অন্ধকার যুগের অবসান হচ্ছে আশরাফুলের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শনিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৮ at ৪:৪৫ পূর্বাহ্ণ
24

তিনি ছিলেন বাংলাদেশের আশার ফুল। তার নাম আশরাফুল। বাংলাদেশের ক্রিকেটে অফুরান প্রতিভা নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু ক্যারিয়ার যখন একেবারে তুঙ্গে ঠিক তখনই পা দিলেন চোরা গলিতে। মুহূর্তেই দেশের নায়ক থেকে পরিণত হলেন ভিলেনে। সকল অর্জন মুহূর্তেই ম্লান হয়ে গেল। অন্ধকার জগতে চলে গেল ক্যারিয়ার। ২০১৩ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে স্পট ফিক্সিং আর ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ায় ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে গেলেন আশরাফুল। ৫ বছর ক্রিকেট থেকে দূরে থাকার পর অবশেষে মুক্তি মিলছে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ আশরাফুলের। আগামী ১৩ আগস্ট থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি মিলবে তার। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট ঘরোয়া লিগে খেলার অনুমতি মিললেও এতদিন জাতীয় দল আর বিপিএলে নিষিদ্ধ ছিলেন আশরাফুল।

আবারও অন্ধকার থেকে আলোতে ফেরার সুযোগ পেয়ে দারুণ খুশি আশরাফুল। বললেন, এই দিনের জন্য পাঁচ বছর অপেক্ষা করেছেন তিনি। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশরাফুল বলেন, আমি ২০১৮ সালের ১৮ আগস্টের জন্য দীর্ঘ প্রতিক্ষা করছি। আমি আমার দোষ স্বীকার করার পর পাঁচ বছরের বেশি পেরিয়ে গেছে। যদিও গত দুই বছর আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেছি। কিন্তু এখন জাতীয় দলের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হতে আর কোন বাধা রইল না। আবারও বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারলে সেটা আমার জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন হবে।

গত দুই বছরে তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরে গেছে। প্রথম বছর তেমন ভাল না কাটলেও ২০১৭১৮ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পাঁচটি সেঞ্চুরি পেয়েছেন আশরাফুল। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের এক আসরে তিনি মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন। ফেরার পর প্রথম মৌসুমটা তেমন ভাল কাটেনি। তবে ২০১৭১৮ মৌসুমে বেশ ভাল করেছি। আসন্ন মৌসুমে আরও ভাল করতে চাই। এখন আমি আমার পারফরম্যান্সের মাধ্যমে দলে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাবো। আমি এরইমধ্যে দীর্ঘ একমাসের ট্রেনিং প্রোগ্রামে অংশ নিয়েছি। ১৫ আগস্টের পর আসন্ন জাতীয় ক্রিকেট লিগের জন্য প্রাকমৌসুম প্রস্তুতি নিবো। ২০১৪ সালের জুনে বিপিএলের দুর্নীতি বিরোধী ট্রাইব্যুনাল আশরাফুলের উপর ৮ বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ডিসিপ্লিনারি প্যানেল শাস্তি কমিয়ে পাঁচ বছরে নামিয়ে আনে।

তবে বিসিবি ও আইসিসি শাস্তি কমানোর বিরোধিতা করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পাঁচ বছরই স্থির হয়। তবে ওই দুই বছর তাকে বিসিবি কিংবা আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে বলে শর্ত আরোপ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের বিপিএলে দুর্নীতি বিরোধী অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি। যেখানে তাকে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মাঝে আজও আশরাফুল অনেক প্রিয় নাম। তাকে আবার লালসবুজের জার্সি গায়ে তুলতে দেখার অপেক্ষায় আছে তার বহু ভক্ত। কিন্তু এখনও বেশ খানিকটা পথ পাড়ি দিতে হবে তাকে। তবে নিষেধাজ্ঞা থেকে পুরো মুক্তি মিলছে এটাই তাকে আবার নতুন করে আশা জাগিয়েছে। ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে যে ভুল তিনি করেছিলেন তা শোধরাতে তার দীর্ঘ লড়াই অবশেষে আলোর মুখ দেখছে এটাই তাকে সাহস জোগাচ্ছে।

x