অবশেষে চার ফ্লাইওভার যাচ্ছে সিটি কর্পো’র হাতে

রক্ষণাবেক্ষণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত

সবুর শুভ

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:০১ পূর্বাহ্ণ
101

৯২৭ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নগরীর চার ফ্লাইওভার অবশেষে সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস। নির্মাণের পর ফ্লাইওভারগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দেরীতে হলেও নিয়ম অনুযায়ী সিডিএ’র পক্ষ থেকে সিটি কর্পোরেশনকে হস্তান্তর করা হচ্ছে। গতকাল বুধবার ঢাকায় আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত এসেছে। সভায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও সিডিএ চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানান সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী। ফ্লাইওভারগুলো হচ্ছে, এমএ মান্নান ফ্লাইওভার (বহদ্দারহাট), আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার (মুরাদপুর), কদমতলী ফ্লাইওভার ও দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার। এ চার ফ্লাইওভার যান চলাচলের জন্য দীর্ঘদিন আগে খুলে দেয়া হলেও নিয়ম অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। রক্ষণাবেক্ষণে সিডিএ’র সক্ষমতা না থাকায় অবশেষে ফ্লাইওভারগুলোকে সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
এমএ মান্নান ফ্লাইওভার (বহদ্দারহাট) : যানজট নিরসনের কথা মাথায় রেখে সিডিএ নগরের শুলকবহর থেকে বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত এমএ মান্নান ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। সিডিএ’র সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এ প্রকল্প ২০১০ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ২০১২ সালের নভেম্বরে ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসের ঘটনায় ১৪ জন নিহত হলে এর নির্মাণ কাজ তদারকির দায়িত্ব পায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। নির্মাণ কাজ শেষে ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর ফ্লাইওভারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনের পর আবার আরাকান সড়কমুখী র‌্যাম্প নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সিডিএ। ৩২৬ মিটার দীর্ঘ এবং ৬ দশমিক ৭ মিটার চওড়া র‌্যাম্পটি নির্মাণের পর দুইদিক থেকে যান চলাচলে গতি আসে। ১৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হয়।
আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার (মুরাদপুর): ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর নগরীর মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত চার লেনের আখতারুজ্জামান চৌধুরী ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৫ সালের মার্চে। ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর ফ্লাইওভারটির মূল অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। শুরুতে পাঁচ দশমিক দুই কিলোমিটার দীর্ঘ এ ফ্লাইওভারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪৬২ কোটি টাকা।
পরে ফ্লাইওভারের দুই নম্বর গেইট এলাকায় নতুন একটি লুপ এবং জিইসি মোড় এলাকায় আরও একটি র‌্যাম্প যোগ হয়ে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৬৯৮ কোটি টাকা। গত বছরের ১ জুন যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় এ ফ্লাইওভারের এক হাজার ৩০০ মিটার দীর্ঘ লুপটিও।
কদমতলী ফ্লাইওভার : নগরীর বটতলী স্টেশন থেকে ডিটি রোডের ধনিয়ালাপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ এ ফ্লাইওভার নির্মাণের পর উদ্বোধন করা হয় ২০১৫ সালের ৬ ডিসেম্বর। এটি নির্মাণে সিডিএর ব্যয় হয় ৫৮ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগ্রাবাদ, কদমতলী ও রেয়াজুদ্দিন বাজার কেন্দ্রিক যান চলাচলে স্বস্তি আনার কথা মাথায় রেখেই এ ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়। ২০১২ সালের জুলাইয়ে এ ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তিন বছর পর এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
দেওয়ানহাট ফ্লাইওভার: এ ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১১সালে। ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হয় ২০১২ সালে। তবে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় ২০১৩ সালে। এটা ওভারপাসের মতো। ধনিয়ালা পাড়ার দিক থেকে মনসুরাবাদ এবং মনসুরাবাদের দিক থেকে ধনিয়ালা পাড়ার দিকে যান চলাচলকে নির্বিঘ্ন রাখার চিন্তা থেকে এটা নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সিডিএ কর্তৃপক্ষ।
চার ফ্লাইওভার হস্তান্তর প্রসঙ্গে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, বুধবার আন্ত:মন্ত্রণালয়ের সভায় চার ফ্লাইওভার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার তথ্য দিয়ে তিনি জানান, আন্ত:মন্ত্রণালয়ের ওই সভায় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও সিডিএ’র চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষ উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরো জানান, সিডিএ ফ্লাইওভার নির্মাণ করেছে। রক্ষণাবেক্ষণের সরঞ্জাম তো সিডিএ’র নেই। এসব চসিকের আছে। তাই এসব ফ্লাইওভার চসিককে বুঝিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ নিয়ে আমরা এর আগে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিলাম।

x