আগ্রাবাদ, হালিশহর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা এবং সম্ভাব্য সমাধান বিষয়ে কিছু কথা

প্রকৌশলী মোঃ শাহ্‌জাহান মিঞা

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ৭:০৫ পূর্বাহ্ণ
84

আমি ১৯৭৬ ইং সাল থেকে ২০০৯ ইং সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের পুরকৌশল বিভাগের একজন স্নাতক প্রকৌশলী হিসাবে বিবিধ ডিভিশনে কর্মরত ছিলাম। তন্মধ্যে নির্বাহী প্রকৌশলী/পোতাশ্রয় হিসাবে প্রায় সাড়ে ৫ বৎসর কর্ণফুলী নদী ও মহেশখাল এর গতি প্রকৃতি ও কার্যপ্রণালীর সাথে ও বেশ নিবিড় ভাবেই জড়িত ছিলাম বিধায় এ লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস।
প্রতি বৎসর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে অর্থাৎ এই ৬ মাসের প্রতিমাসেই অমাবস্যা ও পূূর্ণিমার সময় বিষয়োল্লিখিত এলাকা সমূহ অন্তত পক্ষে প্রতি বারেই ০৫/০৬ দিন করে অর্থাৎ প্রতি মাসেই মোট ১০/১২ দিন জোয়ারের পানিতে প্রতিনিয়ত প্লাবিত হয় যা মহেশখালের মাধ্যমেই উপরে বর্ণিত এলাকাগুলোতে প্রবেশ করে প্লাবন (Inundation) সৃষ্টি করে।
এ প্রসঙ্গে এখানে উল্লেখ্য যে, ২০১৫ সালের August-September এর দিকে বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের কাছে (RCC-Bridge) এর উজানে তৎকালীন বন্দর চেয়ারম্যান Rear Admiral Nizam Uddin সাহেবের উদ্যোগে যে মাটির বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল তার মাধ্যমে এ জোয়ারের পানি প্রবেশ করা অনেকাংশে রোধ করা গিয়েছিল যার দরুণ উক্ত বাঁধের Upper অংশের লোকজন প্রায় পৌনে ২ (দুই) বৎসর Inundation মুক্ত ছিলেন। কিন্তু তখন আবার কিছুটা অন্য সমস্যা অর্থাৎ মহেশখালে প্রয়োজনীয় Water Flow না থাকায় মশামাছি ও অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব তথা খালের তলানীযুক্ত পানি কাল হয়ে যেয়ে পরিবেশ দূষণের ও সৃষ্টি হয়েছিল। অপরদিকে, বর্ণিত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে Heavy rainfall হয় যা কোন কোন বৎসর প্রবল আকার ধারণ করে তা প্রয়োজন অনুসারে Pumping করে বাঁধের ভেতর থেকে পানি অপসারনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান ও Capacity Pump এর ব্যবস্থা উক্ত বাঁধের সাথে রাখা ছিল না।
যাক এ সকল প্রসংগে বিস্তারিত না যেয়ে বর্ণিত এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমাধান কল্পে আমার দীর্ঘদিনের চিন্তাপ্রসূত কিছু প্রস্তাবনা নিম্নরূপ :
মহেশখালের উপর বিদ্যমান সল্টগোলা RCC-Bridge এর কিছুটা upstream এর সুবিধাজনক স্থানে (আনুমানিক ৩০০-গজ) আগত শুষ্ক মৌসুমেই পর্যাপ্ত Capacity এর একটি Tidal Regulator/Sluice Gate নির্মাণের ব্যবস্থা করা, যার মাধ্যমে আমাদের Requirement অনুযায়ী Tidal Water (জোয়ারের পানি) মহেশখালের মাধ্যমে উপরোল্লিখিত এলাকাগুলোতে ঢোকানো বা বাহির করা যাবে। উপরোক্ত মতে জোয়ারের পানি ভেতরে কি পরিমান বা কোন লেভেল পর্যন্ত ঢোকানো যেতে পারে বা বৃষ্টির পানি কি পরিমান জমা হলে তা বাহির করে দিতে হবে তা একটি Survey করে BM (Bench mark) ঠিক করার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে এবং একই সাথে বর্ণিত এলাকার সকল প্রকার রাস্তা ঘাট ও অন্যান্য স্থাপনার Average লেভেল ও উক্ত BM এর সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে যাতে করে Maximum এলাকাবাসীই বর্তমান Inundation জনিত সমস্যা থেকে অব্যাহতি পান।
বর্ণিত Catchment (বৃষ্টি জনিত) এলাকার বিগত ২০/৩০ বৎসরের Maximum Rainfall data বিবেচনায় নিয়ে কতিপয় Drainage Pumps উক্ত Tidal Regulator/Sluice Gate এর পার্শ্বে স্থাপন করা যেতে পারে যাতে করে Heavy Rainfall জনিত কারণে Water logging সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেই উক্ত Drainage Pumps গুলি কিছুক্ষণের জন্য চালু করা যেতে পারে।
উপরোক্ত ১নং ও ২নং দফায় বর্ণিত কাজে BWDB ’র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে; কারণ আমার জানামতে তাঁহারাই এ বিষয়ে সম্যক ভাবে পারদর্শী।
বর্ণিত এলাকার কতিপয় Drain চিহ্নিত করে সেগুলোর মুখ (Opening) Garbage/আবর্জনা মুক্ত রাখার ব্যবস্থা করতে হবে যাতে করে পানির প্রবাহ সবসময় un-obstructed থাকে।
এতদ ব্যতীত মহেশখাল ও উহার শাখা-প্রশাখাগুলি থেকে বৎসরে অন্ততপক্ষে ১ বার December থেকে March পর্যন্ত সময় dredging করে অথবা Excavator এর মাধ্যমে Sludge remove করে সেগুলোর পানিধারণ ও প্রবাহের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা যেতে পারে, যাতে করে প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় উপরোল্লিখিত Drainage Pumps গুলি কিছুক্ষণের জন্য চালু করে রাখাসহ উপরোল্লিখিত Catchment Area-র-অতিরিক্ত surface runoff কর্ণফুলী নদীতে ভাটার প্রবাহ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত ধরে রাখা যায়।
এ প্রসঙ্গে এখানে উল্লেখ্য যে, কর্ণফুলী নদী একটি Tidal River যাতে ২৪ ঘন্টায় ২ বার জোয়ার ও ০২ বার ভাটা হয় এবং প্রতিটি জোয়ার/ভাটার Duration ০৬ ঘন্টা করে এবং জোয়ার শেষ হওয়া মাত্রই ভাটা শুরু হয়ে যায়। এই জোয়ারভাটা Cycle টি বর্ণিত মহেশখালের সাথেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় প্রায় ৫,৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছি এবং আমার অত্র লেখনী আশাকরি তাঁদের কিছুটা কাজে আসবে।

লেখক : পুরকৌশল প্রকৌশলী (অব:), বর্তমান বিআরটিসি বুয়েট কর্তৃক চট্টগ্রাম বন্দরের সার্ভিস জেটি প্রকল্প কাজে নিয়োজিত

x