অব্যাহত থাকুক চট্টগ্রামের উন্নয়ন-সম্প্রসারণ কাজ

সোমবার , ৫ নভেম্বর, ২০১৮ at ৩:২২ অপরাহ্ণ
96

প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে ১২টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৫টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন । গত বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এগুলো উদ্বোধন করেন। যে ১২টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেন, সেগুলো হল- চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হল, সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্প, চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি নিহতদের স্মৃতিসৌধ, চট্টগ্রাম টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট, বাঁশখালী আদালত ভবন, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নতুন জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনিক ভবন সহ চট্টগ্রামের চার উপজেলা-সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, আনোয়ারা ও রাঙ্গুনিয়ায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন প্রকল্প। আর যে ৫টি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন, সেগুলো হলো- চট্টগ্রাম বন্দরের বে টার্মিনাল নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর ও বন্দরের ৩টি গ্যান্ট্রি ক্রেন স্থাপন, পটিয়ায় দুগ্ধ কারখানা স্থাপন, বাঁশখালী ফায়ার স্টেশন স্থাপন ও সীতাকুণ্ড গালফ্রা হাবিব লিমিটেডের বিএমআরই প্রকল্প। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে বড় তিন প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে বলে আজাদীতে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সাথে সাথেই চট্টগ্রামে তিনটি বড় প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় পাইলিং শুরুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের বহুল প্রত্যাশার এলিভেটেড এক্সপ্রেস ওয়ে এবং কল্পলোক আবাসিক এলাকায় নদীর পাড়ে বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে চাক্তাই-কালুরঘাট রিভার ড্রাইভ রোড ও বাঁধ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু করেছে সিডিএর নিয়োগ দেয়া পৃথক দুই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে হালিশহর এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বে টার্মিনাল নির্মাণ কাজও শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের ইকুইপমেন্ট সাগর উপকূলে জড়ো করেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। শুরুতে সাগর ড্রেজিং করে তোলা মাটি দিয়ে ইয়ার্ড নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চট্টগ্রামের উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই আন্তরিক। এতোগুলো প্রকল্পের উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি, কী পরিমাণ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে এখানে। তবে, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো নিদর্শন আমরা ইতোপূর্বে পাই নি। এখানে কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় নেই। ফলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের যে কোনো কাজের জন্য দৌড়াতে হয় ঢাকায়। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অর্ধশত শিল্প কারখানা বসে আছে। গ্যাস, বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদনে যেতে পারছে না তারা। অভিযোগ আছে, জনগণের চাওয়ার সঙ্গে যোগসূত্র হচ্ছে না উন্নয়ন প্রকল্পের। হয়নি একটি যুগোপযোগী মাস্টারপ্ল্যান। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতা ও আগ্রহের সঙ্গে এখানকার বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। চট্টগ্রামের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক নেতা ও গণমাধ্যম কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমস্যার কথা বলা সহজ; কিন্তু বাস্তবায়ন খুবই কঠিন। এ জন্য সরকারকে দৃষ্টি দিতে হবে। এগিয়ে আসতে হবে সমস্যার সমাধানে। মনে রাখতে হবে, উন্নয়নের প্রধান শর্ত হচ্ছে গণতন্ত্র। গণতন্ত্রকে তালাবদ্ধ করে রেখে কোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। চট্টগ্রামের উন্নয়ন বলতে আমরা শুধু নগরের কথা ভাববো না। দক্ষিণ চট্টগ্রাম, উত্তর চট্টগ্রামকেও রাখতে হবে উন্নয়ন পরিকল্পনায়। এ শহর সবার। কোনো একটি অংশকে বাদ দিয়ে যদি উন্নয়নের ছক আঁকা হয় তবে সেটি সুফল বয়ে আনবে না। উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে দরকার সঠিক পরিকল্পনা। আর সঠিক পরিকল্পনার জন্য দরকার সঠিক জনপ্রতিনিধি। ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রামকে বলা হতো রেলওয়ে সিটি। পাকিস্তান আমলে বলা হতো পোর্ট সিটি। বঙ্গবন্ধুর ছয় দফার এক দফা ছিল নৌবাহিনীর সদর দপ্তর হবে চট্টগ্রামে। অথচ সবই এখন ঢাকামুখী। স্বাধীনতার পর থেকে ঢাকার আমলাতন্ত্রের কাছে চট্টগ্রাম উপেক্ষিত। বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতায় একটি কো-অর্ডিনেশন কমিটি করা দরকার বলে অনেকে মনে করেন। দীর্ঘ বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে বর্তমান সরকারের আমলে চট্টগ্রামে উন্নয়নমূলক যে কয়েকটি কাজ চলমান কিংবা পরিকল্পনায় আছে, তার বাস্তবায়ন জরুরি। আমরা প্রত্যক্ষ করতে চাই, গুরুত্বপূর্ণ খাতের উন্নয়ন-সম্প্রসারণ কাজ।

x