অহিংস আন্দোলন ও আইনি লড়াই একসাথে চলবে : ফখরুল

ঢাকা ব্যুরো

শনিবার , ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৩:৫৩ পূর্বাহ্ণ
217

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৫ বছরের জেল। তিনি ইতোমধ্যে কারাগারে আছেন। দলের নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমান দেশের বাইরে। তিনিও দণ্ডপ্রাপ্ত। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধেই আরো বেশকিছু মামলা রয়েছে। কেন্দ্রীয়সহ দলের বিভিন্নস্তরের নেতাকর্মীরা জেলে। বছর শেষে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ অবস্থায় একাধিকবার ক্ষমতায় থাকা এ দলটি এখন কী করবে? এ প্রশ্ন দলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মনেও উঠেছে। দলের প্রধান ব্যক্তিকে কারাগারে নেয়ার পরও সারাদেশে বিএনপির আন্দোলনের চিত্র দেখে অনেকে হতাশা ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভয়ে আন্দোলনে নামছে না। আবার কেউ বলছেন, সংহিসতা ঠেকাতেই বিএনপি ধীর স্থীরভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। তবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও আইনগতভাবে মোকাবেলা করবে তারা। এতে বিএনপি আরো ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে তারা। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করে ছাত্রসংগঠনগুলো। বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল আগে থেকেই অনেকটা নিষ্ক্রিয় ছিল। গতকাল শুক্রবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসানকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও যারা আন্দোলনের হাল ধরবেন তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। আর বিএনপির প্রধান ব্যক্তি কারাগারে থাকায় দলটির মধ্যে ভাঙ্গন সৃষ্টি হয় কি না? এ প্রশ্নও রয়েছে অনেকের মনে। তবে দলের নেতারা তা মনে করেন না।

বিএনপি এখন কিভাবে মোকাবেলা করবে এ বিষয়ে দলটির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা আইনগত এবং রাজনৈতিক উভয়ভাবেই এর মোকাবিলা করবেন। উদ্দেশ্যমূলকভাবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট করার জন্য তাকে কারাগারে নেয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলার মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী নিজেই বলে গেছেন, ‘আমার মুক্তির জন্য, গণতন্ত্রের জন্যে, আসন্ন নির্বাচনের জন্যে আমাদের যে আন্দোলন, সেই আন্দোলন হবে অহিংস, সেই আন্দোলন হবে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক’। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সনের দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ও আইনগত পদ েপের মাধ্যমে এগিয়ে যাব। দল পরিচালনায় কোন সমস্যা হবে না বলেও তিনি জানান।

বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, বেগম জিয়া কারাগারে থাকা অবস্থায় গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান চেয়ারপার্সনের দায়িত্বে আসেন। তার সাথে যোগাযোগ করেই দলের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আর বেগম জিয়া কারাগারে থাকলেও তো ঢাকায়ই আছেন। তার নেতৃত্বেই বিএনপি ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে।

x