অগ্রিম টিকিটের লাইনে দেড় ঘণ্টার দুর্ভোগ

ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ১১ আগস্ট, ২০১৮ at ৩:৩৭ পূর্বাহ্ণ
61

ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সার্ভারে কাজ না করায় চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি দেড় ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এর ফলে ঈদের অগ্রিম টিকিটের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েন। প্রতিদিনের মতো যাত্রীরা গতকাল শুক্রবারও সকাল ৮টায় টিকিটের জন্য লাইন ধরেছিলেন। টিকিট বিক্রি শুরু হবে এমন সময় কাউন্টারের সামনে এসে জানতে পারে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সার্ভার কাজ করছে না। ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রির তৃতীয় দিনে দীর্ঘ সময় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে চট্টগ্রাম রেল স্টেশনে রাত থেকে অপেক্ষায় থাকা টিকেট প্রত্যাশীদের। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সার্ভারে জটিলতা দেখা দেয়ায় সকাল ৮টার পরিবর্তে ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে টিকেট বিক্রি শুরু করে রেল কর্তৃপক্ষ। বিলম্ব হলেও প্রায় যাত্রীই টিকিট পেয়েছেন। ৮৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়েছে। ১৫ শতাংশ টিকিট রয়ে গেছে। বিজয় এক্সপ্রেস, তূর্ণা নিশীতা এবং মেঘনা এঙপ্রেসের সকল টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানান স্টেশন ম্যানেজার।

দীর্ঘ বিড়ম্বনার কারণে টিকিটের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের লাইন ততক্ষণে কাউন্টারের সামনের অংশ পার হয়ে বাইরে চলে যায়।

গতকাল বেলা ১১টার দিকে রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের তৃতীয় দিনের টিকিটের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। টিকিটের জন্য অনেক যাত্রী আগের দিন রাত থেকে, অনেকে টাকা দিয়ে লোক লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষায় থাকা অনেক টিকিট প্রত্যাশীকে ক্লান্ত হয়ে স্টেশনের ফ্লোরে বসে পড়তে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেলওয়ের চট্টগ্রাম স্টেশন ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, সদরঘাটসহ কয়েকটি স্থানে ফাইবার অপটিক লাইন কাটা পড়ায় আমাদের সার্ভার সচল ছিল না। তাই সকাল ৮টার পরিবর্তে ৯টা ৪০ মিনিটে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। শুক্রবার ঈদের তৃতীয় দিনের অগ্রিম টিকিট দেয়া হয়েছে। টিকিটের চাহিদা ছিল বেশি। ৮৫ ভাগ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ১৫ ভাগ টিকিট রয়ে গেছে। এরমধ্যে সুবর্ণ এঙেপ্রেসে ১৯০ টি টিকিট, চাঁদপুর এঙপ্রেস১ এ ৩০৮টি টিকিট এবং চাঁদপুর এঙপ্রেস২এ ২০৮টি টিকিট রয়ে গেছে।

তিনি জানান, শুক্রবার চট্টগ্রামচাঁদপুর রুটের এক জোড়া স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ১২টি ট্রেনের ৮ হাজার ৮১৩ টিকিটের মধ্যে কাউন্টারে বিক্রির জন্য রাখা হয় ৬ হাজার ৮৪৫ টিকিট। ২৫ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হবে। ৫ শতাংশ করে ১০ শতাংশ টিকিট ভিআইপি ও রেলকর্মীদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।

পতেঙ্গা থেকে আসা গার্মেন্টস কর্মী রুবিনা আক্তার বলেন, ভোর রাতে এসেছি বিজয় এঙেপ্রেসের টিকিটের জন্য। ৯ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পেয়েছি।

ইপিজেড এলাকা থেকে আসা রবিউল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন ১২টা বাজে। এখানো টিকিট পাইনি। সকাল ৮টায় কাউন্টার খোলা হলে এখন টিকিট নিয়ে বাসায় চলে যেতে পারতাম।

x