আইন মানার সংস্কৃতি চালু করতে হবে

বুধবার , ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৬:০৩ পূর্বাহ্ণ
28

ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সাম্প্রতিক এক আক্ষেপের কথা পত্রিকান্তরে ফলাও করে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘চালকেরা মোবাইলে কথা বলার সময় গাড়ি চালাবেন। পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির সামনে লাফ দিয়ে রাস্তা পারাপার হবেন। ৯৮ শতাংশ মানুষই যদি আইন না মানেন, তাহলে পুলিশ কেন, ফেরেশতা এলেও আইন প্রয়োগ সম্ভব নয়।’ তিনি আরো বলেন, বেশির ভাগ মানুষ অপরাধ করলে পুলিশকে দিয়ে আইন প্রয়োগ করা অসম্ভব। তাই সবার আগে আইন মানার সংস্কৃতি চালু করতে হবে।
ঢাকা পুলিশ কমিশনারের আক্ষেপ কিংবা পুলিশের অপারগতার কথা আমরা যেভাবে জেনেছি, তাতে হতাশ না হয়ে পারা যায় না। এখানে আস্থা বা বিশ্বাসের জায়গাটা বড় নড়বড়ে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রায় কোনো ধরনের বাধা না আসা কিংবা জীবনযাত্রার গতি ব্যাহত না করার বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের দায়িত্ব রয়েছে। এ দায়িত্ব নিষ্কলুষ ও নির্মোহ।
আমরা বুঝতে পারি, আমাদের দেশ গুরুতর আইনশৃঙ্খলা ও সুনীতির সংকটে ভুগছে। এ সংকটের আকৃতি-প্রকৃতি ও এ সংকট থেকে উত্তরণের উপায় উপলব্ধি করা জরুরি। ৯৮ শতাংশ মানুষ যেমন করে হোক, আইন মেনে না চলার ঘটনাটি দুঃখজনক। আমাদের দেশ যেভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে, দুর্নীতি ও অপরাধের সর্বগ্রাসী ভয়াবহ পরিণতি থেকে পরিত্রাণ করা গেলে, তা বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিগণিত হবে। বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে অনেকগুলি মতামত ব্যক্ত করেছেন ইতিমধ্যে। তাঁরা বলেছেন, সকল সমস্যা সমাধানের কাজ এক সাথে হাত না দিয়ে প্রথমে একটা সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দিতে হবে। তারপর একটা কাল পরিক্রমা ধরে এই মনোনিবেশস্থল সম্প্রসারিত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা ও শাসনের প্রশ্নটি সহজাত কারণেই বহুখাত জোড়া কিংবা সর্বাঙ্গীণ। তাই এ খাতে সংস্কার কার্যক্রম সমূহের আওতায় ব্যাপক পরিসরে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে অনেকগুলি খাত, নীতিমালা ও প্রতিষ্ঠান। তাই কৌশলগত অগ্রাধিকার, কৌশলগত সুযোগ সুবিধা, অনুকূল সুযোগ কিংবা যেসব জায়গায় পরিবর্তনের সমর্থক আছে, সেসব জায়গাতেই সংস্কার দরকার রয়েছে।
আমরা একটা বিষয়ে দ্বিধাহীনভাবে বলতে চাই, সেটা হলো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা কিংবা সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি নেই। প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য হলো ‘বাসযোগ্য দেশ’। সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে সরকার। যতটা শক্তি ও সামর্থ্য আছে, তা দিয়ে মোকাবেলায় তৎপর বর্তমান সরকার।
একথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে বাংলাদেশে সুশাসনের প্রাসঙ্গিকতা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। সরকার মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে। তেমনিভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধেও তাঁদের অভিযান শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়ন ঘটছে। এই উন্নয়ন-সম্পর্কিত চিন্তাধারা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। এই দ্রুত পরিবর্তনশীল দৃশ্যপটে একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর বুনিয়াদে আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের আশাও দেখা দিয়েছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার সুষ্ঠু পরিবেশ ও সুশাসনের ওপর। আমাদের দেশের নাগরিকরা যত বেশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন, আইন মেনে চলবেন; ততই উন্নয়ন চাক্ষুষ হবে। দেশের জনগণের নির্বিকার উদাসীনতা ঝেড়ে ফেলার লক্ষ্যে আইনের প্রয়োগ ও শাসন সম্পর্ক অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক অঙ্গীকার, ঐকান্তিক সদিচ্ছা ও বলিষ্ঠ প্রত্যয়।
পুলিশ কমিশনার আইন না মানার বিষয়ে আরো বলেন, গত পৌনে পাঁচ বছরে বাসের মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আমি বারবার বসেছি। বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজেছি। কিন্তু এর সঙ্গে এদের বাইরেও সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসাসহ অনেক সংস্থা জড়িত। সব সংস্থার সমন্বয়ের অভাবে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। যত্রতত্র গাড়ি না থামানো, বিনা কারণে হর্ণ না বাজানোসহ অনেক কিছু বন্ধ করার জন্য আন্তরিকতা থাকতে হবে।

x