাদী অনন্য অসাধারণ এক কথায়। দৈনিক আজাদী নানাবিধ পদ্ধতি অনেক জটিল বিষয়ও পাঠক মনে অনায়াসে দাগ কেটে গেছে। ফলপ্রসূ সৌহাদ্যপূর্ণ পাঠক মনে যে গভীর রেখাপাত করেছে তা কোন দিনও মুছাবার নয়। জীবনমুখী আদর্শ ধারণ করে এই পথ চলা। আর তাই তো আজ প্রিয় দৈনিক আজাদীর এই চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ। লেখকদের জ্ঞান সমুদ্রের অতল গভীরে লুকানো ছিল অসংখ্য মনিমানিক্য। নিরলস পরিশ্রম আর কঠোর সাধনার মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দিয়েছে দৈনিক আজাদী অকৃপণভাবে। ভবিষ্যতেও প্রতিটি পদক্ষেপ এই চলার প্রেরণা পেয়ে এগিয়ে যাবে। যত দিন এ পৃথিবী থাকবে ততদিন দৈনিক আজাদী সোনার হরফে পাঠকদের অন্তরে গেঁথে থাকুক। সত্য সুন্দরের পক্ষে প্রিয় দৈনিক আজাদীর ৬০তম জন্মদিনে রইল প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। অভিবাদন প্রিয় দৈনিক আজাদী। অভিবাদন দৈনিক আজাদী পরিবারের সকল সাংবাদিক, পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, হকারসহ আরো সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার প্রতি। জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। তাই আবারও বলি, শুভ হোক জন্মদিন প্রিয় দৈনিক আজাদীর।

x