অধিকতর তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে

ভারতীয় শিক্ষার্থী আতিফ হত্যা মামলা

আদালত প্রতিবেদক

বুধবার , ১ আগস্ট, ২০১৮ at ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
40

চট্টগ্রামে ভারতীয় শিক্ষার্থী মো. আতিফ শেখ হত্যা মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আবু সালেম মো. নোমান এই আদেশ দেন।

এর আগে ঘটনাস্থলে পাওয়া রক্তমাখা ছুরির বাঁটের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফল ও চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট একাধিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিহত আতিফের স্বদেশি উইনসন সিংকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছিলপুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তবে কেন, কী কারণে আতিফ শেখ খুন হয়েছেন সে তথ্য পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে ছিল না।

মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, গত ২২ জুলাই অভিযোগপত্রটি মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা হয়। এতে একজনকে আসামি এবং ২৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। মঙ্গলবার অভিযোগপত্রটি গ্রহণের শুনানির দিন ছিল। খুনের কারণ উল্লেখ না থাকায় পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রটি গ্রহণ না করে মামলাটি সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

২০১৭ সালের ১৪ জুলাই রাতে নগরীর আবদুল হামিদ সড়কের লেকভিউ সোসাইটির একটি আবাসিক ভবনের পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় আতিফকে। ওই কক্ষ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় উইনসনকে। তারা দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) এমবিবিএস চতুর্থ বর্ষে পড়তেন। আতিফ খুন হওয়ার চার দিন পর গত বছরের ১৮ জুলাই তার বাবা আবদুল খালেক বাদী হয়ে আকবরশাহ থানায় আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। আসামিদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয়, দুজন বাংলাদেশি। আট আসামির মধ্যে দুই ভারতীয় গুরঙ্গ নিরাজ ও উইনসনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ছুরি, ছুরির বাঁট এবং বিছানার চাদরের রক্তের নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে পুলিশ। ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ পরীক্ষা হয়। গত ১১ জানুয়ারি এই প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমার হাতে পৌঁছায়। এতে দেখা যায়, চাদর এবং ছুরিতে লেগে থাকা রক্তের নমুনা একই ব্যক্তির। কিন্তু ছুরির বাঁটের রক্তের নমুনা ভিন্ন দুই ব্যক্তির। ওই নমুনার সঙ্গে কার রক্তের মিল রয়েছে তা জানতে ডিএনএ পরীক্ষা হয় গত ২১ জানুয়ারি। এরপর ৮ মার্চ প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর পিবিআই জানতে পারে, ঘটনাস্থল হতে জব্দকৃত ছুরির বাট থেকে ভিন্ন একজন পুরুষের ডিএনএর সাথে উইনসনের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়। অবশিষ্ট ডিএনএটি নিহত আতিফ শেখের।

এর আগে রিমান্ডে নিয়েও কোনো তথ্য না পাওয়ায় ২০১৭ সালের ৭ আগস্ট উইনসনের মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ১০ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে উইনসনকে পরীক্ষার নির্দেশ দেন আদালত। পরে হাসপাতাল থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়, মানসিকভাবে সুস্থ রয়েছেন উইনসন। তার স্মৃতিভ্রষ্ট হয়নি। ইচ্ছা করেই মুখ খুলছেন না তিনি।

সায়েন্টিফিক তদন্তের’ আশ্রয় নিয়ে ফরেনসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বদেশি উইনসনকে একমাত্র আসামি করে পিবিআই তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। তদন্তের বিষয়ে মামলার বাদী আতিফের বাবা আব্দুল খালেক একমত ছিলেন।

x