অ্যাটাকিক সেরিব্রাল পালসি

মো. মুজিবুল হক শ্যামল

শনিবার , ২৫ মে, ২০১৯ at ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ
65

রাহিদুল আলম বয়স ১৩ দেখে মনে হয় সুস্থ-সুন্দর শাবলীল কথা-বার্তা, বলতে গেলে পিতা-মাতার অবহেলিত একমাত্র সন্তান। রাহিদুল এপর্যন্ত আসতে পেরেছে তার দাদীর আদর ও সহযোগিতার কারনে। সবাই প্রথমে দেখে মনে করবে কতো সুন্দর ছেলে কিন্তু রাহিদুল জন্মগতভাবে শরীরে বহন করছে এ্যাটাকিক সেরিব্রাল পালসি (এসিপি)। সেরিব্রাল পালসির অনেকগুলো শ্রেণীবিভাগ থাকলেও তারমধ্যে শেষ পর্বটা হলো অ্যাটাকিক সেরিব্রাল পালসি। এই রোগ যাদের হয় তারা জন্মগতভাবে বিকলাঙ্গ থাকে/ অর্থাৎ হাত-পা ছড়িয়ে এলোমেলো ভাবে হাঁটে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। হাত-পা এবং কোমরে শক্তি থাকে না, স্বাভাবিক মানুষের মতো কিছু করতে পারে না, কারও সহযোগিতা ছাড়া জীবন অচল। এদিক থেকে রাহিদুল ভাগ্যবান সে দাদাীর মতো একজনকে পেয়েছে। তবে জীবনের শুরু থেকে ভালো চিকিৎসা পেলে অন্ততপক্ষে কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে আনা সম্ভব। তবে তার দাদী জন্মের প্রথম দিন থেকে যে যা বলছে সব কিছুতে ও সব স্থানে চিকিৎসা করিয়েছেন, কোন উপকার হয়নি। অনেক বড় বড় ডাক্তার দেখানোর পর আমার সেন্টারে এসে উপস্থিত।
আমি রাহিদুলের সবগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখলাম এবং তাদের মোটামুটি আস্থা দিতে থাকলাম ১০০% ভালো করা সম্ভব না তবে আমি চেষ্টা করতে পারি বাকিটা আল্লাহ জানেন। আমার বডি রিহ্যাব ফিজিওথেরাপি’তে আসার পর আমি রাহিদুল’কে নিয়ে কিছুদিন রীতিমত গবেষণা শুরু করি। তবে প্রায় আড়াই মাস থেরাপি দেয়ার পরও তেমন কোন ভালো কিছু দেখানো সম্ভব হয়নি। তবে আমি রাহিদুল’কে একটি (অর্ডার দিয়ে বানানো) কোমরে করসেট বেল্ট বাইন্ডিং করার পর মোটামুটি শক্তি পাচ্ছে। সে হাঁটার শক্তিটা আসছে কোমরে। এর মধ্যে আমি আরেকটি জিনিস আবিষ্কার করলাম সেটি হলো উন্নত বিশ্বে হোন্ডা কোম্পানির কিছু স্পিন্ট (হুন্ডা ওয়াকিং সার্পোট ডিভাইস) আছে যার সাহায্যে এ ধরনের রোগীরা ভালো করে হাঁটতে পারে নিজে নিজে, মোটামুটি ৫০% স্বাভাবিক আসা যায় তবে অনেক এক্সপেনসিভ। অন্য কোন উপায়ে এ ধরনের রোগী স্বাভাবিক জীবনে আসা সম্ভব না। তবে আমি বলব জন্মের পর পর যদি ভালো চিকিৎসার আওতায় আনা যায় তবে ভাল হওয়া সম্ভব। বর্তমানে আমাদের সমাজে অনেক ধনী আছেন যারা এ ঈদে যাকাতের জন্য অনেক কিছু গরিবদের মাঝে দান করবেন, তাই আমি আপনাদের বলছি যদি সামান্য সহযোগীতার হাত বাড়ান তাহলে রাহিদুল কিছুটা হলেও শান্তি পাবে।

x