আইসিটি-ইংরেজিতে দিশেহারা ব্যবসায় ও মানবিকের শিক্ষার্থীরা

রতন বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ১৮ জুলাই, ২০১৯ at ৩:৩২ পূর্বাহ্ণ
360

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের উচ্চ মাধ্যমিকের এবারের ফলাফলে বিজ্ঞানে পাসের হার বাড়লেও কমেছে অন্য দুই বিভাগে (ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকে)। আর এই দুই বিভাগের দুর্বল ফলই প্রভাব ফেলেছে বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে। গতকাল প্রকাশিত চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসির ফলাফলে এমন তথ্যই মিলেছে। প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়- গতবার (২০১৮ সালে) বিজ্ঞানের ৭৩.১১ শতাংশের স্থলে এবার বিভাগটিতে পাস করেছে ৮০.০৯ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ বিভাগটিতে গতবারের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে এবার। বিপরীতে পাসের হার কমেছে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকে। ব্যবসায় শিক্ষায় গতবার পাস করে ৬৮.০১ শতাংশ শিক্ষার্থী। এবার বিভাগটিতে পাসের এ হার দাঁড়িয়েছে ৬৪.৮৮ শতাংশ। যা গতবারের তুলনায় ৩.১৩ শতাংশ কম। একই চিত্র মানবিক বিভাগেও। মানবিকে গতবারের ৫১.৬৯ শতাংশের স্থলে ৪৮.৬৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে এবার। হিসেবে বিভাগটিতে ৩.০৪ শতাংশ শিক্ষার্থী এবার কম পাস করেছে।
ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকে গতবারের তুলনায় পাসের হার কমার পেছনে আইসিটি ও ইংরেজির দুর্বল ফলই কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ফলাফল বিশ্লেষণে। একই তথ্য দিয়েছেন শিক্ষাবোর্ড সংশ্লিষ্টরাও। শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলছেন, এবার দুটি (আইসিটি ও ইংরেজি) বিষয়ে দুর্বল ফলের কারণে খুব বেশি পিছিয়ে পড়েছে ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের শিক্ষার্থীরা। অর্থাৎ এই দুই বিষয়ে গতবারের তুলনায় ফল খারাপ হয়েছে। যার কারণে বোর্ডের সার্বিক গড় পাসের হার বাড়েনি। অথচ, এই দুই বিভাগে পাসের হার না বাড়ুক; গতবারের মতো অপরিবর্তিত থাকলেও বোর্ডের সার্বিক ফলাফল আরো ভালো হতো।
ফল পর্যালোচনায় দেখা যায়- চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে ২০১৮ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৮৬.৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে আইসিটি (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) বিষয়ে। তবে এ শাখা থেকে বিষয়টিতে পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে এবার। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে বিষয়টিতে এবার পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৩.৫৪ শতাংশ। যা গতবছরের তুলনায় ৩.৩০ শতাংশ কম। যদিও গতবারের ধারাবাহিকতায় বিষয়টিতে এবারও সবচেয়ে কম পাস করেছে মানবিকের শিক্ষার্থীরা। মানবিক শাখায় আইসিটিতে এবার পাস করেছে ৭৪.২০ শতাংশ শিক্ষার্থী। অথচ, বিজ্ঞান শাখায় এ বিষয়ে পাসের হার ৯৬.৪৬ শতাংশ।
শিক্ষাবোর্ডের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়- ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকের শিক্ষার্থীদের দুর্বল ফলের কারণেই বিষয়টির গড় পাসের হার গতবারের তুলনায় ১.৭২ শতাংশ কমেছে এবার। গতবার বিষয়টির গড় পাসের হার ছিল ৮৩.০২ শতাংশ। যা এবার দাঁড়িয়েছে ৮১.৩০ শতাংশে।
ইংরেজি প্রথম পত্র বিষয়েও যেন একই চিত্র। উচ্চমাধ্যমিকের সবকটি বিষয়ের মধ্যে এবার সর্বনিম্ন পাসের হার এই বিষয়টিতেই। বিষয়টিতে এবার গড় পাস করেছে ৬৮.৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী। গতবার এ বিষয়ে গড় পাসের হার ছিল ৮০.২১ শতাংশ। হিসেবে বিষয়টিতে গতবারের তুলনায় ১১.৭১ শতাংশ কম শিক্ষার্থী পাস করেছে এবার। বিষয়টিতে গড় পাসের হার এই উল্লেখযোগ্য হারে কমার পেছনেও কাজ করেছে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের দুর্বল ফল। শিক্ষাবোর্ডের তথ্য বলছে- ইংরেজির দুই পত্রে মানবিকে এবার গড় পাসের হার ৬৬.৩৭ শতাংশ। অথচ গতবার এ হার ছিল ৬৯.৬৮ শতাংশ। হিসেবে এ শাখায় ইংরেজিতে এবার পাসের হার কমেছে ৩.৩১ শতাংশ। একই ভাবে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় গতবারের তুলনায় ৩.৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে কম পাস করেছে এবার। এ শাখার ৮৪.৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাস করে গতবার। এবার এ হার দাঁড়িয়েছে ৮০.৯১ শতাংশে। অথচ, বিজ্ঞানের ৯৭.০৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে পাস করেছে এবার।
আইসিটি ও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের খারাপ করার পেছনে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ শিক্ষকের অভাবই অন্যতম কারণ বলে মনে করেন শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম। তিনি বলেন, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এ সংকট খুব বেশি। সেখানে দক্ষ শিক্ষক কোথাও পাওয়া যায়না। আর প্রশিক্ষন না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে আইসিটি বিষয়টি অনেক শিক্ষক নিজেরাও বুঝেন না। তাঁরা শিক্ষার্থীদের কি পড়াবেন। যার কারণে এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা খুব বেশি পিছিয়ে থাকছে। আর এসব ফ্যাক্টরগুলো বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার পাসের হার ৬২.১৯ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ হাজার ৮৬০ জন। গতবার পাসের হার ছিল ৬২.৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পায় ১ হাজার ৬১৩ জন।

x