আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে সেজেছে রাউজান

পদ নিয়ে কৌতূহল সবার

মীর আসলাম, রাউজান

রবিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
37

রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে ঘিরে উপজেলার সর্বত্র এখন সাজ সাজ রব। উৎসবের আমেজে উপজেলার কার্যালয়ে আসা যাওয়ায় আছেন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীরা। সম্মেলন হবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রাউজান সরকারি কলেজ মাঠে। করা হয়েছে বিশাল প্যাণ্ডেল। সাজানো হচ্ছে বাহ্যিক অঙ্গন। এই সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত হবে উপজেলা কমিটি।
খবর নিয়ে জানা গেছে, দলের তৃণমূলের প্রতিনিধিরা কমিটির নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব দিয়েছেন দলের স্থানীয় অভিভাবক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর ওপর। এ কারণে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদের জন্য কাউকে অন্যান্য বারের মত গ্রুপিং লবিং করতে দেখা যাচ্ছে না। সবাই চেয়ে আছেন নেতার সিদ্ধান্তের দিকে। তবে কেউ কেউ নেতার সুদৃষ্টি আকর্ষণে ঘন ঘন বাসায় গিয়ে হাজিরা দিয়ে আসছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের কমিটি করা হতে পারে নবীণ প্রবীণদের সমন্বয়ে। উপজেলার উত্তর দক্ষিণ সমন্বয় করে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ বণ্টন করা হতে পারে। এক্ষেত্রে দেখা হচ্ছে আপাদমস্তক আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও বিশ্বস্ত নেতা। গুঞ্জন রয়েছে নেতৃত্বে আসতে পারেন তরুণ উদ্যোমী পরীক্ষিত কোনো নেতা। দলের শীর্ষ এই দুটি পদে কারা আসছেন এই নিয়ে এখন সবার মাঝে রয়েছে কৌতুহল। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে যাদের নাম ঘুরে ফিরে আসছে তাদের কেউ এ নিয়ে মন্তব্য না করলেও সবাই বলছেন রাউজানের অভিভাবক যাকেই যোগ্য মনে করবেন তাকেই গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাবেন। উল্লেখ্য, স্বাধীনতার পর থেকে প্রাচীন এই দলের বিশ্বস্ততার সাথে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে প্রয়াত হয়েছেন আবু তাহের রেজভী, মোফাচ্ছেল আহমদ চৌধুরী, মুছামিয়া চৌধুরী, শেখ শামশুদ্দিন আহমদ, সেলিম উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবী, কামাল উদ্দিন আহমদ। অতীতে সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করে এখনো দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ হিসাবে বিভিন্নস্তরে থেকে দায়িত্ব পালন করছেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল ওহাব, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লোকমান হাকিম চৌধুরী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা আবুল কালাম আজাদ।
জানা গেছে, সর্বশেষ নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মরহুম শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বেবী ও মুসলিম উদ্দিন খান। নির্লোভ, নির্যাতিত বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা বেবী চৌধুরী মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন দলের আরেক ত্যাগী নেতা কামাল উদ্দিন আহমদ। তারও মৃত্যু হলে আবার ভারপ্রাপ্ত হয়ে দলের দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম। অপর দিকে সাধারণ সম্পাদক মুসলিম উদ্দিন খান কয়েক বছর ধরে দলের কর্মকাণ্ডে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় আছেন। নেতাকর্মীদের অভিযোগ- তিনি দলের শৃংঙ্খলা ভঙ্গ করে রাউজান উপজেলা আওয়ামী লীগের মধ্যে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তার নোংরা রাজনীতির খেলায় তিনি পরাজিত হয়ে এলাকা ছেড়েছেন। দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা বলেছেন নিজের ফায়দা লুটে নেয়ার জন্য যারা নোংরা খেলায় মেতে দলে গৃহবিবাদ বাধাতে চায়, সে রকম কোনো নেতা নতুন কমিটিতে যেন স্থান না পায়। নতুন কমিটিতে দু’শীর্ষ পদে যাদের আসার সম্ভাবনা আছে তারাও নোংরা রাজনীতি পছন্দ করেন না বলে জানা গেছে। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদে এখন পর্যন্ত যে ৯ জনের নাম ঘুরে ফিরে আসছে তাদের মধ্যে আছেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবদুল ওহাব, সরকারি কলেজ থেকে অবসর নিয়ে বর্তমানে নোয়াপাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ পদে থাকা আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কফিল উদ্দিন চৌধুরী, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ারুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, বর্তমান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জমির উদ্দিন পারভেজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র, উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সদস্য সাইফুল ইসলাম চৌধুরী রানা, নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লায়ন সরোয়ার্দ্দি সিকদার, বাগোয়ানের চেয়ারম্যান ভুপেশ বড়ুয়া, পাহাড়তলীর চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন, ক্যাবল নেটওয়ার্ক ব্যবসায়ী শ্যামল পালিতের নাম। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে যাদের আসার সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে; তাদের মধ্যে আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফরাজ করিম চৌধুরী, প্রয়াত সাংবাদিক প্রাবন্ধিক সিদ্দিক আহমেদ- এর পুত্র সহকারী এ্যাটর্নি জেনারেল সাইয়েফ সিদ্দিকী, যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক আহসান হাবিব চৌধুরী, সাংবাদিক নিরুপম দাশ গুপ্ত, স্ট্যান্ডার ব্যাংকের পরিচালক এসএএম হোসাইন, ব্যবসায়ী শাহজাহান ইকবাল, ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন প্রমুখ।

x