অবশেষে সচল কাস্টমসের মানি লন্ডারিং শাখা

দুটি চালানের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি এনবিআরের

জাহেদুল কবির

বুধবার , ১৭ জুলাই, ২০১৯ at ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
105

চট্টগ্রাম কাস্টমসে মানি লন্ডারিং ঠেকাতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে মানি লন্ডারিং শাখা গঠন করা হয়। কিন্তু জনবল সংকটসহ নানা ধরনের জটিলতায় শাখাটির কার্যক্রমই বন্ধ ছিল। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি চালানে মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতা পেলেও আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করতে পারেনি। কারণ মামলা করতে হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনুমতি নিতে হয়। অবশেষে দুটি চালানে মানি লন্ডারিংয়ের প্রমাণ পাওয়ায় মামলার অনুমতি দিয়েছে এনবিআর। মামলার অনুমতি পাওয়ায় মানি লন্ডারিং শাখাটিও প্রথমবারের মতো আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। মানি লন্ডারিং শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বলছেন, অবশেষে এনবিআরকে সিগারেটের দুটি চালানে মানি লন্ডারিং হয়েছে সেটি আমরা বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। সপ্তাহখানেকের মধ্যে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেনারে আসছে বস্তাভর্তি ইট-বালি। এছাড়া খালি কন্টেনার আসার ঘটনাও ঘটেছে। এসব পণ্যের অধিকাংশই আসছে আবার চীন থেকে। আমদানিকারকরা মিথ্যা ঘোষণায় ঋণপত্র (এলসি) খুলে লাখ লাখ ডলার বিদেশে পাচার করছে এমন অভিযোগ প্রায়শই শোনা যায়। এর মধ্যে গত ৭ মে রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে জব্দ করা হয় এরকম একটি চালান। ওই চালানে ঢাকার আমদানিকারক লোটাস সার্জিক্যাল এক হাজার ৭টি হুইল চেয়ার ও ৪৫০ পিস ক্রেচ প্লাস ওয়াকার ঘোষণা দেয়। অথচ তিনটি কন্টেনারের মধ্যে এক কন্টেনারে মাত্র ৪০টি হুইল চেয়ার পাওয়া যায়। বাকি দুটি কন্টেনারে কার্টনভর্তি ইট নিয়ে আসা হয়। ওই চালানটি আমদানি করতে ৭১ হাজার ডলারের ঋণপত্র খুলে আমদানিকারক। প্রতি ডলার ৮৪ টাকা হিসেবে এর মূল্য দাঁড়ায় ৫৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এছাড়া গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর বালিভর্তি একটি কন্টেনারের চালান আটক করে কাস্টমস। ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রোগ্রেস ইমপেক লিমিটেড ‘কাগজ’ আমদানির ঘোষণা দিয়ে ৪১০ বস্তা বালি নিয়ে আসে। ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি চীনে ১৫ হাজার ডলার পাঠিয়েও দেয়। তার আগের মাসে অর্থাৎ ২ আগস্ট শ্রীলঙ্কার কলম্বো থেকে ব্যবহৃত পণ্য ঘোষণা দিয়ে অর্ধকোটি টাকার বিদেশি সিগারেট নিয়ে আসে হবিগঞ্জের ফিরোজ মিয়ার ছেলে মিজান। এছাড়া একই বছরের ৬ মে ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে ৬৬ লাখ ৯৪ হাজার শলাকা এবং ২৮ এপ্রিল ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির দায়ে ৭৫ লাখ শলাকা বিদেশি সিগারেট আটক করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চালানগুলোতে প্রাথমিকভাবে মানি লন্ডারিংয়ের সংশ্লিষ্টতা পায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর কাস্টমস হাউসের উপ-কমিশনার নুর উদ্দিন মিলনকে প্রধান করে ৮ সদস্যের একটি কমিটি করে মানি লন্ডারিং শাখা গঠন করা হয়। শাখাটি গঠনের পর থেকে কাজের অগ্রগতি হয়নি বললেই চলে। তবে শেষ পর্যন্ত সিগারেটের দুটি চালানে আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি পাওয়ায় শাখাটি আক্ষরিক অর্থে সচল হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার নুর উদ্দিন মিলন দৈনিক আজাদীকে বলেন, মানি লন্ডারিং আইনে সিগারেটের দুটি চালানের আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মামলার জন্য এনবিআরের অনুমতির অপেক্ষায় ছিলাম। অবশেষে অনুমতি পাওয়া গেছে। শিগগিরই দুটি চালানের আমদানিকারকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। মামলার স্বার্থে এই মূহুর্তে আমদানিকারকের বিস্তারিত জানানো সম্ভব হচ্ছে না।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফখরুল আলম আজাদীকে বলেন, মানি লন্ডারিং মামলার জন্য আমাদের কিছু প্রক্রিয়া আছে। সেইসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সপ্তাহখানেকের মধ্যে মামলা করব।

x