অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে

রবিবার , ২৮ অক্টোবর, ২০১৮ at ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
55

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথা জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগ অনেক সময় গণমাধ্যমে আসে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে এদের। তবু অপরাধপ্রবণতা যেন কমছে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব যাদের, তারাই জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধে। হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, প্রতারণা, মাদক ব্যবসাসহ ভয়াবহ অভিযোগ মিলছে পুলিশের বিরুদ্ধে। বিভাগীয় তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পর অনেক সদস্যকেই বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশও রয়েছে। তবু এর পরও বিচ্ছিন্নভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা দুঃখজনক।
সর্বশেষ কারাগারের জেলারের আটক ঘটনায় চট্টগ্রামসহ সারা দেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দৈনিক আজাদীতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের তত্ত্বাবধায়ক (জেলার) সোহেল রানা বিশ্বাসকে ১২ বোতল ফেনসিডিল ও নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার ‘অবৈধ’ টাকাসহ আটক করেছে রেলওয়ে পুলিশ। গত শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে ভৈরব রেলওয়ে পুলিশ তাকে আটক করে। জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও তার স্ত্রীর নামে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর সংক্রান্ত নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
এখানে উল্লেখের দাবি রাখে যে, মাদক সমস্যা তথা মাদক দ্রব্যের অবাধ ব্যবহার ও অবৈধ পাচার একটি জটিল, বহুমাত্রিক ও আন্তর্জাতিক সমস্যা। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার ও চোরাচালান সমস্যা দেশ-কাল, ধর্ম-বর্ণ, সমাজ নির্বিশেষে আজ সারা বিশ্বকে গ্রাস করছে। ধনী-দরিদ্র, উন্নত-উন্নয়নশীল কোন দেশই মাদক সন্ত্রাস থেকে মুক্ত নয়। মাদককে ঘিরে বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস, রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, সংঘাত-দ্বন্দ্ব, কলহ, দুর্ঘটনা, ধ্বংস ও মৃত্যুর যে খেলা চলছে তাকে নিবারণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। মাদকাসক্তি আমাদের দেশের শিক্ষাঙ্গন যথা- স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে। ইয়াবার মতো মাদক মানুষকে ধ্বংস করছে, সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ককে নষ্ট করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের অপরাধের বিষয়টি অনেকটা লঘু ভাবে দেখা হয়। যারা অপরাধ করে তাদের হয় ক্লোজড, না হয় সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ ধরনের শাস্তি পরবর্তী সময়ে প্রত্যাহার হওয়ার পর, দেখা যায় তারা পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ে এবং এতে অন্য সদস্যরা অপরাধপ্রবণ হতে উৎসাহী হয়ে ওঠে। গুরু পাপে লঘুদণ্ড দেয়ার এই অপসংস্কৃতি থাকায় পুলিশ বাহিনী থেকে অপরাধ কমানো যাচ্ছে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী পুলিশ সদস্য তার খুঁটির জোরের কারণে রেহাই পেয়ে যায়। ফলে পুনরায় সে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। দণ্ডের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত মোটিভেশন ও নজরদারিতে রাখা প্রয়োজন। সমাজে অপরাধপ্রবণতা কমাতে পুলিশ-জনগণ সমন্বয়ে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা বিস্তৃত করা প্রয়োজন বলেও বিশেষজ্ঞরা অভিমত প্রদান করেছেন। কিছু অপরাধী পুলিশ সদস্যের জন্য পুলিশের ভাবমর্যাদা বরাবরই নিম্নগামী। সাধারণ মানুষ আস্থা রাখতে পারে না। পুলিশ মানেই তারা ঝামেলা মনে করে। এ মনোভাব দূর করতে অপরাধীর প্রতি কঠোর এবং সাধারণ মানুষের প্রতি বন্ধুভাবাপন্ন করে তুলতে হবে পুলিশকে।
মাদক এমন এক নেশার নাম, যার কাছে মান সম্মান ভাবমূর্তি সব যেন তুচ্ছ। নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষকদের সর্বোচ্চ সাজা, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি জনসাধারণকে উৎসাহিত করছে। মাদক ব্যবসার পৃষ্ঠপোষক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনতে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মুদ্রাপাচার সংক্রান্ত অপরাধ তদন্তের বিষয়টিও আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। তাই অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সাধারণ মানুষের সেবা এবং জানমালের নিরাপত্তা বিধান করাই যাদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য, অপরাধ কর্মকাণ্ডে আমরা তাদের সংশ্লিষ্টতা দেখতে চাই না।

x