অন্ধ্র-উড়িষ্যায় আঘাত হেনে দুর্বল হল তিতলি

শাহপরীর দ্বীপে অর্ধশত বসতঘর বিধ্বস্ত

আজাদী ডেস্ক

শুক্রবার , ১২ অক্টোবর, ২০১৮ at ৪:৪৭ পূর্বাহ্ণ
37

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যার মাঝামাঝি এলাকায় প্রচণ্ড শক্তিতে আছড়ে পড়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘তিতলি’। ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড হয়েছে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত। ‘তিতলি’ আঘাতে অন্ধ্র প্রদেশের উত্তরাঞ্চল ও উড়িষ্যার দক্ষিণাঞ্চলে ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানির কোনো খবর মেলেনি। গতকাল ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত অন্ধ্র-উড়িষ্যা উপকূলে ‘তিতলি’র এই তাণ্ডবের খবর দেয় সেখানকার স্থানীয় ও কলকাতাভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।
এদিকে তিতলির প্রভাবে সৃষ্ট বৃষ্টিপাত ও টেউয়ের আঘাতে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে অর্ধশত বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও আওয়ামী লীগ নেতা সোনা আলী জানান, সকালে জোয়ারের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ উঁচুতে আছড়ে পড়ে বঙ্গোপসাগরের টেউ। এতে তাদের বাড়ি-ঘর বিধ্বস্ত হয়। এসময় শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া, দক্ষিণপাড়া ও জাইল্যাপাড়া এলাকার প্রায় অর্ধশত বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে খোলা আকাশের নিচে দিনযাপন করছেন দুই শতাধিক মানুষ। এছাড়া অরক্ষিত বেড়িবাঁধের কারণে জোয়ারের পানি ঢুকে প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। গতকাল দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান। পরে তিনি শাহপরীর দ্বীপ পরিদর্শন করেন।
এর আগে সকালে কক্সবাজারে হালকা বাতাস ও গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি থাকলেও বিকালে থেমে যায়। এতে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও বিকালের পর থেকে পর্যটননগরীর জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এমনকি সমুদ্র সৈকতে সূর্যাস্ত উপভোগ করেন পর্যটকরা। অন্যদিকে কয়েকদিনের টানা বর্ষণের কারণে গতকাল সন্ধ্যায় কঙবাজার ও শহরতলীর বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। তবে এতে ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কঙবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজি আবদুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয় এবং সার্বক্ষণিক জরুরি যোগাযোগের জন্য গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে খোলা হয়েছিল কন্ট্রোল রুম। তবে হালকা থেকে মাঝারি আকারের বৃষ্টিপাত ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের অন্য কোনো প্রভাব পড়েনি কঙবাজারে।
অন্যদিকে নগরীতে গতকাল সকাল থেকে কখনো মাঝারি আবার কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি ছিল। ফলে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সইতে হয়েছে চরম দুর্ভোগ। বৃষ্টিতে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষদেরকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া রাস্তা ঘাটে দেখা দেয় যানবাহন সংকট। এতে অনেকেই দ্বিগুণ ভাড়া গুণে রিকশা ও সিএনজি অটোরিকশায় গন্তব্যস্থলে পৌঁছেছেন। আবহাওয়া অফিসের পূর্ভাবাস মতে, আজও নগরীতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল সকালে বৃষ্টিপাতে নগরীর নিম্নাঞ্চল বাকলিয়া, চকবাজার, চান্দগাঁও ও বাদুরতলা, আগ্রাবাদ, বেপারি পাড়ার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। ফলে এসব অঞ্চলের বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
পতেঙ্গা আবহওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিত চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রামে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে। কোথাও কোথাও অস্থায়ী দমকা, ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রসহ ভারী বর্ষণ হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে আগামীকাল (আজ) চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে ঘূণিঝড় তিতলি ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য অন্ধ্র প্রদেশ ও উড়িষ্যায় আঘাত হেনেছে। তাই বর্তমানে উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রামে আজ (গতকাল) রাত নয়টা পর্যন্ত ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

x