অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থাই প্রধান অন্তরায়

সোনাদিয়া দ্বীপে ইকোট্যুারিজমের অপার সম্ভাবনা

ফরিদুল আলম দেওয়ান : মহেশখালী

সোমবার , ২৯ এপ্রিল, ২০১৯ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
89

পর্যটনের জন্য সম্ভাবনাময় সোনাদিয়া অবহেলা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের অভাবে এখন মূখ থুবড়ে পড়েছে। কক্সবাজারে আসা পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ সোনাদিয়া হলেও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন হয়নি। ফলে এখন পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছে সোনাদিয়া দ্বীপ। একই সাথে পর্যটনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে না সোনাদিয়া কেন্দ্রিক কোন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বাণিজ্য।
বাংলাদেশের পাহাড় সমৃদ্ধ কক্সবাজারের একটি আকর্ষণীয় দ্বীপ সোনাদিয়া। এদ্বীপের জনসংখ্যা ১৭০০জন, ভোটার সংখ্যা ৫১৬ জন। যার মধ্যে পুরুষ ২৬৭ আর মহিলা ২৯৪, যে দ্বীপের জমির পরিমাণ ২৯৬৫.৩৭ একর। ২৯৬২.২২ একর জমির উপর ১৯৭১ সালের পর থেকে এ যাবৎ শুধু মাত্র একটি সাইক্লোন শেল্টার ছাড়া অন্য কোন উল্লেখ যোগ্য স্থাপনা গড়ে উঠেনি।
সমগ্র দ্বীপটিকে ঘিরে ব্যক্তি মালিকানাধীন ৩.১৫ একর জমি রয়েছে ।
পূর্ব পাড়া আর পশ্চিম পাড়া নিয়ে সোনাদিয়ার জনসাধারণের বসবাস। চর ভরাট হয়ে এক হাজার একর জায়গায় বনবিভাগ প্রাকৃতিক বনায়ন সৃষ্টি করেছে এদ্বীপে। পূর্ব পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে প্রতিনিয়ত জীবন যুদ্ধে আয়ু শেষ করছে সোনাদিয়াবাসী। অপার সম্ভাবনাময় এই সোনাদিয়া দ্বীপ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর। এতে দৃষ্টিনন্দন প্যারাবন, বালিয়াড়ী, ঝাউ বাগান ছাড়াও রয়েছে কোলাহল মুক্ত সৈকত।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে পর্যটন কেন্দ্রিক ব্যবসার প্রসার ঘটবে সমগ্র কক্সবাজার জেলায়। অসংখ্য লাল কাঁকড়ার মিলন মেলা সোনাদিয়া দ্বীপে। পূর্ব পাশে জেগে উঠা চর আকর্ষণ বাড়িয়েছে দ্বীপটির। বিভিন্ন প্রজাতির সামূদ্রিক কাছিমসহ দৃষ্টিনন্দন দৃশ্যাবলী দ্বীপবাসীর নিজস্ব সংস্কৃতি ও সাদা মাটা জীবন-যাপন সবাইকে আকৃষ্ট করে। জেলেদের সাগরের মাছ ধরার দৃশ্য, সূর্যাস্তের দৃশ্য, প্যারাবন বেষ্টিত আঁকা-বাঁকা নদী পথে নৌকা ভ্রমণ, স্পীড বোট বা ইঞ্জিন বোট দিয়ে মহেশখালী চ্যানেল হয়ে সাগরের মাঝ পথে বঙ্গোপসাগরের দৃশ্য অবলোকন যা পর্যটকদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী বাড়তি আকর্ষণ। প্রচুর সম্ভাবনা সত্বেও এ দ্বীপে সরকারি বা বেসরকারীভাবে পর্যটন শিল্প বিকাশে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়ন করা হলে পর্যটন জোন হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠবে এ দ্বীপটি। কক্সবাজার শহরের অদূরবর্তী এ দ্বীপটি পর্যটন বিকাশে অন্যতম স্থান হতে পারে যা দেশের তথা কক্সবাজারের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ঘটিভাঙ্গার নুরুল আলম জানান, প্রতি শীত মৌসূমে বিপুল সংখ্যক পর্যটক সোনাদিয়ায় আসার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করলেও যোগাযোগ ক্ষেত্রে পরিবর্তন না হওয়ায় সাগর পাড়ি দিয়ে সোনাদিয়া আসা ঝুঁকি মনে করছে পর্যটকরা। কেউ স্পীড যোগে সাগর পাড়ি দিয়ে সোনাদিয়া আগমন করলেও মূলত স্বল্প সময়ের ঘুরাঘুরি করে চলে যেতে বাধ্য হয়। সোনাদিয়ার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন ভেঙ্গে পড়েছে। ঘটিভাঙ্গা দিয়ে যে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল এখন তা অনেকটা অচল। সোনাদিয়া নিয়ে কিছু করতে হলে শুরুতে অবকাঠামো উন্নয়ন প্রয়োজন।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন খোকন জানান, বর্তমানে সোনাদিয়া এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভাল থাকার পরও পর্যটকদের কোন সুযোগ সুবিধা না থাকায় কোন পর্যটক আসছে না। পর্যটন শিল্প বিকাশে সোনাদিয়াকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। সাগর পথে এসে এ দ্বীপে নামার জন্য টেকসই জেটি নির্মাণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে পরিবেশবাদীদের মতে, সোনাদিয়া দ্বীপ সরকার ঘোষিত পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ অনুযায়ী এই দ্বীপে পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ এবং প্রচলিত ট্যুারিজমের যেহেতু অনেক ধরনের নেতিবাচক দিক রয়েছে, সুতরাং এই দ্বীপে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটাতে ইকোট্যুারিজমের উন্নয়ন বিকাশ অন্যতম ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিক হতে পারে। এই দ্বীপে দ্বীপবাসীর সম্পৃক্ততায় কমিউনিটি ভিত্তিক ইকোট্যুারিজমের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। যা দ্বীপবাসীর বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা সহ অন্যান্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে।

x