অ ন্ধ কা র ম হা শূ ন্য

মিঠুন গুপ্ত

বুধবার , ৩ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ
29

দীর্ঘ রাতের পর সকাল আসে। ভোর হতেই সুয্যিমামা উঁকি দেয় পূর্ব আকাশে। আলোতে উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে চারদিক। পাখিরা গান গায়। কৃষক মাঠে যায়। পাল তুলে নৌকা ছোটে। মানুষজন যে যার কাজে চলে যায়। আবার দুপুর হয়। দুপুর গড়িয়ে বিকেল। একসময় সন্ধ্যা মাঠে গড়ায়। আবার সূর্যাস্তের পর চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। সাধারণত আমরা প্রকৃতির এ নিয়ম দেখে থাকি। সত্য বলে জানি। কিন্তু এটা শুধুমাত্র পৃথিবীর জন্য সত্য। বন্ধুরা আমরা তো জানি, মহাকাশে রয়েছে অসংখ্য গ্রহ, উপগ্রহ, নক্ষত্র। সৌরজগতের পঞ্চম বৃহত্তম গ্রহ হলো পৃথিবী। একমাত্র পৃথিবীতেই সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত অথবা দিন-রাতের দেখা মেলে। পৃথিবীর বাইরে আছে শুধু অবারিত রাত। মহাকাশযানে পৃথিবীর বায়ুমন্ডল অতিক্রম করার পরই শুরু হয় অন্ধকার আর অন্ধকার। সূর্য দেখা যায় বটে তবে যেটা দেখা যায় সেটা আসলে সূর্য থেকে আগত আলোকরশ্মি মাত্র। রাতের অন্ধকারে আকাশে যেমন তারা জ্বলতে দেখা যায়, মহাশূন্য থেকে তেমনি সূর্যকেও একটি বিশেষ তারা হিসেবে জ্বলতে দেখা যায়, যার আলো অন্য তারা থেকে হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল। কিন্তু সূর্যের উজ্জ্বল আলো থাকা সত্ত্বেও চারদিক থাকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। মহাশূন্যে বায়ুমন্ডল না থাকার কারণেই সেখানে সব সময় অন্ধকার থাকে। পৃথিবীতে বায়ুমন্ডল থাকায় অসংখ্য ধূলিকণা বাতাসে ঘুরে বেড়ায়। সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসার সময় এই সব ধূলিকণায় প্রতিফলিত হয় বলেই চারদিক আলোকিত হয়ে ওঠে। কিন্তু মহাশূন্যে ধূলিকণা না থাকায় চারপাশ আলোকোজ্জ্বল হয়ে উঠতে পারে না। তাই মহাশূন্য সব সময় অন্ধকার থাকে।

x