অতীত নিয়ে কথার খণ্ডিত প্রচারে বিভ্রান্তি : শিক্ষামন্ত্রী

বৃহস্পতিবার , ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ at ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ
275

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ঘুষ খাওয়া নিয়ে তার যে বক্তব্যের জন্য সমালোচনা হচ্ছে, তা তিনি বলেছিলেন অতীতের উদাহরণ দিতে গিয়ে; এখনকার পরিস্থিতি ততোটা খারাপ নয়। ওই বক্তব্য ‘খণ্ডিত আকারে’ প্রচার করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে এবং অনেক ‘বিশিষ্ট ব্যক্তিও’ এখন প্রশ্ন তুলছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

সপ্তাহের শুরুতে এক অনুষ্ঠানে ঘুষ নিয়ে ওই বক্তব্যের পর নানামুখী আলোচনার প্রেক্ষাপটে গতকাল সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশিষ্টজনদের কেউ কেউ কতিপয় মিডিয়ার খণ্ডিত ও ভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে আমার বিরুদ্ধে নানা পশ্ন তুলছেন। তাদের উদ্দেশে সবিনয়ে বলতে চাইসুদীর্ঘকাল ধরে আপনারা আমার সততার সংগ্রাম, নীতিআদর্শ, কর্তব্যনিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ বিষয়ে অবগত। মিডিয়ার খণ্ডিতভিত্তিহীন সংবাদের ওপর ভিত্তি করে কোনো মন্তব্য করার আগে সরাসরি আমাকে প্রশ্ন করলে অনেক বেশি খুশি হতাম।”

রোববার শিক্ষা ভবনে এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও ধরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়, যাতে কর্মকর্তাদের ‘সহনশীল মাত্রায় ঘুষ খাওয়ার’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভিডিওতে নাহিদকে বলতে শোনা যায়, সব জায়গায় যে বলেছি অপচয়দুর্নীতি আমরা কঠোর অবস্থান নেব এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে আমাদের জিরো টলারেন্স। এটা আমাদের বলতে হরে কিন্তু আমি ইডির (ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট) সভায় বলছি, আপনারা দয়া করে ভালো কাজ করবেন। আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ, আপনারা ঘুষ খাবেন, তবে সহনশীল পর্যায়ে খাবেন। অসহনীয় হয়ে বলা যায় আপনারা ঘুষ খাইয়েন না, এটা অবাস্তবিক কথা হবে।

ওইদিন নাহিদ বলেন, নানা জায়গায় এ রকম হইছে, সব জায়গাতেই এ রকম হইছে। খালি যে অফিসার চোর, তা না, মন্ত্রীরাও চোর, আমিও চোর। এই জগতে এ রকমই চলে আসতেছে। সবাইকে আমাদের পরিবর্তন করতে হবে। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ব্যাখ্যায় বলা, আট বছর আগের অবস্থা কেমন ছিল বোঝাতে গিয়ে মন্ত্রী সভায় ওই কথা বলেন। এরপর বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ায় পরিস্থিতির এখন অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু কিছু সংবাদ মাধ্যম অতীত বিষয়ক বক্তব্য ও তুলনাকে বর্তমানের কথা ধরে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নাহিদও একই ধরনের ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থার মধ্যে ভাবমূর্তির দিক থেকে সব চেয়ে পিছিয়ে ছিল পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ের দুর্বলতা ছিল দৃশ্যমান। কর্মকর্তারা ঘুষদুর্নীতিতে ছিলেন ‘আকণ্ঠ নিমজ্জিত’।

x