অচল মহাসড়কে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ

ঢাকায় আটকা পড়েছেন বান্দরবানের নেতৃবৃন্দ ।। কার মাইক্রো চলাচলেও বাধা

আজাদী ডেস্ক

সোমবার , ২৯ অক্টোবর, ২০১৮ at ৪:২৩ পূর্বাহ্ণ
25

সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ ৮ দফা দাবিতে সারাদেশে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের প্রথম দিনে গতকাল ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক ছিল একেবারেই ফাঁকা। বিভিন্নস্থানে অবস্থান নিয়ে মহাসড়কে পিকেটিং করতে দেখা গেছে পরিবহন শ্রমিকদের। দূরপাল্লার বাস ট্রাক সহ কোনো বড় বাহনই রাস্তায় নামেনি। কার মাইক্রো, টেঙি চলাচল করার চেষ্টা করলেও শ্রমিকরা বাধা দেয়। এদিকে ঢাকায় পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেঙ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান করা বান্দরবানের বিপুল সংখ্যক নেতা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় আটকা পড়েছেন বলে জানা গেছে।
আমাদের মীরসরাই প্রতিনিধি ও সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, পরিবহণ না পেয়ে হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হয়। জরুরি প্রয়োজনে অনেককে পায়ে হেঁটে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে দেখা গেছে। বারইয়ারহাট, মীরসরাই, মিঠাছরা এলাকায় অফিসগামীদের অনেককে গাড়ির অপেক্ষায় রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। কেউ কেউ সিএনজি অটোরিকশায় কয়েক ধাপে গন্তব্যে পৌঁছান। এই সুযোগে রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা দুই তিন গুণ ভাড়া বাড়িয়ে দেন।
মীরসরাই থেকে সীতাকুণ্ড যাওয়ার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কর্মজীবী মামুনুর রশিদ জানান, ২ঘন্টা দাড়িয়ে আছি, কোন গাড়ি নাই। মীরসরাই থেকে সীতাকুণ্ডে যেতে ২০-২৫ টাকা লাগে। কিন্তু আজ টেঙিতে ৮০-১০০ টাকা ভাড়া চাইছে।
প্রাইভেট কার চালক রফিক উদ্দিন বলেন, যাত্রীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে অনেক ভয়ে ভয়ে বারইয়ারহাট থেকে যাত্রী নিয়ে এসেছি। ভাটিয়ারি থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না। অতিরিক্ত ভাড়া কেন নিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাত্রীরাতো আপত্তি করছে না। গন্থব্যে যেতে পারছেন এতেই তারা খুশি।
মীরসরাই থানার ওসি জাহিদুল কবির বলেন শ্রমিক ধর্মঘটের নামে কেউ কোন প্রকার বিশৃংখলা করার সুযোগ নিচ্ছে কিনা এই বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকা উচিত। মীরসরাই থানার সকল পুলিশ সদস্য এ বিষয়ে সজাগ আছে বলেও জানান তিনি।
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, পরিবহণ ধর্মঘটের প্রথমদিন রোববার ভোর থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বান্দরবান জেলা সদর এবং লামা উপজেলা সদর থেকে দূর পাল্লার এবং স্থানীয় রুট সমুহে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। বাস-ট্রাক ছাড়াও টেঙি-টেম্পুও চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে পর্যটকসহ যাত্রীসাধারণ আটকা পড়েন নানাস্থানে।
চকরিয়া প্রতিনিধি জানান, পরিবহন ধর্মঘটের প্রথম দিনে গতকাল কঙবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় কোন ধরণের যানবাহন চলাচল করতে দেয়নি শ্রমিকরা। এমনকি মহাসড়ক ছাড়াও অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং পাড়া-গাঁয়ের সড়কেও যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। এতে দুর্বিষহ যন্ত্রণার মধ্যে পড়েছেন যাত্রীসাধারণ।
পুলিশ জানায়, রবিবার সকাল ৬টা থেকে মহাসড়কে কোন গাড়ির দেখাই মেলেনি। এছাড়াও চিরিঙ্গা-বদরখালী সড়ক, চিরিঙ্গা-বেতুয়া বাজার সড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সড়ক এবং পেকুয়ার মগনামা-বানিয়ারছড়া-একতা বাজার সড়কে যাত্রীবাহী জিপ, সিএনজি অটোরিকশা, বাস, টেম্পো, মাহিন্দ্র চলাচল বন্ধ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পেকুয়ায় ধর্মঘট চলাকালে সকালে মগনামা-বানিয়ারছড়া সড়কের মগনামা বাইম্যাঘোনা কাঁটাফাড়ি সেতু এলাকায় কয়েকটি সিএনজি চালিত অটোরিঙা ও ইজিবাইক টমটম-এ ভাঙচুর চালায় শ্রমিক নামধারী দুর্বৃত্তরা। এর পর থেকে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়। পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন ভূঁইয়া বলেন ‘পরিবহন ধর্মঘটের নামে যাতে
এদিকে পটিয়ার বিভিন্ন সড়কে মাঝে মধ্যে সিএনজি অটোরিঙা চলাচল করলেও বিভিন্ন এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা বাধা প্রদান করে। এতে সাধারণ যাত্রীদের মারাত্মক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। পটিয়ার যাত্রীদের বাস স্টেশন, আমজুর হাট, বাদামতল, শান্তির হাট ও মইজ্জারটেক পর্যন্ত কয়েকবার সিএনজি অটো রিঙা পরিবর্তন করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। আবার অনেককে নৌকায় চড়ে কর্ণফুলী নদী পার হতে দেখা যায়।

x