অগ্নিকান্ড এবং ভবন নির্মাণ

শুক্রবার , ৫ এপ্রিল, ২০১৯ at ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
27

একের পর এক ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো শিক্ষা হচ্ছে না। আগুনে নিহতদের বুকফাটা কান্না সাধারণ মানুষের মধ্যে হাহাকার সৃষ্টি করলেও তাদের টনক নড়ছে না। হাজার হাজার ভবন অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মিত হয়েছে এবং হচ্ছে। শুধু রাজধানীতেই নয়। বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের বেশির ভাগ আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছে। বিভাগীয় শহর গুলোও এর ব্যতিক্রম নয়। আধুনিক নগরীতে হাইরাইজ বিল্ডিং হবে তা স্বাভাবিক। তবে এসব ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিয়ম নীতি রয়েছে। সেগুলো যথাযথভাবে মেনে করা উচিত। বলার অপেক্ষা রাখে না, নিয়ম না মেনে একটি ভবন নির্মিত হয়ে গেলে তা পুনরায় সংস্কার করা বা ভেঙে ফেলা যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি ব্যয় সাপেক্ষ। কাজেই ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থে এবং ঝুঁকি এড়াতে মালিকদের সচেতন হওয়া দরকার। যথাযথ বিল্ডি কোড মেনে এবং সব ধরনের ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে ভবন নির্মাণ করা উচিত। পর পর যেসব ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং মানুষের মৃত্যু হয়েছে এ ঘটনাগুলো থেকে তাদের শিক্ষা নেয়া উচিত। কিছু লোকের অসাধুতার কারণে নিয়ম বহির্ভূত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মিত হবে ও মানুষের প্রাণহানি ঘটবে তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। এ ক্ষেত্রে সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিল্ডিং কোড মেনে যথাযথভাবে ভবন নির্মিত হয়েছে বা হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত খতিয়ে দেখতে হবে। এক সময় গার্মেন্টস কারখানাগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এ নিয়ে বিদেশি বিভিন্ন বায়ার প্রতিষ্ঠান জোরালো আপত্তি তোলে। গার্মেন্ট কারখানার সার্বিক পরিবেশ এবং ঝুঁকিপূর্ণ করার জন্য তারা তাগিদ দেয়। সরকারও তা বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়। অনেক গার্মেন্ট কারখানা এখন ঝুঁকিমুক্ত। নতুন হাইরাইজ বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রেও এ ধরনের ঝুঁকিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য অনুরূপ পদক্ষেপ প্রয়োজন। দেখা যায়, বেশির ভাগ ভবনের অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয় বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না। ভবনে বিদ্যুৎ সংযোগ ও সঞ্চালনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ত্রুটি রয়েছে। এ বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। ভবন মালিকদেরও এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। ভবন নির্মাণের সময় যেসব প্রতিষ্ঠান জড়িত তাদের সমন্বিত কার্যব্যবস্থার বিকল্প নেই। এ সংগে নির্মিত ও নির্মাণাধীন ভবনগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
এম. এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x