অঘোষিত ‘পরিবহন ধর্মঘট’, ভোগান্তিতে নগরবাসী

আজাদী অনলাইন

শনিবার , ৪ আগস্ট, ২০১৮ at ১:০৯ অপরাহ্ণ
188

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভের কারণে ‘নিরাপত্তার’ নামে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটে নগরীতে  গণপরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। সকালের দিকে চললেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় দুর্ভোগ পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

আজ শনিবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন সংকটে দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। নগরীসহ জেলার বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহণ রাস্তায় চলাচল করছে না। তবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

বহদ্দারহাট মোড়ে গণপরিবহনের অপেক্ষায় থাকা রবিউল হোসেন রাসেল নামে এক যাত্রী বলেন, ‘যথারীতি আ্রগাবাদে অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরিয়েছি কিন্তু রাস্তায় এসে দেখি কোনো বাস নেই। শত শত যাত্রী বহদ্দারহাট মোড়ে বাসের অপেক্ষায় রয়েছে। কোনো বাস নেই। এদিকে, অফিসের সময়ও পার হয়ে যাচ্ছে। খুব সমস্যায় পড়ে গেলাম।’

একইভাবে নগরীর মুরাদপুর, চকবাজার, ষোলশহর ২ নম্বর গেইট, কালুরঘাট, আন্দরকিল্লা, নিউ মার্কেট, কাজীর দেউড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। নগরীর বেশিরভাগ দূরপাল্লার কাউন্টার বন্ধ রাখার কারণে কিছু কিছু যাত্রীকে কাউন্টারের সামনে থেকে ফিরে যেতে দেখা গেছে।

কোনো ধর্মঘট আহ্বান করা হয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের পূর্বাঞ্চলীয় সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বলেন, ‘নিরাপত্তার অভাবে হয়তো চালকরা গাড়ি চালাচ্ছেন না। শিক্ষার্থীরা যেহেতু সড়কে গাড়ি থামিয়ে বৈধ কাগজপত্র ও লাইন্সেস দেখছে তাই হয়তো অনেকে গাড়ি রাস্তায় নামায়নি যাদের ড্রাইভিং লাইন্সেস ও বৈধ কাগজপত্র নেই। তবে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ধর্মঘট ডাকিনি। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে চালকরা গাড়ি চালাচ্ছেন না।’

পাশাপাশি নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো বিরোধে না যাওয়ার জন্য পরিবহন সেক্টরের সকলকে নির্দেশনা দেয়ার কথাও জানান এ পরিবহন শ্রমিকনেতা।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই বাসের রেষারেষিতে একটির চাপা পড়ে দুই কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনার পর বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

এরপর কিছু গাড়ি ভাঙচুর হয়। রাস্তায় শিক্ষার্থীরা চালক ও গাড়ির কাগজপত্র তল্লাশি করলে এক পর্যায়ে ‘নিরাপত্তা’র অজুহাতে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক-শ্রমিকরা।

x