অতি তুচ্ছ জিনিসও অতিমূল্যবান

আকাশ ইকবাল

বুধবার , ৩ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৩৪ পূর্বাহ্ণ
314

মাছের আঁশ বলতে আমরা সাধারণত মাছের উচ্ছিষ্ট অংশ বুঝে থাকি যা আমরা সচরাচর ফেলে দেই। কিন্তু এই আঁশের নানাবিধ ব্যবহার সম্পর্কে আমরা অনেকেই অজ্ঞাত। মাছের আঁশের কিছু আশ্চর্য করা ব্যবহার নিয়েই মূলত আজকের এই আয়োজন।
শক্তি উৎপাদনঃ মাছের আঁশের একটি গাঠনিক উপাদান হলো কোলাজেন (ঈড়ষষধমবহ) ফাইবার, এর উপর যখন কোন প্রকার বাহ্যিক চাপ বা শক্তি প্রয়োগ করা হয় তখন এর থেকে বৈদ্যুতিক চার্জ উৎপন্ন হয়। চীন ও জাপানে এই আঁশ ব্যবহার করে এমন জিনিস তৈরি করা হয় যেগুলো দ্বারা রিচার্জেবল ব্যাটারিতে চার্জ দেয়া যায়। তাছাড়া ঘরোয়া বিদ্যুৎ উৎপাদনেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে ।
ফার্মাসিউটিক্যালসঃ মাছের আঁশে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অ্যামাইনো এসিড। যার কারনে মাছের আঁশের পাউডার বিভিন্ন দেশে স্যুপের সাথে পুষ্টি প্রদায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাছাড়া কোলাজেন সমৃদ্ধ হওয়াতে কৃত্রিম কর্ণিয়া ও কৃত্রিম হাড় তৈরিতেও ব্যবহৃত হয় মাছের আঁশ। একটি বিশেষ রোগের প্রতিকারক হিসেবেও মাছের আঁশ ব্যবহার করা হয়। বিশেষ কিছু মাছের আঁশ (যেমন- তেলাপিয়া) মানুষের পুড়ে যাওয়া অংশে চামড়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য গবেষণা চলমান রয়েছে।
কসমেটিক্স বা প্রসাধনীঃ মহিলাদের সাধের প্রসাধনী লিপস্টিক ও নেইল পলিশের একটি অত্যাবশ্যক উপাদান হলো মাছের আঁশ থেকে আহরিত এক ধরনের যৌগ। এই যৌগ পদার্থের ব্যবহারের ফলে এই ধরনের প্রসাধনীর উজ্জ্বল ভাব ও স্থায়ীত্ব বজায় থাকে। তাছাড়া মেকআপ ও ব্লাশ তৈরিতেও ব্যবহার হয় মাছের আঁশ থেকে আহরিত এই যৌগ। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিশাল পরিমাণ মাছের আঁশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।
পরিবেশ দুষণ রোধঃ পরিবেশ দূষণের মধ্যে বিশেষত পানি দূষণের জন্য দায়ী একটি কারণ হলো ধাতব দ্রব্যের দূষণ। সমপ্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণার মাধ্যমে মত দিয়েছেন যে এই ধাতব দ্রব্যের দূষণ রোধে মাছের আঁশ খুবই কার্যকরী। মাছের আঁশের রয়েছে এ ধরণের সামর্থ যার কারণে বিভিন্ন ধাতব দ্রব্যের দূষণ যেমনঃ কপার, সীসা ইত্যাদির দূষণ রোধ করতে মাছের আঁশ থেকে তৈরি পাউডার খুবই কার্যকরী, পরিবেশবান্ধব, ও অর্থসাশ্রয়ী।

x