আইসিইউতে বাড়ছে শয্যা সংখ্যা

চমেক হাসপাতাল

রতন বড়ুয়া

শনিবার , ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৩:৪২ পূর্বাহ্ণ
68

অবশেষে শয্যা সংখ্যা বাড়ছে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) বিভাগে। সংস্কারের মাধ্যমে আরো ৪টি আইসিইউ শয্যা বাড়াতে উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন। বর্র্তমানে এখানে ১২টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। তবে ভিআইপিদের জন্য সংরক্ষিত একটিসহ বিভাগে মোট শয্যা ১৩টি। সংস্কারের মাধ্যমে আরো ৪টি যুক্ত হলে শয্যা সংখ্যা ১৭টিতে উন্নীত হবে। আইসিইউর শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগের তথ্য নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ।
উল্লেখ্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কয়েক দফা নির্দেশনা ও অর্থ মঞ্জুরির পরও কেবল স্থান সংকটের কারণে আইসিইউর শয্যা সংখ্যা বাড়ানো যায়নি চমেক হাসপাতালে। চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠিত এক শিল্পপতিও নিজ অর্থায়নে এখানে আরো দশটি শয্যা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু স্থান সংকটের কারণেই সেটি আর এগোয়নি। হাসপাতালের বিদায়ী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিনও আইসিইউর শয্যা বাড়াতে কয়েক দফা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ওই চেষ্টাও সফল হয়নি। তবে এবার নতুন করে উদ্যোগের কথা জানালেন হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ।
হাসপাতাল পরিচালক বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামের কয়েক কোটি মানুষের জন্য এই হাসপাতালটিই ভরসাস্থল। বিশেষ করে গরীব-অসহায় রোগী ও মুমূর্ষু রোগীদের জন্য। যার ফলে এখানে একটি আইসিইউ শয্যা বাড়াতে পারাটাও বিশাল ব্যাপার। কিন্তু এখানে স্থান সংকটের পাশাপাশি জনবলসহ আরো কিছু বিষয় জড়িত। তবে সীমাবদ্ধতা থাকলেও সংস্কারের মাধ্যমে এখানে আরো চারটি শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। আর কয়েকদিনের মধ্যেই এখানে সংস্কার কাজ শুরু হবে জানিয়ে মাস দেড়েকের মধ্যেই নতুন চারটি শয্যায় সেবা চালু করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে শয্যা বাড়ানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে আইসিইউ বিভাগ ঘুরে দেখেছেন গণপূর্তের প্রকৌশলীরা। এ তথ্য নিশ্চিত করে আইসিইউ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হারুন উর রশীদ আজাদীকে বলেন, গণপূর্তের প্রকৌশলীরা এসেছিলেন। কোথায়-কিভাবে জায়গা সংস্থান করা যায়, তা খতিয়ে দেখেছেন। একটু কষ্ট করে হলেও জায়গা সংস্থানের মাধ্যমে কয়েকটি শয্যা বাড়ানো সম্ভব হলে চট্টগ্রামবাসী উপকৃত হবেন জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, বিশেষ করে গরীব-অসহায় রোগীরা এতে বড় ধরণের সুফল পাবেন।
প্রসঙ্গত, মুমূর্ষু রোগীদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য আইসিইউ কেবল ভরসাস্থলই নয়, অপরিহার্যও। কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মুমূর্ষূ রোগীদের এখানে বাচিঁয়ে রাখা হয়, বাচিঁয়ে তোলা হয়। কিন্তু বৃহত্তর চট্টগ্রামের চিকিৎসা সেবায় গরীবের একমাত্র ভরসাস্থল হিসেবে পরিচিত চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগে শয্যা সংখ্যা মাত্র ১২টি। ভেন্টিলেটর নষ্ট হলে এর মধ্যে ৪/৫টি শয্যাই প্রায়সময়ই অকেজো হয়ে পড়ে। অর্থাৎ মুমূর্ষূ রোগীর ভরসাস্থল আইসিইউ বিভাগটি নিজেই মুমূর্ষূ হয়ে পড়ে প্রায় সময়। অথচ, হাসপাতালে দৈনিক কম হলেও একশ মুমূর্ষূ রোগীর জন্য আইসিইউ শয্যার আবেদন-অনুরোধ আসে। আর সাধারণ আবেদনকারীর পাশাপাশি অনুরোধকারীর কাতারে থাকেন মন্ত্রী-এমপি এবং সচিবরাও। কিন্তু শয্যা সংকট তো আছেই, পাশাপাশি বিভিন্ন সংকটে যে কয়টি আছে তাতেও ঠিকমতো সেবা দিতে অপারগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগ সূত্রে জানা যায়- প্রতিটি আইসিইউ শয্যায় একটি করে ভেন্টিলেটর (কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসদানের যন্ত্র) থাকে। এই ভেন্টিলেটর ছাড়া মূলত আইসিইউ সেবা অকার্যকর। কিন্তু প্রায় সময়ই কয়েকটি ভেন্টিলেটর অকেজো হয়ে পড়ে। আর ভেন্টিলেটর নষ্ট হলে ওই সব শয্যায় আইসিইউ সেবাও বন্ধ থাকে। নগরীর প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোতে আইসিইউ সেবা নিতে হলে দৈনিক ৩৫ থেকে ৪৫ হাজার টাকা ফি গুনতে হয় রোগীর পরিবারকে। যা গরীব-অসহায় পরিবারের পক্ষে বহন করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। ফলে মুমূর্ষু আইসিইউ’র মতো ধুঁকে ধুঁকে মরতে হয় এসব অসহায় রোগীদের। এ নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় দৈনিক আজাদীতে। স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও সচিবের দৃষ্টি আর্কষণও করা হয়।
সর্বশেষ ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে চমেক হাসপাতালের আইসিইউ বিভাগটি ২০ শয্যায় উন্নীত করণে যা যা করা দরকার তা দ্রুত করার জন্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তৎকালীন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সাথে এক মত বিনিময় সভা থেকে মুঠোফোনে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ দেন মন্ত্রী। স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এ নির্দেশের পর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৫টি আইসিইউ শয্যাসহ অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম ক্রয় বাবদ চমেক হাসপাতালের বিপরীতে প্রায় ১৬ কোটি টাকার অর্থ বরাদ্দ মঞ্জুর করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু অর্থ মঞ্জুরির পরও জায়গা সংকটের কারণে আইসিইউ’র শয্যা সংখ্যা আর বাড়েনি। এখন নতুন করে নেয়া উদ্যোগে সংস্কারের মাধ্যমে মাস দেড়েকের মধ্যে আরো চারটি শয্যায় সেবা চালু করা সম্ভব হবে।

x