অফিসে আদবকেতা

আদীবা জাবীন

রবিবার , ১২ আগস্ট, ২০১৮ at ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ
69

কর্মস্থলে যদি পোশাকে বাধ্যবাধকতা থাকে তাহলে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও তা মানা উচিত। কর্মক্ষেত্রে সবাইকে পরিচ্ছন্ন ও ইস্ত্রি করা পোশাক পরে যাওয়া উচিত। কর্মক্ষেত্রে আলুথালু পোশাক পরে গেলে নিজেরই ব্যক্তিত্ব ম্লান হয়।

অফিসে আপনার আচরণের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছুই। যেমন আপনার সহকর্মীরা আপনাকে সহযোগিতা করবেন কি না, আপনার পদোন্নতি হবে কি না ইত্যাদি। অফিসে কাজকর্মে মনোযোগ, সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন, অফিসের বিধিবিধান মেনে চলা, আচরণে সামঞ্জস্য রাখা সব ধরনের চাকরিজীবীর আদবকেতার মধ্যেই পড়ে। সামান্য সচেতন হলেই আপনি যেমন অফিসে সবার কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করতে পারবেন, তেমনিভাবে বিব্রতকর অবস্থা কিংবা সমালোচনার হাত থেকেও রেহাই পাবেন।

কর্মস্থলের আদবকেতা সম্বন্ধে জেনে নিন যা কর্মক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করবে

অফিসে দেরি করে না আসাটাই ভালো। বিশেষ করে অফিসের প্রথম দিন নির্দিষ্ট সময়ের আগেই পৌঁছানো উচিত।

যেসব অফিসে নির্দিষ্ট পোশাক পরার নিয়ম নেই তারা পোশাকের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখবেন। অফিসে নিজেকে যতটা সম্ভব মার্জিত, ভদ্র, রুচিসম্মত পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন এবং স্মার্টলি উপস্থাপন করুন।

মেয়েদের অফিসে খুব বেশি সাজসজ্জার প্রয়োজন নেই। ছেলে ও মেয়ে উভয়েরই মাথার চুল পরিপাটি রাখা উচিত।

কর্মস্থলে যদি পোশাকে বাধ্যবাধকতা থাকে তাহলে মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও তা মানা উচিত। কর্মক্ষেত্রে সবাইকে পরিচ্ছন্ন ও ইস্ত্রি করা পোশাক পরে যাওয়া উচিত। কর্মক্ষেত্রে আলুথালু পোশাক পরে গেলে নিজেরই ব্যক্তিত্ব ম্লান হয়।

হাঁটার সময় শব্দ হয় এমন ধরনের জুতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।

কড়া গন্ধের সুগন্ধি বা আতর ব্যবহার করবেন না। হাল্কা ঘ্রানের বডি স্প্রে ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করুন।

নিজের ডেস্ক এবং ব্যবহার্য জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাস করুন।

সময়ের কাজ সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলার চেষ্টা করুন। অহেতুক কাজ জমিয়ে রাখলে পরবর্তী সময়ে সেগুলো এক সঙ্গে করতে গেলে আপনাকে হিমশিম খেতে হবে।

চিঠি বা ইমেইল এলে সময় মতো সেগুলোর উত্তর দেওয়া উচিত।

কোনো কাজ না জানলে সেটা স্বীকার করে নেওয়া উচিত এবং কীভাবে করতে হবে সেটা জেনে নেওয়া ভালো।

ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে আলোচনা এবং অফিস গসিপে অংশগ্রহণ না করাই বাঞ্ছনীয়।

খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন না হলে অফিসের টেলিফোন দিয়ে বাড়িতে পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলা পরিহার করুন।

আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের অফিসে দেখা করতে আসার বিষয়টি এড়িয়ে চলুন।

ছুটির প্রয়োজন পড়লে ছুটির আবেদন করুন, কর্তৃপক্ষের মঞ্জুরির পর ছুটিতে যাওয়া উচিত, তার আগে নয়।

হাতের কাজ, জরুরি অ্যাসাইনমেন্ট শেষ করেই অফিস ত্যাগ করা উচিত, অর্ধসমাপ্ত কিংবা অসমাপ্ত অবস্থায় কাজ রেখে যাওয়া উচিত নয়।

অফিসে সহকর্মীদের সঙ্গে যথাসম্ভব ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করুন।

নিজের সমস্যা অথবা সাফল্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে অফিসে সহকর্মীদের জন্য বিরক্তির উদ্রেক করবেন না।

অফিসের কোনো পার্টি বা বনভোজন থাকলে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে কাজের বাইরে সহকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরালো হয়।

অফিসে অন্যের সমালোচনা, পরনিন্দা, পরচর্চা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন।

ঠিক সময়ে মিটিং শুরুর আগেই টেবিলে কিংবা মিটিং রুমে উপস্থিত হোন। দেরিতে মিটিং শুরুর পর গিয়ে উপস্থিত হয়ে নিজে বিব্রত হবেন না, অন্যদের বিরক্ত করবেন না।

x