অমিতাভ কালচারাল সোসাইটির আয়োজন আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে

শ্যামল চৌধুরী

বৃহস্পতিবার , ২৯ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
53

প্রকৃতি ও মানবহৃদয়ের মেলবন্ধনে স্নিগ্ধসিক্ত এক পরিবেশে গত ৪ আগস্ট ২০১৯, রবিবার সন্ধ্যায় নগরের নন্দনকাননস্থ ফুলকি মিলনায়তনে ‘অমিতাভ কালচারাল সোসাইটি’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বর্ষার গান নিয়ে ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে’ শিরোনামে সংগীতানুষ্ঠান। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই কুমার ভট্টাচার্য। সংগঠনের মহাসচিব শ্যামল চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের পর অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী উজ্জ্বল বড়ুয়া ও সজীব বড়ুয়া ডায়মন্ড। অতিথিবৃন্দ তাদের বক্তব্যে বলেন- বাংলা সাহিত্যে একমাত্র বর্ষারই বহুবিধ, বিচিত্র ও সার্থক ব্যবহার হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ছাড়িয়ে অনেক কবি-সাহিত্যিকগণ বর্ষাকাল নিয়ে অনেক কবিতা-গান লিখেছেন।
আবৃত্তিশিল্পী স্বপ্নীল বড়ুয়া ডানার সাবলীল উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ১৪ জন শিল্পীর মোট ১৫টি গান পরিবেশিত হয়। প্রথমেই সমবেত কণ্ঠে শিল্পীরা পরিবেশন করে রবীন্দ্রনাথের ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে’ গানটি।
পুরো মিলনায়তন তখন কানায় কানায় দর্শক পরিপূর্ণ। শুরু হয় একক পরিবেশনা। একক পরিবেশনার প্রথমে সেঁজুতি বড়ুয়ার কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথের ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদর দিনে’ গানটি দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তিতলী বড়ুয়া পরিবেশন করেন হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘আমার আছে জল’ গানটি। সপ্তর্ষি বড়ুয়া পরিবেশন করেন রবীন্দ্রনাথের ‘পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে’ গানটি। গৌরিপ্রসন্ন মজুমদারের কথায় নচিকেতা ঘোষ সুরারোপিত মান্না দের কালজয়ী বর্ষার গান ‘ওগো বরষা তুমি ঝরো নাকো অমন জোরে’ গানটি শিল্পী স্নিগ্ধনীল বড়ুয়া পরিবেশন করে দর্শকদের চিত্তে প্রশান্তির অন্যরকম ছোঁয়া সৃষ্টি করে। গীতিকবি কাওসার আহমেদ চৌধুরী লিখেছেন, ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়লো’ লাকী আখন্দ সুরারোপিত নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর মধুর কণ্ঠে গানটা শুনতে শুনতে হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে! সেই জনপ্রিয় গানটি পরিবেশন করেন শিল্পী প্রত্যুষা বড়ুয়া।
হৈমন্তী শুক্লার কণ্ঠে হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সুরারোপিত ‘ওগো বৃষ্টি আমার চোখের পাতা ছুঁয়ো না’, আমার এত সাধের কান্নার দাগ ধুয়ো না’ কষ্ট না ধোয়ার আহবান। কালজয়ী এ গানটি পরিবেশন করেন শিল্পী সমাপ্তি বড়ুয়া। সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘আকাশ এতো মেঘলা, যেও নাকো একলা’ অদ্ভুত এক ঘোর তৈরি করে ভেতরে ভেতরে। শিল্পী প্রিয়তি বড়ুয়ার কণ্ঠে এ গানটি ছিল মনোমুগ্ধকর।
শিল্পী পাপড়ি মুৎসুদ্দী পরিবেশন করেন মো. ওবায়দুল্লাহ’র লেখা ও বাণী কুমার চৌধুরীর সুরে মৌলিক গান ‘ঝিরি ঝিরি অবিরাম বারি’ গানটি। তার মোহনীয় সুরের কণ্ঠে গানটি দর্শকদের মাঝে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়িয়ে বর্ষা ছড়িয়ে যায় আরও অনেক কবি, গীতিকবির ভেতর। সেই ধারাবাহিকতায় কবি কাজী নজরুল ইসলামও কম যান না। আর তাই এবার শিল্পী বিপুল বড়ুয়ার কণ্ঠে নজরুলের ‘পরদেশী মেঘ যাওরে ফিরে’ গানটি দর্শকদের বর্ষার ঘোর অমানিশাকে মনে করিয়ে দেয়। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা, ‘এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন, কাছে যাবো কবে পাবো ওগো তোমার নিমন্ত্রণ।’ হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে গানটা শুনতে শুনতে কিছুটা হলেও উতলা হন অনেকে। বৃষ্টির সঙ্গে এ এক আজব খেলা। এবার শিল্পী চন্দন বড়ুয়ার কণ্ঠে গানটি উপস্থিত দর্শকদের সত্যিই কিছুক্ষণের জন্য উতলা করে দেয়।
নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর মধুর কণ্ঠের গান ‘একি রিম ঝিমঝিম বৃষ্টি এলো’ এবার শিল্পী সুমন বড়ুয়ার কণ্ঠের কারুকাজে পরিবেশনায় দর্শকদের বিপুল আনন্দ দেয়। এ সময় দর্শকরাও গুনগুন করে গানটি গেয়ে ওঠেন। ব্যান্ডদল ‘ডিফারেন্ট টাচ’র ১ম এ্যালবামের ‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে’ আজো সংগীতপ্রেমীদের মনে জায়গা ধরে রেখেছে। শিল্পী সুরঞ্জন মুৎসুদ্দীর এ গানটি পরিবেশনায় ছিল যেন বৃষ্টির সিক্ত পরিবেশে মধুর আলিঙ্গন। শিল্পী বিজয় তালুকাদর পরিবেশন করেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের কালজয়ী গান ‘কতদিন পরে এলে, একটু বসো’ গানটি। দেখতে দেখতে অনুষ্ঠানের প্রায় তখন শেষের দিকে। শ্যামল গুপ্তের লেখা ও সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের সুর ও কণ্ঠে ‘হায় বরষা এমন ফাগুন কেড়ে নিওনা’ এ জনপ্রিয় গানটি আজো সবার মুখে মুখে। সবশেষে এ গানটি পরিবেশন করেন শিল্পী নিখিলেশ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানের প্রায় প্রতিটি শিল্পীর পরিবেশনায় উপস্থিত দর্শকদের নিঃসন্দেহে মুগ্ধ ও আলোড়িত করেছে।
সমগ্র অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শ্যামল চৌধুরী ও সংগীত পরিচালনায় ছিলেন সুমন বড়ুয়া। যন্ত্রানুসঙ্গে ছিলেন কী বোর্ডে নিকিলেশ বড়ুয়া, তবলায় প্রীতম আচার্য্য, অক্টোপ্যাড বিপ্লব দাশ, বেস গীটারে গৌরব বড়ুয়া।

x