অনেক সংকট মোকাবেলা করেছে জ্যামিং

আহসানুল কবির রিটন

বৃহস্পতিবার , ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ
7

১৯৮৯ সালের জুন মাসে মঈনুদ্দিন আহম্মদ, শংকর রায়, বিপ্লব বিশ্বাস, কাসু এবং রবার্ট মিলে শুরু করেন তৈরি করেন ব্যান্ডদল জ্যামিং। জ্যামিং শব্দের অর্থ অনেকগুলো বাদ্যযন্ত্রের ঝংকার।
মঈনুদ্দিন ছিলেন দলনেতা ও কন্ঠশিল্পী। শংকর বাজাতেন ড্রামস, কাসু লিড গিটার, রবার্ট বেস গিটার আর বিপ্লব ছিলেন দলের ম্যানেজার। শুরুর দিকে দলের সদস্য ছিলেন এরাই। দল গঠন হলেও তখনো তাদের নানা সংকট ছিলো। ১৯৯১ সালে দলের সদস্যরা নিজেদের টাকাপয়সা দিয়ে কিনেন আধুনিক সব বাদ্যযন্ত্র। সাউন্ড সিস্টেমে আসে আমূল পরিবর্তন। অন্যসব বাদ্যযন্ত্রের সাথে যোগ হয় আধুনিক অ্যাম্পলিফায়ার। পরিবর্তন আসে দলের সদস্যদের মধ্যেও। নতুন লাইন আপ দাঁড়ায় লিড গিটারে ইমতিয়াজ বাচ্চু, কি বোর্ডে কাদের আখন্দ (বর্তমানে প্রয়াত), বেইস গিটারে মিঠু সাহা আর ম্যানেজার ও সাউন্ড নিয়ন্ত্রক ছিলেন বিপ্লব। কয়েকমাস পর মিঠু দলত্যাগ করলে তার স্থলাভিষিক্ত হন বাপ্পী। যিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের সাথে ছিলেন।
দল পুনঃর্গঠনের পর থেকে নগরীর চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজ, সরকারি কমার্স কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, চট্টগ্রাম পলিট্যাকনিক ইনস্টিটিউটসহ উত্তর-দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রায় সব স্কুল-কলেজে প্রতিদিন অংশ নিতে থাকে জ্যামিং।
আর এসময় দলের সম্মানী গিয়ে দাঁড়ায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠান করতে গিয়ে নানা সময়ে ঘটেছে নানা বিপত্তি। একবার সীতাকুন্ডের বারআওলিয়া কলেজে অনুষ্ঠান করতে যায় জ্যামিং। অনুষ্ঠান অনেকক্ষণ চলার পর হঠাৎ কলেজের ব্যালকনি ভেঙে পড়ে যায়। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছিলো।
এভাবে চলতে থাকে দলের কাজ। ১৯৯৩ সালে জ্যামিং একাধিকবার ঈদ ও নানা উৎসব উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। যা তাদের খ্যাতিকে ছড়িয়ে দেয় সারাদেশে। অনুষ্ঠানে “এমনো কথা ছিলো না” গানটি দারুন সমাদৃত হয়।
প্রায় কাছাকাছি সময়ে স্পার্ক, রুডস, জ্যামিংসহ চারটি দল মিলে একটি মিক্সড ক্যাসেট বের হয়। চট্টগ্রামের রেয়াজুদ্দিন বাজারের আমিন স্টোর থেকে প্রকাশিত ঐ ক্যাসেটে জ্যামিং’র তিনটি গান স্থান পায়। গানগুলো হলো— আজ আমি বহুদূরে, এমনো কথা ছিলো না এবং মন দাও মন নাও।
১৯৮৯ সালে চট্টগ্রামের আউটার স্টেডিয়ামে ১৩৯৯ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত চট্টগ্রাম ব্যান্ড সংগীত উৎসবে অংশ নেয় জ্যামিং। উপরোক্ত সদস্যরা ছাড়াও নানা সময়ে দলের সাথে যুক্ত ছিলো প্রবাল বর্মন, সাজু, সালাম, সাবাসহ আরো অনেকে। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় ধরে ব্যান্ডটি তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

x