অটিস্টিক শিশুকে সঠিক শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে

মঙ্গলবার , ২ এপ্রিল, ২০১৯ at ৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ
101

আজ বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বিশেষ করে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুদের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি ও তাদের প্রতি মমত্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিবছর ২ এপ্রিল বিশ্বব্যাপী অটিজম দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম -ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। আমাদের সবাইকে অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে ভাবতে হবে, তাদের ভালোবাসতে হবে -এটাই এই দিবস আয়োজনের মূল তত্ত্বকথা। কোনো অন্যায় আচরণ না করে স্বাভাবিক শিশুর পাশাপাশি তাদের সব ক্ষেত্রে অধিকার দেওয়া বাঞ্ছনীয়। তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সমাজ ও পরিবার গঠনে সচেষ্ট থাকার আগ্রহ তৈরি করতে পারলে এই দিবস পালনের সার্থকতা আসবে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অটিজম কোনো রোগের মধ্যে পড়ে না। তবে এটা একটা আচরণগত সমস্যা। অটিজম শিশুর চালচলন স্বাভাবিক বাচ্চাদের চেয়ে আলাদা ধরনের হয়ে থাকে। অটিজম একটি মস্তিষ্কের বিকাশগত সমস্যা হলেও রোগটি চিহ্নিত করা হয় শিশুদের প্রাত্যহিক কার্যকলাপ যোগাযোগের দক্ষতা এবং বিকাশের ধারা থেকে। তাঁরা বলেন, এই রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। এই রোগের সাথে মানসিক প্রতিবন্ধকতা জেদী ও আক্রমণাত্মক আচরণ, অহেতুক ভয়, খিঁচুনী ইত্যাদি থাকতে পারে। অটিজমের কোনো জাদুকরি চিকিৎসা নেই। যত দ্রুত এই রোগটি শনাক্ত করা যায় এবং অটিস্টিক শিশুটিকে সঠিক শিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা যায় তত তাড়াতাড়ি উন্নতি লাভ করা সম্ভব।
জানা যায়, দেশের ৬৪টি জেলা ও ৩৯টি উপজেলায় মোট ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অটিজম কর্নার চালু করা হয়েছে যা থেকে প্রায় ২৪ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সেবা গ্রহণ করেছেন। ঢাকা শিশু হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালসহ অনেকগুলো সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে শিশু বিকাশ কেন্দ্র স্থাপন করে অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল সমস্যাজনিত শিশুদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে অটিজম আক্রান্তদের শনাক্ত করে তাদের কাউন্সিলিং ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট ফর পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার এন্ড অটিজম’-এর মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইসিডিডিআরবির মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের প্রাথমিক পরিচর্যাকারী হিসেবে মায়েদের প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অটিজমকে এক সময় অভিশাপ হিসেবে ভাবা হতো। বলা হতো, অটিস্টিক শিশুরা সমাজের বোঝা। পরিবারের কাছেও তারা ছিল অবহেলিত। অটিস্টিক শিশুদের সুষ্ঠু স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য ছিল না যথাযথ পরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা এবং ব্যবস্থাপনা। কিন্তু বর্তমানে অটিজম মোকাবেলায় বাংলাদেশ বিশ্বে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
বিশেষজ্ঞরা আরো জানান, অটিজম চিকিৎসায় ওষুধের কোনো ভূমিকা নেই। এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ। তবে প্রতিটি অটিস্টিক শিশুই আলাদা হওয়ায় তাদের প্রশিক্ষণের ব্যাপারটি একজনের চেয়ে আরেকজনেরটা আলাদা। যত আগে অটিজমের বিষয়টা উপলব্ধি করে চিকিৎসা শুরু করা যায়, ততই ভালো। সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করলে প্রতিটি অটিস্টিক শিশুই উন্নতি করে। অটিজম আক্রান্তদের যে কোনো কাজ থেকে বঞ্চিত করা বা অধিকার না দেয়ার অর্থ মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের জানতে হবে যে তারাও মেধাবী। তাদের মেধা ও শ্রমকে কেবল সব কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মূলত এই সব বিষয় নজরে রেখে অটিজম শিশু এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বলা যেতে পারে অটিজম মোকাবেলায় আরো কতকগুলো কার্যক্রম হাতে নিয়েছে সরকার। অটিজম আক্রান্তদের স্বার্থ ও অধিকার সুরক্ষায় নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্টি বোর্ড গঠন ও সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। কাজেই বলা যায়, প্রতিবন্ধীদের প্রতিপালনে রাষ্ট্রের কর্তব্য যথাযথভাবে পালন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে সরকারের সাফল্য ধরে রাখতে হবে। অটিজম বিষয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

x