অগ্নিকাণ্ড থেকে রক্ষা পেতে সতর্কতা অবলম্বন জরুরি

রবিবার , ২ ডিসেম্বর, ২০১৮ at ৪:১২ পূর্বাহ্ণ
23

নগরীর চাক্তাই এলাকায় একটি জাল তৈরির সুতার গুদামে অগ্নিকাণ্ডে লাখ লাখ টাকার সুতা পুড়ে গেছে। আগুন থেকে রক্ষা পায়নি পাশের পূরবী সিনেমা হলও। তবে হলটি বন্ধ থাকায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। শুক্রবার বিকাল সোয়া ৪ টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন চাক্তাই চামড়া গুদামের আশরাফ আলী রোড সংলগ্ন গুদাম এবং পূরবী সিনেমা হলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আমরা জানি, মানব ইতিহাসে সবচাইতে বড় আবিষ্কার হচ্ছে আগুনের আবিষ্কার। পুরনো পাথরের যুগে মানুষ আবিষ্কার করেছে আগুন। সে যুগে জীবজগতের কাছে আগুনের চেহারাটি ছিল খুবই ভয়ের। আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ থেকে গলগলিয়ে বেরিয়ে আসছে আগুনের স্রোত। আকাশ থেকে প্রচণ্ড শব্দের বজ্রপাত গাছগাছালিকে পুড়িয়ে দিচ্ছে। দাবানলে বনবনানি জ্বলছে। মাটি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে জ্বলন্ত গ্যাসের আগুনের ফোয়ারা। আর এভাবেই আগুন তার হিংস্র আর ভয়ঙ্কর চেহারা নিয়ে মানুষকে দেখা দিত। আদিম মানুষ বুঝতে পারল যে, আগুন শুধুমাত্র অপকারই করে না উপকারও করতে পারে। প্রথমে আদিম মানুষ আগুন তৈরি করতে জানত না। বাইরে থেকে আগুন সংগ্রহ করে গুহার মাঝে এনে রাখতো। আগুনকে নিভতে দিত না। শেষে হিমযুগের সময় মানুষ আগুন তৈরি করতে শিখল। সূর্যের আলো ঢুকতে পারত না বলে গুহার ভেতরটায় ছিল অন্ধকার। দুটো চকমকি পাথরে ঠোকাঠুকি করে আগুন পেল মানুষ। পাথরের ঘর্ষণে আগুনের সৃষ্টি হয়। আদিম মানুষ বুঝতে পারল আগুনের উপকারিতা। তারা প্রাকৃতিকভাবে জ্বলে ওঠা আগুন কাঠের মাথায় ধরিয়ে তাদের ডেরায় জ্বালিয়ে রাখতে শুরু করল। আগুন যাতে সহজে নিভে না যায় তার ব্যবস্থা করল। শুকনো কাঠ এনে আগুন ধরিয়ে রাখতে লাগল। এভাবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মানুষ আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে। এতে মানুষ আগুন আবিষ্কার করল। এর ফলে মানুষের জীবনধারা বদলে যেতে লাগল। কিন্তু সেই আগুন আবার ভয়ংকর হয়ে দেখা দেয়।
যতক্ষণ পর্যন্ত আগুন আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত তা আমাদের বন্ধু। আবার একটু অবহেলার কারণে তা আবার শত্রু হতে বিন্দুমাত্র দেরি করে না। সতর্কতার অভাবে মুহূর্তেই অগ্নিকাণ্ড ভস্মীভূত করতে পারে প্রিয় সাজানো সংসার, বসতবাড়ি, অফিস কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে।
এ অবস্থায় তিনটি প্রধান বিষয় মাথায় রাখতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সেগুলো হলো : অগ্নিকান্ডের কারণ, এ থেকে সতর্ক থাকার নিয়ম কানুন আর অগ্নিকাণ্ডের পর করণীয়।
আমাদের দেশে সাধারণত দেখা যায়, গ্রীষ্মকালেই আগুন লাগার খবর বেশি পাওয়া যায়, তবে যে কোনো সময়েই ঘটতে পারে। অগ্নিকান্ডের কোনো সময়কাল বা স্থান নেই। এর কারণ কী? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ও শুষ্ক থাকে। তাই কোনো কিছু আগুনের সংস্পর্শে আসা মাত্রই আগুন লেগে যায়। বাতাসের বেগও এ সময় বেশি থাকে। এতে আগুন এক স্থান থেকে উড়ে অন্য স্থানে সহজেই গিয়ে লাগতে পারে। এ ছাড়া গ্রীষ্মকালে বৈদ্যুতিক তার ঢিলেঢালা হয়ে অন্য তারের সংস্পর্শে এলেও আগুন লেগে যেতে পারে। প্রচণ্ড বাতাসে আগুন সহজেই দ্রুত অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। তাই এ সময় আগুনের ব্যাপারে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। আমরা যদি অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণগুলো খুঁজি তাহলে বেশ কয়েকটি দিক দেখতে পাই। তার মধ্যে আছে : ভালোভাবে গ্যাসের চুলা বন্ধ না করা এবং গ্যাসের লাইন ত্রুটিপূর্ণ বা ছিদ্র থাকা, চুলা জ্বালিয়ে চুলার ওপর কাপড় শুকাতে দেওয়া, সিগারেটের জ্বলন্ত আগুন, উত্তপ্ত ছাই, বৈদ্যুতিক গোলযোগ ও ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার, আতশবাজি বা পটকা থেকে, বজ্রপাত, সাধারণ বিদ্যুতের তার দিয়ে বেশি ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবহার, নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার, বাচ্চাদের আগুন নিয়ে খেলা করা ইত্যাদি।
চাক্তাইয়ে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলো, তার পুনরাবৃত্তি চাই না। সেজন্য সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। আগুনকে বলা হয়ে থাকে সর্বভুক। সামনে থাকা কোনো কিছুই বাদ যায় না এর কবল থেকে। তাই আগুন থেকে সকলকেই সাবধান থাকতে হবে। একটু অসতর্কতার কারণে সারা জীবনের অর্থ সম্পদ সবই শেষ হয়ে যেতে পারে। এমন কি নিজের জীবনও। মনে রাখতে হবে -অগ্নিকাণ্ড একটি সর্বনাশা দুর্যোগ।

x