অমিয় চক্রবর্তী: সজাগ শিল্পী, মুক্তমনা বিশ্বপথিক

মঙ্গলবার , ১২ জুন, ২০১৮ at ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
13

অমিয় চক্রবর্তী ণ্ড বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধুনিক কবি হিসেবে খ্যাতিমান। মুক্তমনা ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অমিয় সমাজ, দেশ ও কালের প্রতি ছিলেন অত্যন্ত সজাগ। তাঁর রচনায় এর স্পষ্ট প্রভাব লক্ষ করা যায়। আজ কবির ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী।

অমিয় চক্রবর্তীর জন্ম ১৯০১ সালের ১০ এপ্রিল হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে। ১৯২৬ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম স্থান সহ এম.এ পাশ করেন তিনি। ১৯৩৭ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডি. ফিল উপাধি পান। দর্শন ও উদ্ভিদবিদ্যারও পাঠ নিয়েছিলেন অমিয়। পারিবারিক আবহ ছিল রুচিশীল ও সংস্কৃতিমনস্ক। তাঁর সাহিত্য জীবনের সূচনা ছেলেবেলা থেকেই। বাবার নিজস্ব সংগ্রহ থেকে দেশবিদেশের বহু বই তাঁর পড়া হয়ে গিয়েছিল। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের সাথে ছিল অন্তরঙ্গতা। শান্তিনিকেতনের গবেষণা বিভাগে কাজ করেছিলেন অমিয়। ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ও বিশ্বভারতীর নানা কর্মপ্রবাহের সাথে যুক্ত। রবীন্দ্রনাথ, এইচ.জি.ওয়েলস, রমা রোল্যাঁ, জর্জ বার্নার্ড শ প্রমুখ লেখক ও মনীষীর সাথে তাঁর নিয়মিত পত্রবিনিময় হতো। দীর্ঘ সময় প্রবাসে বসবাসের কারণে তাঁর রচনায় পাশ্চাত্যের কিছু প্রভাব লক্ষ করা যায়। তবে এই আন্তর্জাতিকতা দেশ ও সমাজের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। সংগীতের প্রতিও কবির আকর্ষণ ছিল নিবিড়। কলেজে পড়ার সময় বেশ কিছুকাল সেতার শেখেন। বিথোফেন এবং রাশিয়ার সংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। ছাত্রাবস্থায় মিশনারিদের সাথে গ্রামে গ্রামে ঘুরতেন গরিব দুঃখীদের সাহায্য ও সেবা দিতে। অমিয়র কবিতা প্রতিমা নির্ভর, বিষয় বৈচিত্র্যে অনবদ্য। তাঁর গদ্য সাহিত্যও এক বিশিষ্ট রীতিতে অনন্য। অমিয় চক্রবর্তীর কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘খসড়া’, ‘একমুঠো’, ‘মাটির দেয়াল’, ‘অভিজ্ঞান বসন্ত’, ‘পারাপার’, ‘পালাবদল’, ‘ঘরে ফেরার দিন’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ‘চলো যাই’, ‘সাম্প্রতিক’, ‘পুরবাসী’, ‘পথ অন্তহীন’ প্রভৃতি তাঁর গদ্য রচনা। ১৯৮৬ সালের ১২ জুন শান্তিনিকেতনে অমিয় চক্রবর্তীর মৃত্যু হয়। সাহিত্যে দেশজ ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার যোগসূত্র স্থাপনে তিনি অনন্য এক কবি।

x