অর্শ রোগ চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথি

ডা. রতন চক্রবর্তী

শনিবার , ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
571

অর্শ বা পাইলস কি? মলাশয়ের নিম্নাংশ বা মলদ্বারের শিরাগুলো ফুলে গেলে সেগুলোকে অর্শ বা পাইলস বলে। এই অর্শ মলদ্বারের অভ্যন্তরে হতেও পারে আবার বাইরেও হতে পারে।অর্শ কেন হয়? অর্শের সঠিক কারণ জানা না গেলেও নিম্নলিখিত কারণ হতে পারে।
১। পরিবারে কারও পাইলস থাকা, ২। বৃদ্ধ বয়স, ৩। টয়লেটে বেশী সময় ব্যয় করা, ৪। দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, ৫। শরীরের অতিরিক্ত ওজন, ৬। শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং পানি কম খাওয়া, ৭। মল ত্যাগে বেশী বেশী চাপ দেওয়া।
অর্শ্বের লক্ষণ সমূহ

ক) মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া খ) পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া গ) কোনো কোনো ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে ঘ) মলদ্বারে ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে। যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে।
অর্শ্ব রোগে
আক্রান্তদের করণীয়

ক) হাতুরে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা না করা। খ) নিয়মিত পায়খানা করা। গ) পেটে হজম হতে চায়না এমন খাদ্য বর্জন করা। ঘ) প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো। ঙ) কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করা।
কি খাবেন

শাকসবজি, ফলমূল, সব ধরনের ডাল, বেল, আপেল, কমলা, ডিম, মাছ, লেবু, পাপা পেঁপে, গাজর, দধি, মাছ, মুরগিমাংস এ জাতীয় টক ফল।
কি খাবেন না

গরু, খাসি ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবার চা, কফি, মাখন, আইসক্রীম, কোমলপানীয়, সব ধরনের ভাজা খাবার না খাওয়া ভাল।
প্রতিরোধের উপায়

কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা
অধিক মসল্লা জাতীয় খাদ্য পরিহার করা
তরল ও সহজপাচ্য খাদ্য গ্রহণ করা
পরিমাণ মতো পানি পান করা। নিয়মিত ঘুমানো।
মুক্তির উপায়

নিজেকে সুস্থ রাখতে হলে অবশ্যই নিজেকে সতর্ক থাকতে। খাওয়া-দাওয়া বেছে খেতে হবে। গো-মাংস ইলিশমাছ, চিংড়িমাছ, নারকেল না খাওয়ায় ভালো। তৈলাক্ত জাতীয় ফাস্টফুডের খাবার, ফাস্ট ফুড, বিরানী না খাওয়া, খাবারের সাথে লেবুর রকস খাবেন।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

হোমিওপ্যাথিক রোগ নিরাময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে ব্যক্তি স্বতন্ত্র ও সদৃশ উপসর্গের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা করা হয়। এটি উপসর্গ ও জটিলতা মুছে ফেলে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় রোগী ফিরে যাবার একমাত্র উপায়। সদৃশবিধানের লক্ষ্য শুধু অর্শ চিকিৎসা নয়, তা অন্তনির্মিত কারণ ও স্বতন্ত্র প্রবণতা মোকাবেলায় ও সহায়তা করে। তাই রেজিস্টার্ড হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারের পরামর্শ করা উচিত।

x