অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গনের গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে

সনেট দেব

বৃহস্পতিবার , ১৮ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ
40

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর লেখনিতে বলেছেন, ‘জীবনের অনেক কবিতা লিখলুম, ছবিও কম আঁকলুম না। কিন্তু গান গেয়ে যে আনন্দ পেয়েছি সে আর কোন কিছুতেই পাইনি।’ রবীন্দ্রনাথের সন্ধানী মনে সুরময় যে আকুতি, যেখানে সুরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে আত্মোপলব্ধির আনন্দ। ঠিক কবিগুরুর সুরের সঙ্গে ঠিক এগারোটি বছর বসবাস করে আসছে চট্টগ্রামের রবীন্দ্রসংগীতের অন্যতম প্রতিষ্ঠান অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গন। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শ্রেয়সী রায়ের পরিচালনায় সংগঠনটি সম্প্রতি বারো বছরে পা রাখলো।
অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গন সংগঠনের একাদশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গানে গানে তব বন্ধন যাক টুটে’ শিরোনামে ৩ দিনের রবীন্দ্রসঙ্গীত উৎসব আয়োজন করেছে গত ১৪, ১৫, ১৬ মার্চ জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রাম মিলনায়তনে। আয়োজিত উৎসবে প্রথমদিন ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় তিন দিনের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর এমপি। উদ্বোধনী সন্ধ্যায় শিল্পী ও সঙ্গীত গুরু ওয়াহিদুল হকের স্মৃতি প্রতি শ্রদ্ধা জানান শিল্পী শ্রেয়সী রায় এবং এরপর সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সুমন বসাক অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে সবাইকে স্বাগত জানান। এরপর অভ্যুদয়ের সভাপতি শিল্পী প্রদ্যোৎ মজুমদারের সভাপতিত্বে প্রাণবন্ত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন আসাদুজ্জামান নূর এমপি এবং নাট্যজন সাইফুল আলম বাবু। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান।
এরপর একক এবং সম্মেলক রবীন্দ্রগান পরিবেশন করে অভ্যুদয়ের শিল্পীবৃন্দ। একে একে পরিবেশিত হয় ‘অমৃত সাগরে’ ‘অসীম ধন তো তোমার আছে’, কোলাহলতো বারণ হোল’ আমি নিশিদিন তোমায় ভালবাসি’ যতবার আলো জ্বালাতে চাই’ ইত্যাদি পনেরটি গান। অভ্যুদয়ের সম্মেলক সঙ্গীতগুলো পরিবেশনার গুণে সেদিন অসামান্য হয়েছিল। সমবেত সংগীতে অংশগ্রহণ করেন কামনাশীষ সেনগুপ্ত, এলড্রিন ডি ক্রাউলি, প্রিয়ম বিশ্বাস, শিল্পী রায়, বিনা পালি, নিপর্ণা মুখার্জী, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, লিয়া গিলবার্ড, সঙ্গীত তালুকদার, ঋতু সাহা, সুদেষ্ণা নন্দী, তিনা বড়ুয়া, ময়ুরী দাশগুপ্তা, অন্তিকা দাশগুপ্তা, শুচিস্মিতা চৌধুরী, মেঘা কানুনগো, মুনমুন সেন, অনুদীপ্তা ভট্টাচার্য, অনিন্দিতা দে, ঐন্দ্রিলা কানুনগো, হৃদিতা চক্রবর্তী, পূর্ণা মল্লিক, কথক দাশ, সুষ্মিতা হাওলাদার, পূজা বণিক, মধুলিকা মণ্ডল, তৃষা দাশ, শিবিকা পাল, নন্দিতা মণ্ডল খেয়া, শ্রীপর্ণা মজুমদার। অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র রচনা থেকে পাঠ করেন সেঁজুতি দে।
উৎসবের দ্বিতীয় দিন ১৫ মার্চ সন্ধ্যায় আয়োজনে অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর শিরিন আখতার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী ঈষিতা মুখার্জি এবং বহরমপুরের সাংস্কৃতিক সংগঠক শিক্ষাবিদ চন্দ্রানী সেনগুপ্ত। এ সন্ধা সঙ্গীতায়োজনের শিরোনাম ‘অনুভবে জেনেছিলেম’। রবীন্দ্রনাথের গানের একক এবং দ্বৈত পরিবেশনায় ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পী শ্রীমন্ত সাহা এবং অভ্যুদয় সঙ্গীত অঙ্গনের পরিচালক শিল্পী শ্রেয়সী রায়। শুরুতে শ্রেয়সী রায় পরিবেশন করেন আমারে তুমি অশেষ করেছ। আমি বহু বাসনায় প্রাণপণে চাই ইত্যাদি এবং শ্রীমন্ত সাহা গেয়েছেন ‘যখন এসেছিলেম অন্ধকারে, ফল ফলাবার আশা রাখি ইত্যাদি গান।
উৎসবের শেষ দিন ১৬ মার্চ পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ ও ভারতের দুই উদীয়মান নবীন শিল্পী সুকান্ত চক্রবর্তী এবং অরিজিৎ মজুমদার। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ‘হোক গানে গানে বিনিময়’। দ্বৈতকণ্ঠে শিল্পীরা প্রথমে পরিবেশন করেন। ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ এরপর ‘জগতে আনন্দযজ্ঞে’ ‘এ পোহাইল তিমির রাতি’ রবীন্দ্রনাথের ভাঙ্গগান। অনুষ্ঠানের প্রথমপর্বে আলোচনা সভায় অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান, অধ্যাপিকা রীতা দত্ত এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ডা. রণজিৎ রায় চৌধুরী। সঞ্চালনা করেন আবৃত্তি শিল্পী মিলি চৌধুরী। ৩ দিনের অনুষ্ঠানে যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বেহালায় শ্যামল চন্দ্র দাশ ও রিকি বসাক, কি-বোর্ডে নিখিলেশ বড়ুয়া, তালবাদ্যে রনি চৌধুরী।

x