অনলাইন আবেদনে ৫ বার কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ

একাদশে ভর্তি

রতন বড়ুয়া

মঙ্গলবার , ১৪ মে, ২০১৯ at ৬:০০ পূর্বাহ্ণ
880

একাদশে ভর্তিতে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে ১২ মে থেকে। আগামী ২৩ মে পর্যন্ত ওয়েবসাইট ও মুঠোফোনের এসএমএস’র মাধ্যমে এ আবেদন করা যাবে। ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট (www.xiclassadmission.gov.bd) এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ভর্তিচ্ছুদের। আবেদন প্রক্রিয়া নির্দেশিকা আকারে ইতোমধ্যে ভর্তি সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
সর্বোচ্চ আবেদন ও মনোনয়ন : আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী-গতবারের ন্যায় অনলাইনে (ওয়েবসাইট) এবারও সর্বোচ্চ দশটি কলেজের পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। ফি কাটা হবে ১৫০ টাকা। তবে মোবাইলের এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদনের ক্ষেত্রে একটি এসএমএস-এ একটি কলেজের জন্য আবেদন করা যাবে। আর এসএমএস-এর মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫টি কলেজে আবেদন করা যাবে। প্রতিটি আবেদনের জন্য ফি কাটা হবে ১২০ টাকা করে। কিন্তু অনলাইনে (ওয়েবসাইটে) আবেদনের ক্ষেত্রে এক সাথেই ১০টি কলেজ পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করা যাবে। ফিও দিতে হবে ১৫০ টাকা। অর্থাৎ এসএমএস-এর তুলনায় অনলাইনে আবেদনে খরচ তো কম বটেই, ঝামেলাও কম।
পছন্দক্রম ও কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ : সাবমিট করা আবেদনে পছন্দক্রম ও কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে এবার। তবে অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রেই এ সুবিধা তুলনামূলক বেশি। যা এসএমএস-এর মাধ্যমে করা আবেদনে পাওয়া যাবেনা। অনলাইনে (ওয়েবসাইটে) আবেদনকারীরা ৫ জুন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫ বার পছন্দক্রম ও কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ পাবে। কিন্তু পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ পেলেও কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ পাবেনা এসএমএস-এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা।
মনোনয়ন : আবেদন করা কলেজগুলোর মধ্য থেকে এবার যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে একটি কলেজেই মনোনীত করা হবে একজন শিক্ষার্থীকে। আর মনোনীত ওই কলেজেই ভর্তি হতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে। যদিও আসন শূন্য ও যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে মাইগ্রেশনের সুযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের।
ভুল সংশোধনের সুযোগ : আবেদনে কোন ধরনের ভুল সংঘটিত হলে তা সংশোধনের সুযোগ রাখা হয়েছে এবার। আবেদনে ভুল হলে কিংবা শিক্ষার্থীর অজান্তে অন্য কেউ আবেদন করে দিলে শিক্ষাবোর্ডে আবেদনের মাধ্যমে এর প্রতিকার চাইতে পারবে শিক্ষার্থীরা। ২৬ মে পর্যন্ত এ সংক্রান্ত আবেদন করা যাবে শিক্ষাবোর্ডে। আবেদনের ভিত্তিতে ভুল সংশোধন অথবা ভুয়া আবেদন বাতিল করবে শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবেদনের ক্ষেত্রে কলেজের পড়ালেখার মান-পরিবেশ, বাসা থেকে দূরত্ব এবং মাসিক বেতনসহ যাবতীয় খরচের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে কলেজের পছন্দক্রম ঠিক করার পরামর্শ দিয়ে দোকানের কম্পিউটার অপাটেরদের ইচ্ছে অনুযায়ী কলেজের পছন্দক্রম না দিতেও শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রফেসর জাহেদুল হক। এছাড়াও কোটার স্বপক্ষে যথাযথ কাগজপত্র থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলেই কেবল কোটায় আবেদন করার পরামর্শ দিয়ে কলেজ পরিদর্শক বলেন-দেখা গেলো, কেউ একজন কোটায় আবেদন করেছে। আবেদন করায় কোটায় ভর্তির জন্য ওই শিক্ষার্থী মনোনীত হলেও যথাযথ কাগজপত্র দেখাতে না পারলে কলেজ কর্তৃপক্ষ ভর্তি করাবেনা। আবার কোটায় আবেদন করায় মেধা তালিকায়ও তার নাম আসবেনা। এতে করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর ভর্তি ঘিরে সংশয় দেখা দিবে। তাই আবেদনের ক্ষেত্রে যাবতীয় বিষয় যাচাই-বাছাই করে তবেই আবেদন করতে হবে। আর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে তাড়াহুড়ো করে আবেদনের প্রয়োজন নেই। আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর পর একটু সময় নিয়ে ধীরে-সুস্থে আবেদন করলে ভালো হয় বলে অভিমত কলেজ পরিদর্শকের।
পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনকারীদের আবেদন : পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদনকারীদেরও একই সময়ের (২৩ মে) মধ্যে আবেদন করতে হবে। তবে পুনঃনিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রে ৩ ও ৪ জুন পুনরায় আবেদন করার সুযোগ পাবে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা। আগামী ১ জুন পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান। আর পুনঃনিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হলে পরিবর্তিত ফলাফল স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটিক) ভাবে ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য ভান্ডারে হালনাগাদ (আপডেট) হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক।
মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ ও নিশ্চায়ন : আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিতদের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ জুন। প্রথম পর্যায়ে মনোনীত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ১১ জুন থেকে ১৮ জুনের মধ্যে। নিশ্চায়ন না করলে ওই শিক্ষার্থীর মনোনয়ন এবং আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে।
২য় ও ৩য় পর্যায়ের আবেদন এবং তালিকা প্রকাশ : প্রথম পর্যায়ে মনোনীতদের নিশ্চায়ন শেষে ১৯ জুন থেকে ২০ জুন ২য় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং ২য় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ২১ জুন। ২১ জুনের ফলাফলে মনোনীতদের নিশ্চায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে ২২ ও ২৩ জুন। এরপর ৩য় পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে ২৪ জুন। ২য় মাইগ্রেশনের ফল এবং ৩য় পর্যায়ের ফল প্রকাশ করা হবে ২৫ জুন। ৩য় পর্যায়ে মনোনীতদের নিশ্চায়ন শেষ করতে হবে ২৬ জুন। ২৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে। আর ভর্তি কার্যক্রম শেষে ১ জুলাই থেকে ক্লাস শুরু হবে।
এদিকে, বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবারও কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইন প্রক্রিয়ার বাইরে ম্যানুয়াল বা নিজেদের ইচ্ছে মতো অন্য কোন প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবেনা। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালায় এসব নিয়মের কথা বলা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন স্বাক্ষরিত নীতিমালাটি ২১ এপ্রিল (রোববার) জারি করা হয়।
এবারও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতে শতভাগ কলেজেই অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্নের কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। শতভাগ আসনে মেধায় মনোনীতরা ভর্তির সুযোগ পাবে। আর ভর্তিযোগ্য মোট আসনের অতিরিক্ত হিসেবে ভর্তির সুযোগ রাখা হয়েছে কোটা সুবিধা ধারীদের।
অনুমতি বা স্বীকৃতিবিহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি নিষিদ্ধ: নীতিমালায় অনুমতি বা স্বীকৃতিবিহীন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তি নিষিদ্ধ করেছে মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় এ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ ৮ এর উপ-অনুচ্ছেদ ৮.১ ও ৮.২ এ বলা হয়েছে-পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি বিহীন কোন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানে কোন অবস্থাতেই ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করা যাবে না। একই ভাবে পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতিপ্রাপ্ত বা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কোন কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত শাখা এবং অননুমোদিত কোন বিষয়ে ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি করা যাবে না। সকল শিক্ষাবোর্ডকে এ সংক্রান্ত সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে নীতিমালায়। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর শাহেদা ইসলাম আজাদীকে বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে আমরা ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। বোর্ড অনুমোদিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেয়া আছে। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন আছে কিনা তা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত হওয়ার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান।

x