অটিজম তার লক্ষণ ও প্রতিকার

সানজিদা সুলতানা

শনিবার , ১৬ মার্চ, ২০১৯ at ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
40

অটিজম একটি মানসিক বিকাশঘটিত সমস্যা যা স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও পরিবর্তন জনিত অস্বভাবিকতার ফলে হয়। অটিজমে আক্রান্ত শিশুরা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে অসুবিধা হয়। অটিজমের কারণে কথাবার্তা, অঙ্গভঙ্গি ও আচরণ একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে আবদ্ধ থাকে আবার অনেক ক্ষেত্রে শিশুর মানসিক ও ভাষার উপর দক্ষতা কম থাকে। সাধারণত ১৮ মাস থেকে ৩ বছর সময়ের মধ্যেই এই রোগের লক্ষণগুলো দেখা যায়।
অটিজমে আক্রান্ত শিশুর কিছুর আচরণগত সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। যেমন :
সে সামাজিকভাবে মেলামেশা করতে পারে না। তার সাথে তার অন্যান্য আচরণ, সামাজিকতা , অন্য একটি শিশুর সাথে অথবা বয়স্ক মানুষের সাথে মেশার বিষয়ে গন্ডগোল থাকলে ধরে নিতে হবে শিশুটি অটিজমে আক্রান্ত হতে পারে। অটিজমের লক্ষণগুলো সঠিকভাবে জানার মাধ্যমে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এই রোগে ব্যক্তিদের মধ্যে যে লক্ষণগুলো দেখতে পাওয়া যায় তা হল :
অটিস্টিক শিশুদের ঘুম সম্পর্কিত কিছু সমস্যা থাকে। ঘুম স্বাভাবিক না হওয়ার কারণে তাদের মনযোগ ও কাজের সক্ষমতা কমে যায় এবং আচার- আচরণে সেটি পরিষ্কার বোঝা যায়। অনেক শিশু সঠিক সময়ে কথা বলতে সমস্যা হয়। মূলত ১৮ মাস থেকে ২ বছর সময়ের মধ্যে এটি বোঝা যায়। অনেক অটিস্টিক শিশুর মাঝে অল্পমাত্রায় হলেও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীতা লক্ষ্য করা হয়। অনেক শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে হয় না। অটিজম আক্রান্ত অনেক শিশু দেখা, শোনা, গন্ধ, স্বাদ, স্পর্শের প্রতি সংবেদনশীল অথবা প্রতিক্রিয়াহীন থাকতে পারে। সাধারণরত অটস্টিক শিশুদের প্রতি চারজনের একজনের খিচুনী সমস্যা হতে পারে। অটিজমে থাকা শিশুদের মানসিক অস্থিরতার ঝুঁকি বেশি থাকে।
অটিজমের প্রতিকার : কোনো শিশু অটিজমে আক্রান্ত হলে অনতিবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় অটিজম নির্ণয় করতে পারলে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অটিজমের প্রতিক্রিয়াগুলো অনেক সফলভাবে মোকাবেলা করা যায়। শিশুর কি ধরনের অস্বাভাবিকতা আছে সেটি সঠিকভাবে নির্ণয় করে, নির্দিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সম্বনয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

- Advertistment -