আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে অরূপ শারীরিক অবস্থার আরো উন্নতি

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ
10

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অরূপ বৈদ্যের শারীরিক অবস্থার আরো উন্নতি হয়েছে। গতকাল হাসপাতালের আইসিইউ থেকে তাকে পুনরায় ওয়ার্ডে (ডেঙ্গু) স্থানান্তর করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে অরূপকে দেখতে হাসপাতালে যান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। অরূপের স্বাস্থ্যের উন্নতির তথ্য নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন আজাদীকে বলেন, অরূপকে এতদিন হাসপাতালের আইসিইউতে রাখা হয়। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় বুধবার তাকে আইসিইউ থেকে ওয়ার্ডে নিয়ে আসা হয়েছে।
একই (ডেঙ্গু) ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা অরূপের বাবা সুনীল বৈদ্যের শারীরিক অবস্থাও আগের চেয়ে ভালো। জ্বর ছেড়ে গেলেও এখন পর্যবেক্ষণের জন্য তাকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে জানিয়ে সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে জ্বর ছাড়ার পরবর্তী আরো ৩/৪দিন শঙ্কাময় ও গুরূত্বপূর্ণ। এই কয়দিন রোগীকে সতর্কভাবে বিশ্রামে থাকতে হয়। চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণেও থাকতে হয়। একটু অসতর্ক হলেই বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রামে এ পর্যন্ত যে কয়জন ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন, জ্বর ছাড়ার পর অসতর্কতার কারণেই অধিকাংশের মৃত্যু হয়েছে। সুনীল বৈদ্যের মেয়ে সুমী বৈদ্যেরও জ্বর ছেড়ে গেলে হাসপাতাল থেকে নিয়ে আসা হয়। তারা ভাবছিলেন, জ্বর তো ছেড়ে গেছে, এখন আর ভয় নেই। কিন্তু জ্বর ছাড়ার পরও আরো কয়েকদিন হাসপাতালে রাখা হলে সুমীকে হয়তো বাঁচানো যেতো।
উল্লেখ্য, সুনীল বৈদ্যের গ্রামের বাড়ি রাউজানের ব্রাক্ষ্মনহাটে। তবে পরিবার নিয়ে তারা নগরীর ফয়েস লেক এলাকার আব্দুল হামিদ সড়কের বৈশাখী ভবনে থাকেন। ফয়স লেক প্রবেশ মুখেই একটি ফার্মেসি রয়েছে সুনীল বৈদ্যের। স্ত্রী ও এক ছেলে-এক মেয়ে নিয়ে সুনীল বৈদ্যের সাজানো সংসার। কিন্তু হঠাৎ ডেঙ্গুতে যেন সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার সুনীল বৈদ্যের ্পরিবারের। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সদ্য এইচএসসি পাস করা তার একমাত্র মেয়ে সুমী বৈদ্য (১৯) শনিবার রাতে মারা যায়। এসএসসি পরীক্ষার্থী একমাত্র ছেলে অরূপও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এতদিন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। গতকাল তাকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। আর ছেলে ও মেয়ের পর বাবা সুনীল বৈদ্যের শরীরেও ধরা পড়ে ডেঙ্গু। তিনিও এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

x