অনন্য সমপ্রীতি সমাবেশ

সুপ্রতিম বড়ুয়া

বৃহস্পতিবার , ১৫ নভেম্বর, ২০১৮ at ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
12

সম্প্রীতি মানেই সবাই এক সঙ্গে থাকা। কোনো ধর্মের মানুষকে অত্যাচার করা নয়, পারস্পরিক সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রাখা। কারণ এটাই বাঙালির পরম্পরা। সমপ্রীতির ইতিহাস বাঙালীর ইতিহাস। সব ভিন্নতাকে পিছু ঠেলে দিয়ে সমপ্রীতির ঐতিহ্যকে জাগিয়ে তোলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি অসামপ্রদায়িক সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে যাওয়া। ধর্মীয় সমপ্রীতির উদাহরণ হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশ। যুগ যুগ ধরে আমরা বাঙ্গালিরা এই সমপ্রীতিকে লালন করে আসছি। এদেশে নানা ধর্মের মানুষের বসবাস হাজার বছর ধরে।যুগ যুগ ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ নিয়ে সুজলা-সুফলা বাংলায় নানা ধর্মের মানুষ এক সাথে আছে।এদেশের ধর্মীয় উৎসবগুলো সার্বজনীন। ঈদের আনন্দে মাতোয়ারা থাকি আমরা সকল ধর্মের মানুষ। তেমনি পূজা পার্বণ গুলোও আমরা সার্বজনীনভাবে পালন করি। মুসলিমদের ঈদে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সবাই একে অপরের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। এই যে পারস্পরিক ধর্মীয় শ্রদ্ধা বোধ এতে এক ধর্মের উপর অন্য ধর্মের চাপিয়ে দেয়ার কোন বিষয় নাই। সকল ধর্ম বর্ণ মিলবো আমরা এক কেন্দ্রবিন্দুতে। যার নাম বাঙালি।
তাই” গাহি সাম্যের গান” নজরুলের কবিতার স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে গত রোববার চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে হয়ে গেল ” সমপ্রীতি বাংলাদেশ” নামে সংগঠনের ‘সমপ্রীতি সমাবেশ’। সংগঠনের আহবায়ক নাট্যব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান। তাঁর ভাষণে তিনি জোর গলায় বলেন, ধর্মান্ধ, সামপ্রদায়িক শক্তিকে রুখে দিতে হবে এবং তার জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যের প্রয়োজন। তিনি বলেন, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে এখনি আমাদের দাঁড়াতে হবে এবং অসামপ্রদায়িক চেতনায় দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যাঁরা বিশ্বাসী যাঁরা অসামপ্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী তাদেরকে আমাদের ক্ষমতায় আনতে হবে কোন অবস্থায় যেন সামপ্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় আসতে না পারে। অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা প্রধান অতিথির সুত্রধরে বলেন, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি বজায় রাখার মধ্য দিয়ে জাতীয় উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখতে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল ধর্ম ও মতের মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।
পীযুষ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেলা থেকে উপজেলা পর্যায়ে এমনকি গ্রামেও সমপ্রীতি প্রতিষ্ঠিত করতে হবে, এলাকায় এলাকায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যাতে আমরা সামপ্রদায়িকতার বিষ দাঁত ভেঙ্গে দিতে পারি। তিনি বলেন ধর্ম – বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সুন্দর দেশ গড়তে মিলেমিশে কাজ করতে হব। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন কবি সাংবাদিক রাশেদ রউফ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, শিক্ষাবিদ প্রফেসর রীতা দত্ত, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ ড. আনোয়ারা আলম, বিএফইউজের সহ সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, জেলা আইনজীবী সমিতি চট্টগ্রাম সভাপতি এডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক নিতাই ভট্টাচার্য, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম বাবু, চট্টগ্রাম গ্রুপ থিয়েটার ফোরাম সভাপতি খালেদ হেলাল, চট্টগ্রাম আবৃত্তি জোটের অঞ্চল চৌধুরী, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সৈয়দ লিয়াকতউল্লাহ, গল্পকার দীপক বড়ুয়া এবং কাউন্সিলার গিয়াস উদ্দিন। সমাবেশে চার ধর্মের চার প্রতিনিধিও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন আবৃত্তি শিল্পী মিলি চৌধুরী এবং মুজাহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য এবং বৃন্দআবৃত্তি পরিবেশিত হয়।

x