অভিযান চালালেও থেমে নেই ভেজাল ওষুধ তৈরি

শুক্রবার , ৩ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
36

ভেজাল ওষুধের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও থেমে নেই ভেজাল ওষুধ তৈরি। আসল হোতারা ধরাছোঁয়োর বাইরে থাকায় জনস্বাস্থ্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভেজাল ওষুধে কেবল বড় ওষুধ কোম্পানী গুলোই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না শিশু ও মহিলাসহ বহু মানুষের প্রাণহানি এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে। ওষুধ কিনে ও চিকিৎসা না হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুসারে ওষুধ কিনে সেবন করে রোগীরা। কিন্তু সে ওষুধই এখন জীবন কেড়ে নিচ্ছে । ভেজাল ওষুধে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। দেদার বিক্রি হচ্ছে ওষুধের দোকানে। অনেকেই এই ওষুধ সেবন বা ব্যবহারের পর আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কিন্তু এদের দমন বা নিয়ন্ত্রণে জোরদার কোন উদ্যোগ নেই। ফলে ভেজাল ওষুধ খেয়ে অল্প দিনের মধ্যেই বিকল হয়ে যাচ্ছে কিডনি, হার্ট ও লিভার। এক শ্রেণির অসৎ ও মুনাফালোভী ব্যবসায়ী বিক্রি করছে এই ভেজাল ওষুধ। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এই ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ব্যবসা জমজমাট। জানা যায়, সারাদেশে লাখ লাখ ওষুধের দোকানে রয়েছে, আইনের হাত থেকে বাঁচার জন্য তাদের লাইসেন্স আছে ঠিকই তবে অনেক কোম্পানির ওষুধের গুণগত মান নেই। অর্থাৎ নাম সর্বস্ব কোম্পানি। দেশে বর্তমানে নানা ধরনের ওষুধ বাজারে বিক্রি হচ্ছে। মানুষ সুস্থ হওয়ার জন্যই ওষুধ খেতে বাধ্য হয়। ওষুধের গুণগত মান না থাকলে ওষুধ জীবন ধ্বংসকারী উপাদান থাকলে মানুষ কি করে বাঁচবে রোগ ব্যাধির হাত থেকে? এজন্য ওষুধ বাজারজাত করার আগে পরীক্ষা করা জরুরি।

এ জন্য দরকার যথেষ্ট ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরি। জানা যায়, বাংলাদেশে এ ধরনের মাত্র দুটি ল্যাবরেটরি রয়েছে। এর একটি ঢাকায় অন্যটি চট্টগ্রামে। এ দু’টো ল্যাবরেটরি বছরে মাত্র সাড়ে ৩ হাজার ওষুধের মান পরীক্ষা করতে পারে। সব ওষুধ পরীক্ষা করতে নাকি সাড়ে ৩ বছর সময় লাগে। বছরে ৮ হাজার ৩০০টি ওষুধ বিনা পরীক্ষাই বাজারজাত হচ্ছে। এ সুযোগটাই লুফে নিয়েছে অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীরা। তবে কিছু কোম্পানী ভালো মানের ওষুধ তৈরি করছে এবং তা ৯০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। ফলে যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন হচ্ছে। এমনকি বিদেশী ওষুধের ওপর আমাদের নির্ভর না করলেও চলে এখন। ওষুধ প্রশাসন ঠিকমতো কাজ করলে বাজারে ভেজাল ওষুধের বিপণন হতো না। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে ওষুধের দোকানগুলোকে জরিমানা করা হয়। কিন্তু জরিমানা আদায়ের পরও ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের প্রশ্ন তাহলে কি মুষ্টিমেয় অসৎ লোকের কারসাজিতে জনজীবন বিপন্ন হবে?

এম. . গফুর, বলুয়ারদীঘির দক্ষিণপশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x