অটিস্টিক শিশু বোঝা নয়

শনিবার , ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৭:০১ পূর্বাহ্ণ
37

‘অটিস্টিক’ বা যাকে বলে প্রতিবন্ধী। অটিজম কোন রোগ নয়, এই শিশুগুলো এক ধরনের শারীরিক অবস্থায় ভোগে যাকে Autism Spectrum Disorder [ADS] বলে। এরা সাধারণ বাচ্চাদের থেকে ভিন্ন হয়। এদের চলাফেরা, কথাবার্তা একজন সাধারণ শিশুদের থেকে আলাদা। যখন কোন পরিবারে একজন অটিস্টিক শিশুর জন্ম হয় তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সমাজের কিছু শ্রেণির মানুষ তাদের সহায়তা কিংবা ভালো পরামর্শ না দিয়ে উল্টো নেতিবাচক মন্তব্য করে যেমন- ‘এই শিশুটি নিয়ে কি করবে?’ ‘এই বাচ্চাটি তো পরিবারের জন্য বোঝা’, ‘কপাল খারাপ বলেই এমন শিশুর জন্ম হয়েছে’ ইত্যাদি।
এই সব নেতিবাচক মন্তব্য আরো বেড়ে যায় যখন শিশুটি একটি কন্যা শিশু হয় যেমন : ‘এই মেয়ের বিয়ে কীভাবে দিবে?’ ‘বাবা-মা না থাকলে এই মেয়েকে কে দেখবে?’ ‘কারো অভিশাপের কারণেই এমন শিশুর জন্ম নিয়েছে’। কিন্তু এমন ধরনের চিন্তাধারা ভুল। এই বাচ্চারা মোটেও বোঝা নয়, যদি তাদের ঠিকমত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সব মানুষের মধ্যেই কিছু না কিছু গুণ আছে হোক না সে অটিস্টিক। সৃষ্টিকর্তা কিছু না কিছু গুণাগুণ দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর এই গুণগুলোকে বিকশিত করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। বিকশিত করার জন্য প্রথম যে কাজটি করতে হবে তাহল তাদের সম্ভাবনাগুলো নির্ণয় করতে হবে অর্থাৎ কোন বিষয়ের উপর তাদের কতটুকু আগ্রহ আছে, কতটুকু পারদর্শিতা আছে সেটি খুঁজে বের করে তাকে সেইভাবেই প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অনেক অটিস্টিক শিশু অনেক ভালো ব্লক বাটিক, রান্না, গান, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন হাতের কাজ করে দেখাচ্ছে। এখন প্রতিবন্ধী শিশুরা ক্রিকেট খেলে, তারা অলিম্পিক এ গোল্ড মেডেল এনে দেয়, যেমন আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়ার দিল্লীতে ইয়াস সিং জগত সর্বপ্রথম মেডেল পায় ২৫ মিটার বেকস্ট্রোক সুইমিং ইভেন্ট এর জন্য Special Olympics World Summer Games 2015 Los Angeles এ। আবার কিছু বাচ্চার কিছু বিশেষ গুণ আছে তাদের মস্তিষ্ক সাধারণ বাচ্চাদের থেকে অনেক সময় তীব্র হয়। তাদের অংক, অংকন ইত্যাদিতে অনেক ভালো হয়। এই বাচ্চাদের High Functioning Autistic Child বলে। অটিস্টিক বাচ্চারা নির্বোধ নয়। তারা অনেক মেধাবী হয়। যেটি দেখতে সমাজ ব্যর্থ। তাদের অনন্য ব্যক্তিত্ব, মেধা না দেখে তাদের একঘরে করে রাখা হয়। সাধারণ বাচ্চাদের সাথে তাদের খেলতে দেওয়া হয় না। অথচ এই শিশুরা সাধারণ শিশুদের থেকে ১০০ গুণ বেশি পরিশ্রমী। তাদেরকে সঠিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে তারা কখনো সমাজের বোঝা হতে পারে না।
উল্টো তারা অবদান রাখতে পারে সমাজের, পরিবারের এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, কিন্তু এই প্রশ্ন জাগতে পারে এই প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রচুর টাকার প্রয়োজন, তা তো সবার পক্ষে সম্ভব নয়। তার জন্য সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে কম খরচে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব এবং সমাজ সেবা অফিস এই বাচ্চাদের ভাতা দেয় মাসিক ৬০০/- টাকা হারে Ministry of Social welfare এর অধীনে। ২ এপ্রিল, ২০১৮ অটিজম এওয়ারনেস ডে তে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে এই শিশুদের পিতা-মাতা মারা গেলে বাংলাদেশ সরকার সেই শিশুদের তত্ত্বাবধান এর ব্যবস্থা করবেন।
সরকারি অনেক প্রতিষ্ঠান থাকলেও সে গুলোতে ভালো সুবিধা তৈরি হয়নি যার ফলে বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেতে হয় যেখানে প্রচুর খরচ ৬০০/- টাকা হারে মাসিক ভাতা দিলেও এই ভাতা তাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। তাই সরকারের সাথে সমাজের বিত্তবান ও সকল স্তরের মানুষগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে অটিস্টিক শিশু এবং তাদের পরিবারকে সহযোগিতা করার জন্য। আমাদের মনে রাখা উচিত এই Special child গুলো আসলেই অসাধারণ কারণ এরা সাধারণ না হওয়া শর্তেও নিজেদের কর্মক্ষম করে তুলতে পারে।

প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন: প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী- ওয়ারদাতুল আকমাম,
বৃষ্টি দে, তাহিয়া মাহজাবিন, নুরজাহান বেগম।

Advertisement