অজুহাত দিয়ে মুখ লুকানোর চেষ্টা সাকিবের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

মঙ্গলবার , ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ
63

চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সাকিব বলেছিলেন তিনি নিজে দেড়শ আর সৌম্য ১৩০ করতে পারলে ম্যাচ জেতা সম্ভব। সে সাথে অকপটে বলে দিয়েছিলেন বৃষ্টিই কেবল তাদের বাঁচাতে পারে। কিন্তু সে বৃষ্টিও বাঁচাতে পারেনি সাকিবদের লজ্জার পরাজয় থেকে। গতকাল ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে আরো একবার অজুহাত দাড় করিয়ে লজ্জায় মুখ লুকানোর চেষ্টা করলেন সাকিব। এবার বললেন মিরাজ রিভিউটা না নিলে হয়তো ফল ভিন্নও হতে পারতো। যেখানে অধিনায়ক নিজে উইকেটে থেকেও এক ঘন্টা খেলতে পারেননা, দায়িত্বহীন এক শট খেলে দলকে পরাজয়ের মালা পরিয়ে দিয়ে আসেন তিনিই কিনা আবার বলেন মিরাজ রিভিউ না নিলে ফল ভিন্ন হতে পারতো। যদি গতকাল সকাল থেকে বৃষ্টি না হতো তাহলে শেষদিনে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে হতো অন্তত ৯৮ ওভার। কিন্তু দিনের লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাট করে দিল বৃষ্টি। যা কাজটাকে করে দেয় আরও সহজ। শেষতক বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায়। ৪ উইকেট হাতে নিয়ে ১৮.৩ ওভার কিংবা ৭০ মিনিট ব্যাটিং করলেই পাওয়া যাবে মান বাঁচানো ড্র। কিন্তু সেটাও পারলনা বাংলাদেশ। পারলেননা অধিনায়ক সাকিব এবং সৌম্য সরকার। বাংলাদেশ অলআউট হয়ে গেলো ১৫.১ ওভারেই। আফগানরা পেলো ২২৪ রানের অবিস্মরণীয় এক জয়। সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকারের মতো স্বীকৃত ব্যাটসম্যানরা থাকার পরও শেষ বিকেলের ৭০ মিনিট টিকে থাকতে না পারা নিঃসন্দেহে ব্যর্থতারই পরিচয় সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা।
তবে এমন পরাজয়কে চরম ব্যর্থতা হিসেবে মেনে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যর্থতা না হয় মানা গেলো। কিন্তু ৭০ মিনিট ব্যাটিং করার পরিকল্পনা করা এবং সেটা মাঠে বাস্তবায়নের সামর্থ্যটা দেখাতে না পারাটা কতটা মেনে নেওয়া যায়। তাহলে কি এই অল্প সময় ব্যাট করার সামর্থও নেই বাংলাদেশের। সাকিব বলেন ফলাফল যদি দেখেন তাহলে আমি তো বলবো অবশ্যই নেই। যদি সেই সামর্থ্য থাকতো তাহলে আমরা আরও ভালো কিছু দেখাতে পারতাম। এর পরপরই আবার মিরাজের বাজে রিভিউয়ের ব্যাপারে আক্ষেপ শোনা গেলো টাইগার অধিনায়কের কণ্ঠে। রশিদ খানের করা ইনিংসের ৫৬তম ওভারের তৃতীয় বলে নিশ্চিত এক লেগ বিফোরের সিদ্ধান্তের বিপরীতে রিভিউ নিয়েছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। যা ছিলো বাংলাদেশের শেষ রিভিউ। সঙ্গত কারণেই সে রিভিউটি হারায় বাংলাদেশ। রশিদের পরের ওভারেই তাইজুলের বিপক্ষে ভুল সিদ্ধান্ত দেন আম্পায়ার পল উইলসন। ব্যাটে লেগে প্যাডে লাগার পরও তাইজুলকে লেগ বিফোর আউট দেন তিনি। কিন্তু রিভিউ শেষ হওয়ায় তা নিতে পারেননি তাইজুল।
সাকিব বলেন, তাইজুলের আউটটা যদি দেখেন তা ব্যাটে লেগে প্যাডে লাগলো। কিন্তু মিরাজেরটা ছিল আউট। যে একদিন ক্রিকেট খেলেছে তারও বুঝতে পারার কথা যে নিশ্চিত আউট ছিল। মিরাজ যদি যদি রিভিউটা না নিতো এবং সেটা পরে তাইজুল নিতে পারতো। এটা আমাদের অনেক সাহায্য করতো। কারণ তাইজুল প্রথম ইনিংসে অনেকক্ষণ ব্যাটিং করেছিল। বেশ কিছু ভালো ডিফেন্সও করেছিল। সাকিব বলেন, এ ধরনের ভুলভ্রান্তিগুলো আসলে হয়। আবার যদি ধরেন সৌম্য রানটা নিয়ে মাথায় হাত দিলো। তার মানে কোথাও ভুল ছিল। সৌম্য বুঝতে পারছে না যে ওর কাজটা কি। এখন এই জিনিসগুলো অনেক কিছু বোঝার আছে। অনেককিছু শেখার আছে। এখন কতদিন যে লাগবে শিখতে। এটাও একটা বড় ব্যাপার। তবে সাকিব স্বীকার করে নিয়েছেন যে নিজেদের ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি আফগানদের বোলিং এই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। স্বাগতিকদের ২০ উইকেটের ১৯টিই নিয়েছেন আফগান স্পিনাররা। সাকিব জানালেন, আমি মনে করি আমাদের ব্যাটিং আর আফগানিস্তানের বোলিং এই ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আরও ভালো করার জন্য কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। ধারাবাহিক হতে আমাদের সেটাই প্রয়োজন। প্রায় ২০ বছর টেস্ট খেলার পর আমরা বলতে পারি না যে আমরা উন্নতির ধাপে আছি। আমরা যদিও অনেকদিন পর টেস্ট খেলেছি, তারপরও আফগানদের প্রশংসা করতেই হবে। আমাদের যত দ্রুত সম্ভব এই ম্যাচের কথা ভুলে যেতে হবে।’ কদিন পরই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নামবে বাংলাদেশ। দলপতি সাকিব চাইছেন সেদিকেই মনোযোগ দিতে। ‘এই টেস্ট ম্যাচকে ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। টি-টোয়েন্টির দিকে ফোকাস রাখতে হবে। এই ফরম্যাটে আফগানরা খুব ভালো দল। আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছর। আমাদের সেদিকেই নজরটা রাখতে হবে।

x