অন্ধত্ব প্রতিরোধে যত্ন নিতে হবে চোখের

বিশ্ব দৃষ্টি দিবসে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে নানা আয়োজন

শুক্রবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৯ at ৫:২২ পূর্বাহ্ণ
19

‘সবার জন্য দৃষ্টি’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত হয়েছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে। দৃষ্টিহীনদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ ও সহানুভূতি প্রকাশ এবং সাধারণের মাঝে দৃষ্টি সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০০০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে এবং অরবিসের সহযোগিতায় গতকাল বৃহস্পতিবার পাহাড়তলী হাসপাতাল ক্যাম্পাসে র‌্যালি বের হয়। র‌্যালি উদ্বোধন করেন হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, মানব দেহের স্পর্শকাতর অঙ্গ চোখের যত্ন নেয়া আবশ্যক। চোখের পরিচর্যা, সঠিক জ্ঞানের অভাব ও অসচেতনতার কারণে মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে এ অঙ্গের ত্রুটি, জটিলতা, পুষ্টিহীনতা, অজ্ঞতার কারণে মানুষ দৃষ্টিহীন হয়ে পড়ে। সাধারণ জনগণকে সচেতন ও অজ্ঞতা দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী চোখের যত্ন নিতে গণসচেতনতা তৈরি, চক্ষু রোগ নির্মূলে প্রভাবিত করা, চোখের যত্ন নেওয়ার তথ্য জনগণের কাছাকাছি আনাই হলো এই দিবসের লক্ষ্য। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিটি অন্ধ ব্যক্তি সুন্দর এই পৃথিবীর রং উপভোগ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. কামরুল ইসলাম, আইসিওর পরিচালক অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মুর্তুজা নুরুউদ্দিন, আইসিওর অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুনিরুজ্জামান ওসমানী, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সামস্‌ মোহাম্মদ নোমান, ডা. জেসমিন আহমেদ, সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, ডা. ফারজানা আক্তার চৌধুরী, ডা. সুজিত কুমার বিশ্বাস, ডা. সোমা রানী রায় ও ডা. তনিমা রায়।
এর আগে হাসপাতালের ইমরান সেমিনার হলে দিবসটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রতিপাদ্য বিষয় তুলে ধরেন ডা. সৈয়দ মুহাম্মদ আসিফুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন ডা. সাজ্জাদ হোসেন খান, ডা. ফিরোজ খান, ডা. ওয়াহিদ আলম, ডা. মেরাজুল ইসলাম, ডা. মাহবুব আলম, ডা. মো. রায়হান উদ্দিন, ডা. রাহিনূল মাওলা ও আইসিওর প্রভাষক জুয়েল দাশগুপ্ত।
উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজার (এডমিন) মো. রোকনুন চৌধুরী, জনসংযোগ কর্মকর্তা শহীদ ফারুকী, প্রোগ্রাম অফিসার মো. সায়েম মের্শেদ, সহকারী ম্যানেজার মো. সাজিউল ইসলাম, বিশ্বজিৎ পাল প্রমুখ।
সেমিনারে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ দৃষ্টিহীনতায় ভুগছে। কখনো নিজেদের অজান্তে, কখনো অভ্যাসের কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাচ্ছে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষ ইলেকট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে বেশিরভাগ সময় কাটান, যা চোখের জ্যোতি কমার অন্যতম কারণ। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ব্যবহার জীবনের অঙ্গ হয়ে গেছে। বিশেষ করে রাতে আলো নিভিয়ে চোখের কাছে মোবাইল রেখে তাতে সিনেমা দেখা বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাট কেড়ে নিচ্ছে চোখের দৃষ্টি। এছাড়া ধূমপানে আসক্তি, কেবল হার্ট নয়, ধোঁয়া থাবা বসাচ্ছে চোখেও। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসাবে ধূমপানকেই চিহ্নিত করা হয়। বক্তারা বলেন, চোখের অসুখ থাকলে সময় অনুযায়ী চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। অসুখ না থাকলেও বছরে দুই বার চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া প্রয়োজন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x