আঘাত না অন্যকিছু?

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ
473

মোহাম্মদ আয়ান। মাত্র ১৩ মাসের শিশু। ফুটফুটে বাচ্চা। দেখলে যে কারো মনে ধরবে এ শিশুকে। দৌঁড়াদৌঁড়ি করে দুষ্টুমি করার বয়স হযনি এখনো। কথা বলার সামর্থ্যও হয়নি । এতটুুকুন বাচ্চার দুই হাত ভাঙা। এ ছাড়া বাম পা ভেঙে গেছে। পাশাপাশি শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আয়ানের শরীরে রক্তের হিমোগ্লোবিন ভয়াবহ রকমের কম। জীবন সংকটাপন্ন দেখে মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত এক ডাক্তারই রক্ত দিলেন। কি কারণে বাচ্চাটির এ অবস্থা। খোঁজ খবর নিতে গিয়ে দেখা গেল হতভাগা এ বাচ্চার মা ক্যানসারে মারা যান তার তিন মাস বয়সে। বাবা আরেকটা বিয়ে করেছেন। সৎ মায়ের ঘরেই লালিত পালিত হচ্ছিল শিশুটি। অভিযোগ উঠেছে সৎ মায়ের বিরুদ্ধে শিশুটিকে মারধরের। তবে আয়ানের বাবা পতেঙ্গা নিবাসী হাসান তালুকদার সন্তানকে মারধরের বিষয়টি মিথ্যে বলে দাবি করেছেন। তার বক্তব্য হচ্ছে, তার ছেলে চেয়ার থেকে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। এখানে অন্য কোন ঘটনা নেই। মা ও শিশু হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে পারছিনা বলেই চমেক হাসপাতালে বাচ্চাকে নিয়ে গিয়েছি। বাচ্চার খিচুনী আছে বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে ডাক্তারদের বক্তব্য হচ্ছে, চেয়ার থেকে পড়ে গেলে হাত পা একসাথে ভাঙ্গতে পারে না।
তাছাড়া চেয়ার থেকে যদি পড়েই যায় তাহলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন থাকবে কেন?
জানা যায়, শনিবার রাতে আয়ানকে আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর চিকিৎসকদের সঙ্গে তার সৎ মা শাপলা মনি ও বাবা হাসান রহস্যজনক আচরণ করে। তাদের আচরণ সন্দেহ হওয়ায় চিকিৎসকরা আয়ানকে নিজেদের জিম্মায় চিকিৎসা দেওয়া শুরু করেন। শিশু হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) সহকারি রেজিস্ট্রার মিশু তালুকদার বলেন, ‘শিশুটির দুই হাত ভাঙা। হাত দুটি প্লাস্টার করা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বাম পা ভেঙে গেছে। সেটি এক্সটেনশন করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আয়ানের রক্তের হিমোগ্লোবিন কম, এজন্য তাকে রক্ত দেওয়া হয়েছে।
ওই শিশুকে রক্ত দেয়া শিশু বিভাগের চিকিৎসক ডা. আফরোজা জানান, শনিবার রাতে আয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়ায় রোববার (১২ মে) দুপুরে তার বাবাকে রক্তের ব্যবস্থা করতে বলা হয়। কিন্তু রাতে ১১টার পরেও তিনি রক্তের ব্যবস্থা করেননি। উল্টো পরেরদিন বিকেলে রক্ত যোগাড় করতে পারবেন না বলে জানান। পরে আমি আয়ানকে রক্ত দিই।
এদিকে মা ও শিশু হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. নুরুল হক জানান, আয়ানের আঘাতের বিষয়টি আমাদের কাছে ষ্পষ্ঠ হওয়ার ব্যাপারটি বুঝতে পেরে তার বাবা এখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। আয়ানকে বিনামূল্যের চিকিৎসা দেয়ার কথা তার বাবাকে জানিয়েছিও। তিনি এতেও রাজি না হয়ে ছেলেকে চমেক হাসপাতাল নিয়ে গেছেন। চেয়ার থেকে পড়ে এভাবে আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। তবুও ছেলেটির উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসকরা যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখিয়েছি। যাতে ছেলেটি বেঁচে থাকে। পাশাপাশি পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, হাসপাতাল থেকে জানানো হলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়। পরে পুলিশ আয়ানকে তার বাবার জিম্মায় দেয়।

x